শেয়ার বাজার

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের ঘরবাড়িতে হামলা, লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের ঘরবাড়িতে হামলা, লুট

পাবনায় নির্বাচনী পূর্বশত্রুতা ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। 

শুক্রবার (২২ মে) রাতে জেলার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের পাথাইল হাট এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। জামায়াত সমর্থকদের চালানো এই হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই পাথাইল হাট এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। গত মার্চ মাসে বিএনপি সমর্থকদের দোকান ভাঙচুরের একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে জামায়াত সমর্থকরা আবারও হুমকি দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে প্যান্ডেল সাজানো নিয়ে দুই পক্ষ দ্বন্দ্বের জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে সন্ধ্যায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংগঠিত হয়ে জামায়াত সমর্থকরা বিএনপি কর্মীদের মারধর করে এবং বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা হযরত আলীর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় গ্রামের নারীদের শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই বিএনপি সমর্থিত ভুক্তভোগীরা ২০ জনের নাম উল্লেখ করে সাঁথিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হযরত মাস্টারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক সহযোগিতার দাবিতে পাথাইল এলাকার আঞ্চলিক মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে হামলার ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন পাথাইল গ্রামের বিএনপির সমর্থকেরা। হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ে আলোচনা: পাইলটসহ ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ে আলোচনা: পাইলটসহ ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা মতামত দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক এক নম্বর সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট-এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।


দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা ছাত্ররাজনীতির সময় থেকেই সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং কর্মীবান্ধব ভূমিকার জন্য পরিচিত। আন্দোলন-সংগ্রামের নানা সময়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সংগঠনের প্রতি অবিচল অবস্থান তাকে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা জরুরি। তাদের মতে, যুবদলের বর্তমান আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার মধ্য দিয়েই এজমল হোসেন পাইলটসহ অন্যান্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।


তারা আরও মনে করেন, নতুন করে পৃথক কমিটি গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান কমিটিকে ঢেলে সাজানো হলে সংগঠন আরও সুসংগঠিত হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে গতিশীলতা বাড়বে। এতে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সাংগঠনিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হবে।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজপথের শক্তি বৃদ্ধির জন্য সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবেলা করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হলে মাঠপর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।


এদিকে দলের অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তৃণমূল পর্যায়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিদ্যমান কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করার মধ্য দিয়েই ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।


সব মিলিয়ে, যুবদলের কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে চলমান আলোচনায় এজমল হোসেন পাইলট-এর নাম যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও ঐক্যভিত্তিক সমাধানের প্রত্যাশাও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।


বৈরাগের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ইকবাল হায়দার চৌধুরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বৈরাগের মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ইকবাল হায়দার চৌধুরীর

আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হায়দার চৌধুরী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বৈরাগের মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে চান।

এক বার্তায় বৈরাগবাসীর উদ্দেশে ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। আপনাদের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আপনাদের ভালোবাসা ও দোয়া আমাকে সবসময় মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের মতো আগামী দিনগুলোতেও আপনাদের পাশে থাকতে চাই। বৈরাগের মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বদা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব—ইনশাআল্লাহ।’

ইকবাল হায়দার চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতাই আমার পথ চলার শক্তি। বৈরাগই আমার পরিবার।’

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ইকবাল হায়দার চৌধুরী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচিতিতে দলীয় দুঃসময়ে রাজপথে অবস্থান, গ্রেপ্তার, কারাবরণ এবং একাধিক মামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র ও তার রাজনৈতিক বক্তব্যে তাকে দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও তাকে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

বৈরাগবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় ইকবাল হায়দার চৌধুরী বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এলাকার মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চান। বৈরাগের উন্নয়ন, মানুষের অধিকার এবং কল্যাণকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের পথচলা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।


জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে: এসপি মাসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে: এসপি মাসুদ

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে আসলে সন্ত্রাসী যেই হোক, ইয়াসিন, রোকন বা অন্য কেউ—আমরা সবাইকেই শনাক্ত করার চেষ্টা করবো। কারা এর পেছনে আছে, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার পর, পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। পরদিন সোমবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এসপি মাসুদ বলেন, এখানে বড় ধরনের আর্থিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। কোটি কোটি টাকার বিষয় এখানে। যাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেই সাম্রাজ্য হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। হাতছাড়া হওয়ার আগেই তারা কিছুটা ঝাঁকুনি দিচ্ছে, এটাই স্বাভাবিক।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং সামনে আরও শক্তভাবে অবস্থান নেবে। আমাদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, এই জনপদে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসা, এখানে দেশের ভেতরে দেশ, রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র না বানাতে দেওয়া। এর জন্য যা যা করণীয় আমরা করবো।