শেয়ার বাজার

পরিচালকের ভূমিকার প্রতিবাদে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অনুষ্ঠান স্থগিত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিচালকের ভূমিকার প্রতিবাদে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অনুষ্ঠান স্থগিত

প্রকাশকদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের একটি নির্ধারিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে বেসরকারি গ্রন্থাগারে অনুদান হিসেবে বই প্রদান ও সরবরাহের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ‘Book Procurement and Distribution Software’-এর পরিচিতি, পর্যালোচনা ও মতামত সংগ্রহের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহেদ উর রহমানের।

প্রকাশকদের অভিযোগ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও ভূমিকা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে তাঁকে ঘিরে প্রকাশকদের প্রতিবাদের মুখে সভাটি স্থগিত করা হয় বলে কয়েকজন প্রকাশক জানিয়েছেন।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আফসানা বেগম  ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি অপসারিত হন।  পরবর্তীকালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মে মাসে তিনি আবার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।

অপসারণ নিয়েও প্রশ্ন

প্রকাশকদের কয়েকজন দাবি করেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আফসানা বেগমকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর অপসারণের কারণ নিয়ে সে সময় বিভিন্ন ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়।

তৎকালীন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আফসানা বেগমের বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছিল, বই ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত ২০ শতাংশ ‘মন্ত্রী-সচিব কোটা’ বাতিলের উদ্যোগ এবং এ বিষয়ে তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এটিকে তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল, সরকারি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে নয়।

প্রকাশকদের যত অভিযোগ

সৃজনশীল প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আফসানা বেগমের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রধান অভিযোগগুলোর একটি হলো, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পক্ষের  প্রকাশকদের  উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি কার্যকর ভূমিকা নেননি।

প্রকাশকদের  অভিযোগ, তাঁরা যেসব প্রকাশককে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের বিরোধী বা আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা বইমেলায় ওই প্রকাশকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশকদের দাবি, এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে পরিচালকের দূরত্ব তৈরি হলেও তা কমানোর জন্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের আরও অভিযোগ,  পরিচালক প্রকাশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই  তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট  বিষয়ে  গ্রন্থকেন্দ্রের মুষ্টিমেয় কর্মকর্তার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রকাশকদের অংশগ্রহণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কমে যায়।

কয়েকজন প্রকাশকের অভিযোগ, জুনিয়র প্রকাশকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বাকবিতণ্ডাতেও জড়িয়েছেন পরিচালক। তাঁদের ভাষ্য, একজন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব ছিল।

বই ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়েও প্রকাশকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে আফসানা বেগম গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বই ক্রয়-সংক্রান্ত কমিটিরও সদস্য ছিলেন। সেখানে বই নির্বাচন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

প্রকাশকদের আরও অভিযোগ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে বই ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন বই কত কপি কেনা হয়েছে, কেন একটি বই ২০ কপি এবং অন্যটি ৭০ কপি কেনা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের বই ক্রয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গ্রন্থকেন্দ্রের ফেসবুক গ্রুপ নিয়েও ক্ষোভ

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশকদের জন্য পরিচালিত একটি অনলাইন গ্রুপ থেকে কয়েকজন প্রকাশককে বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

প্রকাশকদের অভিযোগ, গ্রন্থকেন্দ্রের ওই গ্রুপে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন বা মতামত দিলে কর্তৃপক্ষের পছন্দ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকাশককে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশকের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা উচিত, কাউকে গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া নয়।

শাহজী প্রকাশনী এবং স্বরবৃত্তের রহমতসহ কয়েকজনকে গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে প্রকাশকেরা এর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তাঁরা এ ঘটনায় সহকারী পরিচালক এনামুল হক ও সুপ্তির ভূমিকা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া এবং লিখিত অভিযোগ দাখিলের কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

বই ক্রয় ও প্রকাশনা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশকদের আরেকটি অভিযোগ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম নিজেও লেখক ও অনুবাদক এবং বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের দাবি, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের প্রতিষ্ঠানের নামে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে বই কেনা হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তা নির্ধারিত নিয়ম ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বই ক্রয় কমিটির সদস্যদের তালিকা প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের প্রশ্ন, ‘ক্রয় কমিটি বই কিনেছে’ বলা হলেও সেই কমিটিতে কারা ছিলেন, তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা প্রকাশ করা হয় না কেন।

প্রকাশকদের অভিযোগ, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রকাশকদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বইয়ের তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোডের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের সঙ্গে আগে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের বক্তব্য, বেসরকারি অনলাইন বই বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কার্যক্রম এক নয়। ফলে গ্রন্থকেন্দ্রের বই সংগ্রহ ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সেটিও প্রকাশ্যে জানাতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও ‘বই’ পত্রিকা নিয়েও অভিযোগ

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কাদের প্রশিক্ষক হিসেবে রাখা হচ্ছে, কোন বই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে, তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকেরা।

প্রকাশকদের একটি অংশের অভিযোগ, তাঁদের ভাষায় ‘ফ্যাসিবাদী ঘরানার’ প্রকাশকদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ঘরানার লেখক ও প্রকাশকদের উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘বই’ নামের একটি পত্রিকায় লেখক নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রকাশক। তাঁদের দাবি, জাতীয়তাবাদী লেখকদের লেখা পাঠানোর পরও তা প্রকাশ করা হয়নি। তাঁরা এ বিষয়ে ই-মেইলে লেখা পাঠানোর প্রমাণ প্রকাশ করার কথাও জানিয়েছেন। পত্রিকাটিতে আওয়ামী ঘরানার আলোচিত লেখক মণি হায়দারের লেখা প্রকাশের বিষয়টিও তাঁরা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

বইমেলার ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ

ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় বইমেলায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রকাশকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গ্রন্থকেন্দ্রের অব্যবস্থাপনার কারণে মেলায় অংশ নেওয়া প্রকাশকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ মেলার বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আগ্রহ থাকলেও প্রকাশকদের স্বার্থ ও ক্ষতির বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

প্রকাশকদের অভিযোগ, গত বছরের একুশে বইমেলায় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ বাতিলের দাবি উঠলেও 
 সংশ্লিষ্ট সভায় তাঁদের দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। সভায় আফসানা বেগমের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। 

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি

প্রকাশকদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বই ক্রয়কমিটির সদস্য নির্বাচন, বই সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

প্রকাশকদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হোক এবং বই ক্রয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, ক্রয় কমিটির সদস্যদের পরিচয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হোক।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি, ক্রয় কমিটির কার্যবিবরণী এবং সরকারি হিসাবের তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকেরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশই ফেল

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশই ফেল

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিগ্রি (পাস) ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের ফল বিপর্যয় হয়েছে। এ পরীক্ষায় পাসের হার মাত্র ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সারাদেশে ৬৫২টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯০৮টি কলেজের নিয়মিত, অনিয়মিত ও মানোন্নয়নসহ মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।

তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৪৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী ফেল করছেন। আনুমানিক ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট result.nu.ac.bd-এ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত ফলে কোনো প্রকার অসঙ্গতি বা ভুল পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন অথবা ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় সংরক্ষণ করে। এদিকে ফল প্রকাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, যারা গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন। যারা ফেল করেছেন তারা পড়াশোনা করে আবার পরীক্ষা দাও।

Failure is the pillar of success. তিনি বলেন, যদিও লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ফেল করেছে এবং আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি, কিন্তু এটিই প্রকৃত পাসের হার। এখানে আমরা কোনো হাত দেইনি। গুণগত শিক্ষার দিকে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য আরো বলেন, তবে কেন এত সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করল, সেটি নিয়ে আমরা গবেষণা করব সামনে।


মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বা দলীয় প্রভাব চলবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ মে, ২০২৬

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বা দলীয় প্রভাব চলবে না

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোনো স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব চলবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই হবে নিয়োগ।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না।


অবশেষে প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্ত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অবশেষে প্রাথমিকে ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্ত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত নিয়োগ ও পদায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে হবে। এরপর আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর চূড়ান্ত পদায়নের আদেশ জারি করা হবে।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি করা সম্ভব না হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ, কোটাসংক্রান্ত তথ্য ও মতামতসহ বিস্তারিত তালিকা আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। তবে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগপত্র হস্তান্তরের আগে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা এবং বয়সসংক্রান্ত যাবতীয় মূল সনদপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত সনদ এবং ডোপ টেস্টের রিপোর্ট নিশ্চিত হয়েই চূড়ান্ত নিয়োগ আদেশ দেওয়া হবে।

নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তদন্ত প্রতিবেদনে কারও বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ পর্যবেক্ষণ থাকলে কিংবা ডোপ টেস্টে অসংগতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগ আদেশ স্থগিত থাকবে।


পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় গত ৯ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যাতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।