শেয়ার বাজার

ঢাকায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

সেনাবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ ও লেফটেন্যান্ট (অব.) গুলশান আরা।

সন্ত্রাসবিরোধী  ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার  (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

একটি সূত্র জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজু গ্রেপ্তার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজু গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমিন হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।

তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কুমিল্লাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যাওয়ার পর মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। পরে রাজু বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠালে তাজমিন কক্সবাজারে যায়।

কক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। পরদিন বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।

রাজুর এক সহকর্মীর বরাতে জানা যায়, কুমিল্লায় ফেরার পর অটোরিকশায় ওঠার সময়ও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমন মিয়া নামের এক চালকের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে সে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাজমিনকে বাসায় না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে পরে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মামলার আসামি চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।


নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৩১ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৩১ জনের কারাদণ্ড

বার্তাবেলা: নাশকতার মামলায় জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবসহ ৩১ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পৃথক দুটি আদালত এসব রায় ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার মামলায় মাসুদ-মজনুসহ ১০ জনের কারাদণ্ড

১০ বছর আগের পল্টন থানার নাশকতার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনুসহ ১০ জনকে দুই বছর ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও মজনু ছাড়াও মামলার সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদল নেতা খন্দকার এনামুল হক এনাম, মো. এরশাদুল, জোনাইদ, আব্দুল কাদের খন্দকার, মো. দুলাল হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির রওশন ও মিজানুর রহমান টিপু।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর ৪৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করেন

নীরবসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর তিন বছরের কারাদণ্ড

অপরদিকে ১০ বছর আগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা নাশকতা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা সিটির সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে পৃথক দুই ধারায় তিন বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।

এ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, লুৎফর রহমান, শাহীন ওরফে গান্ডু শাহীন, তরিকুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, আমিনুল ইসলাম জাকির, গোলাম কিবরিয়া শিমুল, বিল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব ও আনোয়ার রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পলাতক ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাবুল নামে এক ট্যাক্সিচালক ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালী থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার গাড়ি থামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন।

এ ঘটনায় ট্যাক্সিচালক বাবুল তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গুলশান থানার মামলায় বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড

এদিকে পাঁচবছর আগে গুলশান থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে পৃথক তিন ধারায় সাড়ে চার বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় ৬ মাস, ১৪৭ ও ৪২৭ ধারায় দুই বছর করে চার বছরের সাজা দেন বিচারক। সব ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে আসামিদের দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন মো. মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম ওরফে অসীম আকরাম, নুরুল ওরফে নূর হোসেন, মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রান্ত, জয়নাল, মীর মোহাম্মদ স্বপন। তারা সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে অসীম ওরফে অসীম আকরাম ও মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকার গুলশান এলাকায় বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হন। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে মামলায় অভিযোগ করে পুলিশ। ঘটনার দিন ২৩ অক্টোবর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ।


কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে থাকেন স্কুলছাত্রী তাজমিন, কুমিল্লায় ফিরে সুমনের হাতে খুন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে থাকেন স্কুলছাত্রী তাজমিন, কুমিল্লায় ফিরে সুমনের হাতে খুন

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পর তার শেষ যাত্রাপথ এবং কক্সবাজার অবস্থান ঘিরে একের পর এক নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্ত ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে ‘রাজুর স্ত্রী তানজু আক্তার’ পরিচয় দিয়ে ওঠেন তাজমিন। হোটেল রেজিস্ট্রারে তার ভুয়া নামের পাশাপাশি বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর। কক্সবাজারে এক রাত অবস্থান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন। সেখানে রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে। হোটেলের এক কর্মী জানান, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মোবাইল নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কক্ষ ছেড়ে দেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা ও রিলস আদান-প্রদানের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। রাজুর এক সহকর্মী জানান, ১৭ দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল; যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, পরিচয়ের মেয়াদ প্রায় পাঁচ মাস। রাজু বিগত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর রাজু তার জন্য ৯০০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে বাসে তুলে দিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের খবর জানার পর রাজু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন এবং বর্তমানে হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অবস্থান করছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তাজমিনের নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তাজমিন। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান।

কক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’-এর টিকিট সংগ্রহ করেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে রাজুর সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল এবং চালকের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমন মিয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাজমিনকে হত্যা করা হয়। পরদিন (৮ অক্টোবর) সকালে সেখানকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক উদ্বেগের বিষয়ে মা কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হলেও তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে কেবল এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেন। তিনি মেয়েকে আনতে চাইলেও কার কাছে আছেন তা স্পষ্ট করেননি। অন্যদিকে তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল এবং রাগারাগি হলে প্রায়ই বাসা থেকে একা বেরিয়ে যেত। তবে মা অসুস্থ থাকলে যমজ দুই ছোট ভাইয়ের যত্ন নিত সে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণাদি নিয়ে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকাজ সম্পন্ন হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।