শেয়ার বাজার

কঠিন হবে ২০০ রানের লক্ষ্যও, মনে করে দুই দলই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

কঠিন হবে ২০০ রানের লক্ষ্যও, মনে করে দুই দলই

ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে প্রায় ৪৯ ঘণ্টার বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে ঢাকা টেস্টের দেড় দিন। আজ ৯৮ ওভার খেলার কথা থাকলেও তৃতীয় দিনে মাঠে গড়িয়েছে মাত্র ৩২.৩ ওভার।

শুক্রবার দুপুর ১২ টায় খেলা শুরুর সময় বলে দেওয়া হলো, খেলা হবে বেলা বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। কিন্তু তা আর হয়নি। বেলা পৌনে তিনটায় আলোর স্বল্পতায় সেই যে খেলা বন্ধ হলো, আর শুরু করা গেলো না। মানে আজকের নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা খেলা হয়নি।

দেড় দিনের বেশি সময় বৃষ্টি আর আলোর স্বল্পতায় ধুয়েমুছে গেছে। বাকি আছে দুদিন। আকাশের মত উইকেটের অবস্থাও বিশেষ ভালো না। এ উইকেটে আসলে কত রানের লিড হতে পারে নিরাপদ? কিউইদের কত রানের চ্যালেঞ্জ দিলে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশের?

আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই বাংলাদেশ ভক্ত ও সমর্থক সবার মনে ঘুরে ফিরে এ প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে। শুক্রবার দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনেও উঠলো এ প্রশ্ন।

প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করা গ্লেন ফিলিপস আর বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসান দুজনের কাছেই রাখা হয়েছিল এ প্রশ্ন।

গ্লেন ফিলিপস মনে করেন, ১৮০ থেকে ২০০ রানের টার্গেট তাড়া করাই হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এ কিউই অলরাউন্ডারের কথা, ‘সামনের দুদিন যদি উইকেটের চরিত্র পাল্টে না যায়, এমনই থাকে; তাহলে ২০০ রান করাও বেশ কঠিন।’

বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসানের আশা, তারা ২০০ থেকে ২২০ রানে লিড নিতে পারবেন। নাইমের কথা, ‘আমরা এখন ৩০ রানে এগিয়ে আছি। আশা করি এ লিডটা দুশো পেরিয়ে যাবে। যদি দুশো রানের বেশি লিড নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে জিতবো ইনশাআল্লাহ।’

নিউজিল্যান্ড ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে খেলতে নেমে আজ বাকি ৫ উইকেটে আরও ১২৫ রান যোগ করেছে। বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন গ্লেন ফিলিপস। বাংলাদেশের তিন স্পিনার তাইজুল, নাঈম ও মিরাজকে হাত খুলে খেলে চাপের মুখেও রান করেছেন ফিলিপস। ৭২ বল খেলে ৯ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কা হাঁকিয়ে ৮৭ রান করেন এ ২৬ বছর বয়সী কিউই অলরাউন্ডার।

এখন দেখার বিষয়, ৩৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে কাল শনিবার চতুর্থ দিন শুরু করে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে থামে। বুক ভরা সাহস ও আস্থায় ফিলিপসের ভূমিকায় অবতীর্ন হন কে?

মাথায় বলের আঘাত লেগে হাসপাতালে মোস্তাফিজ, জানা গেল শারীরিক অবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

মাথায় বলের আঘাত লেগে হাসপাতালে মোস্তাফিজ, জানা গেল শারীরিক অবস্থা

বার্তাবেলা ডেস্ক: চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের সময় মাথায় একটি বলের আঘাত লেগে মারাত্মক আহত হয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের (Comilla Victorians) পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।  সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাটার মাস্টার। রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিটি স্ক্যানের পর কুমিল্লার ফিজিও এমএস জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মুস্তাফিজের অবস্থা অনেকটাই ভালো। বড় ধরনের ইনজুরির আশঙ্কা করা হলেও কেবল বাহ্যিকভাবেই আঘাত পেয়েছেন তিনি।

জাহিদুল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘অনুশীলনের সময় একটি বল মুস্তাফিজের মাথার পেছনের অংশে এসে লাগে। ফলে সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। রক্তপাত বন্ধ করতে দ্রুত ব্যান্ডেজ করা হয়। এরপর নেয়া হয় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে। সিটি স্ক্যান করার পর আমরা সন্তুষ্ট। তার অভ্যন্তরীণ কোনো ক্ষতি হয়নি, অভ্যন্তরীণ রক্তপাতও হচ্ছে না। তাকে এখন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

এবারের আসরে কুমিল্লার হয়ে ৯ ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। ২৩.৯১ গড়ে তিনি শিকার করেছেন ১১ উইকেট। ৯ ম্যাচে কুমিল্লার পয়েন্ট ১৪। ৭ ম্যাচে জয়ের বিপরীতে ২ ম্যাচে হেরেছে তারা।

বিপিএলে আজ কোনো খেলা নেই। তবে সিলেট স্ট্রাইকার্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে আজ (রোববার) সকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে আসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ক্রিকেটাররা। সেখানেই নেটে বল করছিলেন মোস্তাফিজ।

একটি ডেলিভারি দিয়ে মোস্তাফিজ ফিরে যাচ্ছিলেন নিজের বোলিং মার্কে, আরেকটি ডেভিলারি দেয়ার জন্য। এ সময় কুমিল্লার প্রধান কোচ সালাউদ্দিন ডাক দেন তাকে। কোচের ডাকে সাড়া দিতে মাথা ঘুরিয়ে হাঁটতে শুরু করলেই অন্য নেট থেকে আশা একটি শট পেছনে থেকে মোস্তাফিজের মাথায় আঘাত করে।

সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন জাতীয় দলের এই বাঁ-হাতি কাটার মাস্টার। মাথা ফেটে রক্তও বের হতে দেখা যায়। দ্রুত দলের চিকিৎসকরা এসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেন।


মুস্তাফিজের বাজে দিনে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

মুস্তাফিজের বাজে দিনে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেট স্লো। সেখানে বাংলাদেশের দেওয়া ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্যটা কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছিল। তবে কে জানতো মুস্তাফিজুর রহমান এমন বাজে দিন পার করবেন! তার ২ ওভারে ৪১ রান নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে নির্ধারিত ওভারের ৯ বল এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই তারা জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে।

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে এখনও পদক জেতার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ভারত-শ্রীলঙ্কা। ওই ম্যাচে বিজয়ীরা ফাইনালে এবং পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর সকালে ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্যে খেলবে লিটন দাসের দল। 

নাগোয়ার আশিন সিটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মলিন মুখ। লিটন-মুস্তাফিজদের জয় দেখতে এসেছিলেন তারা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাকিস্তানকে হারালে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠত। এতে অন্তত রৌপ্য পদক নিশ্চিত হতো তাদের। উল্টো পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে এখন ব্রোঞ্জের জন্য লড়তে হবে। 

টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ওভারে বাংলাদেশ ১১১ রান করেছিল। স্পিনিং উইকেটে বাংলাদেশ চার জন স্পিনার নিয়ে খেললেও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে ব্যবহারই করেননি অধিনায়ক লিটন। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরীক্ষিত বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি দুই ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন। তার দুই ওভারেই বাংলাদেশ মূলত ম্যাচ হেরেছে।

স্পিনিং উইকেটে বাংলাদেশ দুই প্রান্ত থেকেই স্পিনার দিয়ে বল শুরু করে। প্রথম ৩ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ২০ রান দেয়। এরপর মুস্তাফিজকে পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে আনেন অধিনায়ক লিটন। ওই ওভারেই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেন পাকিস্তানি ব্যাটার সাইম আইয়ুব। মুস্তাফিজের প্রথম দুই বলেই তিনি টানা দুই ছয় হাঁকান। ওভারের শেষ বলে অবশ্য মুস্তাফিজ স্লোয়ারে আইয়ুবকে বিদায় করেন। 

দলীয় ৫৩ রানে উসমান খান আউট হলে বাংলাদেশ আবার ম্যাচে ফেরে। রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী দুই প্রান্ত থেকে মোটামুটি রান নিয়ন্ত্রণে রাখছিলেন। দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন। ওই ওভারেই মূলত ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। তিনি সেই ওভারে ২৩ রান দেন। আব্দুল সামাদ তার দ্বিতীয় বলে ছক্কা, এরপর টানা চারটি চার হাঁকান। ফলে ৩ ওভারে মাত্র ১৩ রান প্রয়োজন হয় পাকিস্তানের।
৯ বল বাকি থাকতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে স্বর্ণের লড়াই নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান ও আইয়ুবের ১২ বলে ২১ রানের ইনিংস ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। ২২ বলে ২৭ রান করেন নাসান নেওয়াজ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বড় রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বোলারদের পারফরম্যান্সও ঠিকঠাক হয়নি। স্পিনিং উইকেটেও নাসুম ৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়েছেন।

এর আগে সোয়া একঘণ্টা পর শুরু হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশি প্রবাসীরা অবশ্য খুব বেশি চার-ছক্কার মার দেখতে পারেননি। ১৩ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করেছে। খেলার দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় পাওয়ার প্লে ছিল ৪ ওভার। পাওয়ার প্লে’তে যেখানে রানের ফুলঝুরি ছোটার কথা, সেখানে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে ২৩ রান করে।

বৃষ্টিতে উইকেট চার দিনের বেশি কাভারের নিচে থাকায় স্পিনারদের দিয়েই বেশিরভাগ ওভার করিয়েছে পাকিস্তান। স্পিনার সাইম আইয়ুব ২ ওভারে ৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন। তিনিই মূলত রান চেক দিয়েছেন।

পাকিস্তান এশিয়ান গেমসে পূর্ণ শক্তির দল পাঠায়নি। বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল পাঠিয়েও পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে যথেষ্ট হিমশিম খেয়েছে। তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংস না খেললে স্কোর ১০০ অতিক্রম করাও কঠিন ছিল। হৃদয়, সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক সৈকত ছাড়া কেউই দুই অঙ্কের স্কোর করতে পারেননি। সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তিন বলে মাত্র ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট হয়ে দলকে চরম চাপে ফেলেন।

১৩ ওভারের ম্যাচেও বাংলাদেশ অনেক ধীরগতিতে ব্যাট করেছে। এক পর্যায়ে ৬.৩ ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট ছিল। হৃদয় ও সৈকতের জুটিতে ৪৩ রান হয়। কিন্তু উভয়েই আবার দুই রানের ব্যবধানে আউট হওয়ায় বাংলাদেশের স্কোর আরও বড় হয়নি। 

পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনআপও বাংলাদেশকে যথেষ্ট চাপে রেখেছিল। সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। পাকিস্তান বাংলাদেশকে আরও কম রানে বেধে রাখার সুযোগ থাকলেও ১৫টি ওয়াইড দিয়েছে। কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় আউটফিল্ড কিছুটা স্লো।
 


মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই পড়লো ১৬ উইকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনই পড়লো ১৬ উইকেট

মিরপুর টেস্টে আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে খেলা বন্ধ হলো। তার আগে বোলারদের রাজ করার এক দিন কাটলো। টেস্টের প্রথম দিনেই দুই দলের মিলিয়ে পড়েছে ১৬ উইকেট।

বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাব দিতে নেমে তারাও খুব স্বস্তিতে নেই। প্রথম দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১০৪ রান নিয়ে। ৩৪ রানের লিড নিয়েছে প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার পতন হওয়া ৬ উইকেটের মধ্যে ৫টিই নিয়েছেন তাইজুল। ৪৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ১৩ বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তাইজুল। একইসঙ্গে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ২০০ উইকেট শিকারীও হয়েছেন তাইজুল। পেছনে ফেলেন সাকিব আল হাসানকে।

২০০ উইকেট শিকার করতে সাকিবের লেগেছিল ৫৪ টেস্ট। তাইজুল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৮তম টেস্টে এসেই এই মাইলফলকে পৌঁছালেন।

বাংলাদেশকে অল্প রানে গুটিয়ে ব্যাট করতে নামা সফরকারীদের শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে প্রোটিয়া ওপেনার এইডেন মার্করামকে বোল্ড করেন ডানহাতি টাইগার পেসার। হাসানের ভেতরে ঢোকা বল ডানহাতি ব্যাটার মার্করামের (৭ বলে ৬) ব্যাটের কোনা স্পর্শ করে স্টাম্প ভেঙে দেয়। দলীয় ৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দ্বিতীয় উইকেটে পিচে সেট হয়ে ব্যাটিং করছিলেন টনি ডি জর্জি ও ত্রিস্টান স্টাবস। ৪১ রানের জুটিও করে ফেলেছিলেন তারা। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের বাইরের দিকে বেরিয়ে যাওয়া বল ডানহাতি স্টাবসের ব্যাটের কাণায় লেগে স্লিপে সাদমান ইসলামের হাতে জমা হয়। ২৭ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরত যান প্রোটিয়া ব্যাটার।

তৃতীয় সেশনের শুরুতে আরও একটি শিকার ধরলেন তাইজুল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ডানহাতি ব্যাটার ডেভিড বেডিংহামকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৫ বলে ১১ রান করেন বেডিংহাম। ৭২ রানে তৃতীয় হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইনিংসের ২৮তম ওভারে একে জোড়া শিকার করেন তাইজুল। ওভারের দ্বিতীয় বলে পিচে থিতু হয়ে থাকা টনি ডি জর্জিকে শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচ বানান তিনি। ৭০ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরত যান প্রোটিয়া ওপেনার।

ওই ওভারের শেষ বলে নতুন ব্যাটার ম্যাথিউ ব্রিটজকে (৪ বলে ০) বোল্ড করে দেন তাইজুল। দলীয় ৯৯ রানে ৫ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর সেট ব্যাটার রায়ান রিকেলটনকে আউট করে প্রোটিয়াদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান তাইজুল। উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে ক্যাচ দেওয়ার আগে রিকেলটন করেন ৪৯ বলে ২৭।

এর আগে শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুই সেশনও টেকেনি বাংলাদেশ। ৪১.১ ওভার ব্যাট করে ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের তোপে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি কোনো ব্যাটার।

দিনের শুরুতেই ব্যাটিং ব্যর্থতার আভাস দেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৪ বল খেলে ০ রানে সাজঘরে ফেরত গেছেন এই ব্যাটার। প্রোটিয়া পেসার উইয়ান মুলদারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে এইডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ হন বাঁহাতি সাদমান। দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এক ওভার বিরতি দিয়ে আউট যান মুমিনুল হকও। ৬ বলে মাত্র ৪ রান করে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন বাহাতি ব্যাটার। মুলদারের বলে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

ষষ্ঠ ওভারে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৭ বলে ৭)। মুলদারের বলে শর্ট মিড অফে কেশব মহারাজের তালুবন্দি হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অর্থাৎ প্রথম ৩টি উইকেটই নেন মুলদার। ২১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় বাংলাদেশের।

এরপর বাংলাদেশকে টেনে তুলতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু পারলেন না। দক্ষিণ আফ্রিাকার পেসার কাগিসো রাবাদার বল যেন বুঝে উঠতে পারছেন না অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষমেশ উইকেট দিয়ে আসলেন তিনিও। প্রোটিয়া ডানহাতি পেসার উপড়ে ফেলেন ডানহাতি মুশফিকের দুটি স্টাম্প। ২২ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরত আসেন মুশফিক।

৪০ রানে ছিল না ৪ উইকেট। চরম ব্যাটিং বিপর্যযে পড়া বাংলাদেশকে সামান্য স্বস্তিও এনে দিতে পারলেন না লিটন দাস। দলীয় ৫ রান যোগ না হতেই আউট যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ১৩ বলে খেলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরত যান ডানহাতি লিটন। কাগিসো রাবাদার বলে স্লিপে ত্রিস্টান স্টাবসের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ (২৪ বলে ১৩)। দলীয় ৬০ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার কেশব মহারাজের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। আম্পায়ারের সরাসরি আউটের ঘোষণার পর রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটার।

পিচে থিতু হয়ে থেকেও ভালো ইনিংস খেলতে পারেননি ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ৯৭ বল খেলে মাত্র ৩০ রান করতে পারেন তিনি। প্রোটিয়া স্পিনার ডেন পিডটের বলে বোল্ড হন ডানহাতি ব্যাটার।

অভিষেক ম্যাচ রাঙাতে পারেননি জাকের আলী অনিক। ১৫ বলে মাত্র ২ রান করে মহারাজের বলে স্টাম্পড হন ডানহাতি ব্যাটার। স্কোরকার্ড ৭৬ রানের স্থির থাকতেই ২টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাইম হাসান ৮ আর তাইজুল ইসলাম করেন ১৬ রান। ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসান মাহমুদ।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা, উইয়ান মুলদার ও কেশব মহারাজ।