শেয়ার বাজার

শিশু রামিসা হত্যা: রাজধানীতে গুলশান সোসাইটির মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

শিশু রামিসা হত্যা: রাজধানীতে গুলশান সোসাইটির মানববন্ধন

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন গুলশান সোসাইটির সদস্যরা।

আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর গুলশান দুই নম্বর গোলচত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এমন হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ধরনের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। এর পেছনে বিচারের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করেন তারা। আর এজন্যই শিশু রামিসার ওপর বর্বর নির্যাতন ও হত্যাকারীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত ও কার্যকরের দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরে উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে বাজুস জেলা শাখার নির্বাচন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে বাজুস জেলা শাখার নির্বাচন

লক্ষ্মীপুর: বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার নির্বাচন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে বিকেলে ৪ টা পর্যন্ত চলবে। শহরের চাইনি রেষ্টুরেন্টে এই কার্যক্রম চলছে।


 নির্বাচনে মোট ২৫ পদের মধ্যে ১৭ পদে প্রতিদ্বন্দীতা চলছে। সভাপতি পদে ২ জন, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারী পদে ২ জন এবং সদস্য পদে ১৭ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১ জন, জয়েন্ট সেক্রেটারী পদে ১ জন এবং সদস্য পদে ১৫ নির্বাচিত হবেন। বাকী পদের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছে। মোট ১৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা রয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক, সদস্য হিসেবে জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক ওমর ফারুক, জ্যোতিময় মজুমদার দায়িত্ব পালন করছেন।


সভাপতি পদে সমীর কর্মকার ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের জানান, অত্যান্ত উৎসব মুখর পরিবেশে এই নির্বাচনের ভোট গ্রহন চলছে। তিনি বলেন ভোট দিতে ভোটাররা কেন্দ্র আসছে। সকল মানুষের আনন্দ ও উদ্দিপনা কাজ করছে। 


 নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক জানান, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ন ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সকলের সহযোগীতা আমরা এই নির্বাচন শেষ করতে পারবো। তিনি প্রার্থী,ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা চেয়েছেন।


ভায়রা ভাইকে হত্যা
স্ত্রীর পরকীয়ায় সহযোগিতা করায় ভায়রা ভাইকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

স্ত্রীর পরকীয়ায় সহযোগিতা করায় ভায়রা ভাইকে হত্যা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্ত্রীকে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করায় ভায়রা সাদ্দাম হোসেনকে (২৬) হত্যা করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেফতারের পর সোমবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সামিউল আলমের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানান ভায়রা বাবুল (৪০)। বাবুল নেত্রকোনা জেলার খায়ের বাংলা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আশরাফপুর বিল থেকে সাদ্দামের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের বিদ্যাকুট গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারী হিসেবে নিহত সাদ্দামের ভায়রা বাবুলকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বাবুল।

বাবুল জবানবন্দিতে জানান, গত প্রায় ১০ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কৃষ্ণনগরের শায়েস্তা আরাকে বিয়ে করেন বাবুল। তাদের সংসারে ৭ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। নরসিংদীতে কাজের সুবাদে বসবাস করা কাদির নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা পালিয়ে নবীনগর এসে পড়েন। বিয়ে না করেও তারা সংসার করেন। এতে শায়েস্তারা গর্ভবতীও হন। আর এসবে সহায়তা করে আসছিলেন শায়েস্তা আরার বোনের স্বামী সাদ্দাম। সাদ্দাম সব কিছু জেনেও ভায়রা বাবুলকে কোনো প্রকার সহায়তা করেননি। এই ক্ষোভে গত শুক্রবার সাদ্দামকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে বাবুল পালিয়ে যান।

এই ঘটনায় নিহত সাদ্দামের ভাই অজ্ঞাত আসামি করে নবীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তদন্তে বাবুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


বিএনপি নেতাদের হাতে ৪ হাজার ভিজিএফ কার্ড তুলে দিলেন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

বিএনপি নেতাদের হাতে ৪ হাজার ভিজিএফ কার্ড তুলে দিলেন চেয়ারম্যান

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফের প্রায় অর্ধেক কার্ড দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ এসব কার্ড বিএনপি নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নের হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য এবার ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে সুবিধাভোগীরা ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সে হিসাবে ইউনিয়নের জন্য মোট ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ হাজার ২৪টি কার্ড সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুত করে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করার কথা। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতি ছাড়াই প্রকাশ্যে বিপুল পরিমাণ কার্ড দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিজিএফের চাল গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়। চেয়ারম্যান যদি অর্ধেক কার্ডই দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেন, তাহলে সাধারণ গরিব মানুষ চাল পাবে কীভাবে? এসব কার্ড এখন নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের লোকদের মধ্যে বণ্টন হবে, আর প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত থাকবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের বরাদ্দকৃত কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।’

তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স দাবি করেন, দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফ কার্ড যেন প্রকৃত গরিব ও অসহায় ব্যক্তিরা পান, সে বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে মাত্র।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে পাইকারি হারে কার্ড হস্তান্তরের বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি ত্রাণ বা ভিজিএফ কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের আইনি সুযোগ নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’