শেয়ার বাজার

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজু গ্রেপ্তার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: কথিত প্রেমিক রাজু গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমিন হত্যা মামলায় তার কথিত প্রেমিক রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজুর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে।

তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে কুমিল্লাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যাওয়ার পর মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। পরে রাজু বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠালে তাজমিন কক্সবাজারে যায়।

কক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। পরদিন বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।

রাজুর এক সহকর্মীর বরাতে জানা যায়, কুমিল্লায় ফেরার পর অটোরিকশায় ওঠার সময়ও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমন মিয়া নামের এক চালকের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে সে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাজমিনকে বাসায় না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনকে পরে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মামলার আসামি চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে নয়: হাইকোর্ট

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আদালতের নির্দেশ ছাড়া একাধিক মামলার সাজা একসঙ্গে নয়: হাইকোর্ট

কোনো ব্যক্তি একাধিক ফৌজদারি মামলায় পৃথকভাবে দণ্ডিত হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া সেসব সাজা একই সময়ে ভোগ করার সুযোগ নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, পৃথক মামলায় দণ্ড দেওয়ার সময় সাজা একই সঙ্গে চলবে—এমন স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে একটি মামলার সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মামলার সাজা কার্যকর হবে।

চেক ডিজঅনারের পৃথক ছয়টি মামলায় দণ্ডিত এক ব্যক্তিকে কারাগারে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

‘মো. নাসির উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় দেওয়া এ রায়ে রিটকারীকে দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী।

মামলার পটভূমি


রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় করা চেক ডিজঅনারের ছয়টি পৃথক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে কারাগার থেকে মুক্তি না দিয়ে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন নাসির উদ্দিন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পাশাপাশি তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।

রুলের শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবী মো. শাহ আলম দাবি করেন, মামলাগুলোর বিচার চলাকালে নাসির উদ্দিন কারাগারে ছিলেন। ওই সময়কে তার সাজা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় কারাভোগের সময় সাজা থেকে সমন্বয় করলে তার সাজা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাই তাকে কারামুক্ত করা উচিত।

অন্যদিকে বিবাদীদের আইনজীবী সামীর সাত্তার দাবি করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য মামলায়ও দণ্ডিত হলে এবং আদালত রায়ে সাজা একই সঙ্গে চলবে—এমন স্পষ্ট নির্দেশ না দিলে একটি সাজা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী সাজা কার্যকর হবে। নাসির উদ্দিনের মামলাগুলোতে বিচারিক আদালত সাজা একসঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সার্কুলার অনুযায়ী, বিচার চলাকালে যে মামলায় আসামি হেফাজতে ছিলেন, কেবল সেই মামলার সাজা থেকে ওই সময় বাদ যাবে। এক মামলায় কারাভোগের সময় অন্য মামলার সাজা ভোগের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে না।

পক্ষগুলোর বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট রুল খারিজ করে রায় দেন।

রায়ে আদালত বলেন, রিটকারী নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারার বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। বিচার বা অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ারগত ত্রুটিও প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে ওই ধারার অধীনে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রমে রিটের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ বা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই।

রিটকারীকে রায় ও আদেশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে নিম্ন আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করতে পারবেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

ছয় মামলার কারাভোগের হিসাব করতে হবে


রিটকারীর আইনজীবীকে ছয়টি মামলার বিচার চলাকালে নাসির উদ্দিনের কারাভোগের সময়ের হিসাব করে একটি ‘ক্যালকুলেশন শিট’ প্রস্তুতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের নথি যাচাইয়ের পর হিসাবটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচারাধীন অবস্থায় আটক থাকার সময় হিসাব করে সংশ্লিষ্ট মামলার সাজা থেকে তা বাদ দেবে। তবে এক মামলায় আটক থাকার সময় অন্য মামলার সাজা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ


রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী বিচার চলাকালে আসামি যে নির্দিষ্ট মামলায় কারাভোগ করেছেন, কেবল সেই মামলার মোট সাজা থেকে ওই সময় বাদ দেওয়া যাবে।

অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৯৭ ধারা অনুযায়ী, পৃথক মামলায় বিচারিক আদালত সাজা একই সঙ্গে চলার কোনো নির্দেশ না দিলে প্রতিটি মামলার সাজা ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে।

হাইকোর্ট আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ না করা পর্যন্ত রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করে বিচারিক আদালতের দেওয়া ফৌজদারি রায়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগও নেই।


কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে থাকেন স্কুলছাত্রী তাজমিন, কুমিল্লায় ফিরে সুমনের হাতে খুন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে থাকেন স্কুলছাত্রী তাজমিন, কুমিল্লায় ফিরে সুমনের হাতে খুন

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পর তার শেষ যাত্রাপথ এবং কক্সবাজার অবস্থান ঘিরে একের পর এক নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্ত ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে ‘রাজুর স্ত্রী তানজু আক্তার’ পরিচয় দিয়ে ওঠেন তাজমিন। হোটেল রেজিস্ট্রারে তার ভুয়া নামের পাশাপাশি বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর। কক্সবাজারে এক রাত অবস্থান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন। সেখানে রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে। হোটেলের এক কর্মী জানান, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মোবাইল নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে কক্ষ ছেড়ে দেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা ও রিলস আদান-প্রদানের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। রাজুর এক সহকর্মী জানান, ১৭ দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল; যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, পরিচয়ের মেয়াদ প্রায় পাঁচ মাস। রাজু বিগত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর রাজু তার জন্য ৯০০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে বাসে তুলে দিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের খবর জানার পর রাজু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন এবং বর্তমানে হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অবস্থান করছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তাজমিনের নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তাজমিন। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান।

কক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’-এর টিকিট সংগ্রহ করেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে রাজুর সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল এবং চালকের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমন মিয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাজমিনকে হত্যা করা হয়। পরদিন (৮ অক্টোবর) সকালে সেখানকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক উদ্বেগের বিষয়ে মা কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা হলেও তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে কেবল এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেন। তিনি মেয়েকে আনতে চাইলেও কার কাছে আছেন তা স্পষ্ট করেননি। অন্যদিকে তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল এবং রাগারাগি হলে প্রায়ই বাসা থেকে একা বেরিয়ে যেত। তবে মা অসুস্থ থাকলে যমজ দুই ছোট ভাইয়ের যত্ন নিত সে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণাদি নিয়ে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকাজ সম্পন্ন হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।


প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’র পলায়ন, ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
আদালতে হাজিরা দিয়ে গাজীপুরের কারাগারে আনার পথে শৌচাগারের কথা বলে ২৫ মামলার আসামি পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত গঠন করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছলে প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন। পরে তাকে নিয়ে শৌচাগারে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কৌশলে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যান চালকসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ৫ কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়াও গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

এদিকে এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ডিসি হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে ওই তদন্ত কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কমিশনার।

প্রসঙ্গত, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য রোববার সকালে পিচ্চি রাজাকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে ফের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে পিচ্চি রাজা প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে। পরে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় পিচ্চি রাজা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৯ মে মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিচ্চি রাজা, তার স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফেরার খবরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

সূত্রটি আরও জানায়, পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে।