ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সাংসদরা। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ‘নির্বাচন সদন’-এর দিকে মিছিল বের করেন তারা।
মিছিলে বিরোধী সাংসদদের হাতে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর দাবিও জানান বিরোধীরা।
নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে বিরোধী সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। পরে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তার সঙ্গে অবস্থানে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক সাংসদ।
বিক্ষোভে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি আগেই নির্ধারণ করেছিল ইন্ডিয়া ব্লক। গত সপ্তাহে জোটের বৈঠকের পর থেকেই এ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে। ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে এনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো।
এদিকে মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া ব্লকের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (এএপি) অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে।
বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে রাহুল গান্ধীকে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। কয়েকজন সাংসদও ব্যারিকেডের ওপর উঠে স্লোগান দেন। সমাজবাদী পার্টির কয়েকজন সাংসদ ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় একের পর এক বিরোধী সাংসদকে আটক করে পুলিশ। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কেসি বেনুগোপালকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ।
সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রাজীব রাই অভিযোগ করেন, ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা প্রায় ১৫ হাজার ভোটারের তথ্য তিনি জমা দিয়েছেন।
বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, পরপর আটক বিরোধী সাংসদরা
Kayes@Aaa
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬







