রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত ৭ বছরের শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ৯টায় মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীকালে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগাকে গ্রেপ্তার করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযান চালিয়েছে নগর পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নগর ভবনের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত বগাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় নগর ভবনের সামনে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নগরের টাইগারপাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন— এমন গোপন তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য রাতে চসিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় খুলশী থানা-পুলিশ। তবে পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেনি। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সোহেল পারভেজ, খুলশী জোনের সহকারী কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগর ভবনের সামনে বগার অনুসারী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত বগাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রাত ১০টার দিকে পুলিশ সদস্যরা নগর ভবনের সামনে থেকে চলে যান।
অভিযানের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ ও উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তাদের ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কে এই বগা?
ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে খুলশীর ওয়্যারলেস এলাকায় বগাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় বগা বাসার একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ দিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সম্প্রতি, খুলশীতে কিশোর হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘সেভেন স্টার’ নামের একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনায় বগা ও তার ভাইয়ের সম্পৃক্ততার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ৪ অক্টোবর বগার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করেছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করবেন বলে শুক্রবার রাতে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান।
এ মামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম।
শুক্রবার সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলাটি এখন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ তদন্ত করবেন। আজকালের মধ্যে মামলার যাবতীয় নথি হস্তান্তর করা হবে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া রাজিব আহমেদ বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্ত কাজ শুরু হবে।
“আশা করি, তদন্তের পর দ্রুততম সময়ে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।”
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিম। সে কোটবাড়ী এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।
১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধারের পরের দিন পুলিশ দাবি করে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যা মামলায় বাদী হয়েছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি দুজনকে পাঠানো হয়েছে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা। এই তেল কিনতে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর টিসিবির জন্য এই প্রথম সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হলো। প্রতি লিটার সয়বিন তেল কেনা হবে ১৫৭ টাকা ৯০ পয়সা করে। আওয়ামী লীগ সরকার সর্বশেষ যে দামে সয়াবিন তেল কিনেছিল এবার তার থেকে লিটারে প্রায় সাড়ে ৭ টাকা বেশি পড়ছে।
রোববার (২০ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি বৈঠকে এই সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে এই তেল কিনতে মোট খরচ হবে ৮৬ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫৭ টাকা ৯০ পয়সা।
এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সর্বশেষ সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয় গত ২৯ জুন। ওইদিন অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেয়।
প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয় ১৫০ টাকা ৪৮ পয়সা। এতে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে মোট ৩৩১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সয়াবিন তেলও সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড থেকে কেনার সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকার সর্বশেষ যে দামে সয়াবিন তেল কিনেছে তার তুলনায় এবার প্রতি লিটারে ৭ টাকা ৪২ পয়সা বেশি পড়ছে।
সয়াবিন তেল কিনতে ব্যয় বেশি হলেও সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় বেশ কম দামে মসুর ডাল কিনছে সরকার। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি বৈঠকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এই মসুর ডাল কিনতে মোট খরচ ধরা হয় ৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আর প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ধরা হয় ৯৬ টাকা ৩৯ পয়সা।
এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সর্বশেষ মসুর ডাল কেনা হয় ১০২ টাকা ২০ পয়সা কেজি দরে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকার সর্বশেষ যে দামে মসুর ডাল কিনে তার তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের মসুর ডাল কিনতে কেজিতে ৫ টাকা ৮১ পয়সা কম পড়েছে।
