শেয়ার বাজার

জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের: ‘অবাক’ জেলেনস্কি, ‘নিশ্চুপ’ রাশিয়া

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের: ‘অবাক’ জেলেনস্কি, ‘নিশ্চুপ’ রাশিয়া

রাশিয়া এবং ইউক্রেন ভবিষ্যতে আর কখনও পরস্পরের জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে হামলা করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দু’পক্ষ ইতোমধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতির’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গত কাল ১১ অক্টোবর রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে এবং আমি দু’পক্ষকে আহ্বান জানাব— এই চুক্তি যেন না ভাঙে হয়।”

রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি; তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে এখনও তেমন কিছু জানেন না এবং অপেক্ষায় আছেন যে কখন ওয়াশিংটন এ ‘চুক্তি’র ব্যাপারে তাকে বিস্তারিত জানাবে।

সামাজিক যোগেযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, “আমি ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ক্র্যানি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে কথা বলেছি। বিস্তারিত এখনও কিছু জানতে পারিনি। ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির সমর্থক এবং রাশিয়ারও তা সমর্থন করা জরুরি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় আছি।”

রোববারের এক্সবার্তায় জেলেনস্কিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “ইউক্রেনের অবশ্যই রাশিয়ার তেল শোধানাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করা উচিত।”

পাশপাশি তিনি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন করার আহ্বানও জানিয়েছেন ইউক্রেনীয়দের। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “মস্কোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ জেলেনস্কি হাতছাড়া করেছেন।”

সম্পর্কের নাটকীয় অবনতির প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প শনিবার জেলেনস্কিকে সতর্ক করে বলেন যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানো তার "অবশ্যই বন্ধ করা উচিত"; পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনীয়দের আহ্বান জানান যেন তারা নতুন নির্বাচনে তাদের নেতাকে পরিবর্তন করে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, মস্কোর সাথে সমঝোতায় পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ জেলেনস্কি হাতছাড়া করেছেন।

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী দলের নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে অবস্থান কর্মসূচি থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ রাহুল গান্ধীসহ অন্য নেতাদের আটক করে বাসে তুলে নেয়। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, তাদের উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেওয়া হচ্ছিল।

এর আগে সকালে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ‘নির্বাচন সদন’-এর উদ্দেশে মিছিল বের করেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া ওই মিছিলে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার ছিল। তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর পর রাহুল গান্ধী ও অন্য নেতারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ‘অনিয়ম’ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় তাদের অবস্থানস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে হলেও সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তার দাবি, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান।

রাহুল বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’

মঙ্গলবার দুপুরেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ কিছু সময়ের জন্য একটি বাসে উঠিয়েছিল। পরে তারা বাস থেকে নেমে আসেন। সন্ধ্যায় আবার তাদের আটক করা হয়।

কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা এক-দুই দিনের মধ্যে সাক্ষাতের আশ্বাস দিলে রাহুল অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারেন- এমন কথাও দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে তার শর্ত, ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে একসঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।

ইন্ডিয়া জোটের মিছিল


মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। তবে জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (এএপি) মিছিলে অংশ নেয়নি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কংগ্রেস জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল মিছিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।

২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ পর্যায়ে জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।

এ ছাড়া ২৫ ও ২৬ নভেম্বর দিল্লির আশপাশের ছয়টি এলাকা থেকে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় আলাদা মিছিল বের করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিছিলগুলো ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে দিল্লিতে এসে মিলিত হবে।

কংগ্রেসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিষয়গুলো তোলা হবে। সিইসির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার কথাও জানিয়েছে দলটি।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে আদালত রাজি হয়নি। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সব সময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে- এমন পর্যবেক্ষণও আদালত দিয়েছেন। মামলাটির শুনানি অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদায়ী ভাষণ দেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে তার।

বিদায়ী ভাষণে এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস। তার বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ এআই খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গুতেরেস বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর উচিত নিরাপত্তা ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা। এআইয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জোরদারে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন গুতেরেস। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগে ৩৯ সদস্যের একটি এআইবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ যুক্ত ছিলেন। একই বছর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে। সে সময় চীন প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে দমন করার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছিল।

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের এক দশকের মেয়াদে যেসব বিষয়ে জোর দিয়ে এসেছেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন গুতেরেস। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংকটে দূষণকারীদের দায় ও ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় জাতিসংঘের ভেতরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকটের কথাও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তার ভাষ্য, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের ক্ষমতার কাঠামো ও স্বার্থের বাস্তবতাকে ধারণ করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেননি।

গুতেরেসের প্রায় এক দশকের নেতৃত্বে জাতিসংঘকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই সময়ে বিভিন্ন পরাশক্তির জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত তহবিল কমানোর মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

এর মধ্যে রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলতি সপ্তাহের বৈঠকে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন নতুন এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। দুই দেশের কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি ওই প্রস্তাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এআই-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদায়ী ভাষণের শেষ পর্যায়ে গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গুতেরেস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না।


শুরু হচ্ছে আজ পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা, মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

শুরু হচ্ছে আজ পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা, মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ সোমবার (২৫ মে)। সেই লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। গতকাল রোববার এশার নামাজের পরই হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন।

শরীয়তের বিধান অনুসারে, হাজীরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি।

খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজীরা। শরিয়তের বিধানানুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ।

৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন হাজীরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজীরা এবং শুধু বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন ও মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোটো করবেন।

১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজীরা।

চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন।

এদিকে হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ গত বছরের তুলনায় হতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে।