শেয়ার বাজার

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হবে: আনোয়ার ইব্রাহিম

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হবে: আনোয়ার ইব্রাহিম

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে মালয়েশিয়াকে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতিতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।


তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বাণিজ্যনির্ভর দেশ হিসেবে এসব চ্যালেঞ্জ মালয়েশিয়ার জন্য কেবল তাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে বিশ্বের চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় রয়েছে বিভিন্ন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।


২০২৬ সালের খাজানাহ ন্যাশনাল বারহাদের মেগাট্রেন্ড ফোরামে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।


আনোয়ার বলেন, ‘যে কোনো বাণিজ্যনির্ভর দেশের জন্য এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া এমন একটি দেশ, যার অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ বাস্তবতা সম্পর্কে যে বাণিজ্যনির্ভর দেশ সচেতন নয়, তারা দীর্ঘ সময় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না।’


তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মালয়েশিয়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ভারতকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখছে। আমরা সৌভাগ্যবান যে কঠিন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছি। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং পশ্চিম ও পূর্ব উভয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানভুক্ত হওয়ায় মালয়েশিয়া কিছুটা স্থিতিশীলতার সুবিধা পাচ্ছে। তবে শুধু বৈঠক আয়োজন বা প্রতীকী সহযোগিতার মধ্যে আঞ্চলিক জোটের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।


তিনি বলেন, ‘আমি এতটা সরল নই যে এটিকে সহজ পথ হিসেবে দেখব। আমরা সৌভাগ্যবান যে আসিয়ানের অংশ এবং আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার নীতিকে সমর্থন করি। কিন্তু এর অর্থ হতে হবে এমন সক্ষমতা বা ক্ষমতা অর্জন করা, যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারি। শুধু সভা আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়।


আনোয়ার একই সঙ্গে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সুশাসন আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এগুলোর পরিবর্তনের গতি সেই ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়েও বেশি।


তার মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে অর্থবহ জবাবদিহির ঘাটতি আধুনিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক দুর্বলতা। এর ফলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে।
আনোয়ার বলেন, ক্ষমতা সেই ক্ষমতা পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়েও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এটি বাস্তব অর্থে কার্যকর করতে হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের কাছে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর বিএনপির আস্থা রয়েছে: ফখরুল

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের ওপর বিএনপির আস্থা রয়েছে: ফখরুল

নির্বাচন কমিশনের ওপর বিএনপির আস্থা রয়েছে জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গেই এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সেজন্য আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর স্মরণ করি, কারণ তার দেখানো যে পথ, সেই পথেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই। একটা উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে শপথ গ্রহণ করি। 

মহাসচিব বলেন, আজকে যখন ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে। একটা ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে তখন আবার নতুন করে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য...আমরা আজকে এখানে শপথ নিয়েছি এবং এই শপথের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও সমস্ত অঙ্গ-সংগঠন বাংলাদেশে শহীদ জিয়ার যে আদর্শ, সে আদর্শকে এখানে বাস্তবায়িত করবে...এই শপথ আমরা আজকে এখানে নিয়েছি।

অনেকের মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে... এ নিয়ে দলীয় অবস্থান জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এটা বরাবরই আপনার নির্বাচন কমিশনের যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে এটা নতুন কোনো ব্যাপার না। আমরা এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি যে মোটামুটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গেই কাজ করছে। আমাদের যে সমস্যাগুলো দুয়েকটা যেটা আমরা মনে করেছি সেগুলো আমরা গতকাল তার সামনে তুলে ধরেছি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গেই এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। 

জামায়াতের আমিরের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যানের মতো নিরাপত্তা দেওয়ার একটা বিষয় সামনে এসেছে, সেটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তাদের ব্যাপার। এটা আমাদের কিছু নয়।

অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।



ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বরে। জনগণের সঙ্গে আলাপ করে তাঁদের চাওয়া অনুযায়ী অবিলম্বে এ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সুযোগ এসেছে, সেটা নির্ভর করবে ভারতের এই গঙ্গা চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর দিয়ে। এ কথা আমি বিশ্বাস করি এবং সেই আহ্বান আমরা তাদের কাছে জানাতে চাই...বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট করে আমরা কখনই কোনো চুক্তি কাউকে করতে দেব না। এ ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তারেক রহমানের সরকার বৈধ উপায়ে নির্বাচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আজ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু শক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুধু তা–ই নয়, তারা দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার একটা পাঁয়তারা চালাচ্ছে।


অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অনেক বেশি সজাগ হতে হবে। শুধু সজাগ নয়, সংগঠিতও হতে হবে, যাতে কোনো রকম চক্রান্ত সরকারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে না পারে। দেশের জনগণ কখনোই কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবেন না।

ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস এখন প্রতিরোধের একটা প্রতীক। মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করা। প্রতিবেশী দেশ যে অন্যায় করেছে, সেটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তিনি এ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হলে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিনষ্ট হবে, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তখনই ভাসানী সেসব কথা তুলে ধরেছেন, বলেন ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই আন্দোলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছিলেন, বলেন তিনি। এ জন্য তিনি যে চুক্তি করেছিলেন, সেটা অনেকাংশে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে গিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। অন্যান্য যেসব শক্তি বা দেশ আছে, তাদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।



অবশেষে সক্রিয় মক্কা চুক্তি : সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

অবশেষে সক্রিয় মক্কা চুক্তি : সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক

ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অবশেষে সক্রিয় হলো ত্রিপাক্ষিক মক্কা প্রতিরক্ষা জোট। গতকাল সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে জোট সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, এ সিদ্ধান্তের আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের ঘোষণাও দিয়েছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের অপর দুই শরিক দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক।

হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ সৌদি আরবের সংঘাত এবং তার জেরে ইয়েমেন থেকে সৌদির সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর অব্যাহত হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির জোট সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৩ দেশ।

সোমবারের বৈঠকের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জোটের নির্বাহী কমিটি যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে অবিলম্বে অগ্রসর হওয়ার এবং সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা প্রদানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

‘সম্মত শর্তানুযায়ী সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে’

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তিতে যেসব শর্তের উল্লেখ ছিল, সেগুলো মেনেই সামরিক বাহিনী মোতায়েন করছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং জাতীয় আইন অনুযায়ী এই মোতায়েন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা, তিন দেশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় তাদের যৌথ সক্ষমতা বাড়ানো।”

যৌথ বিবৃতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মুসলিমদের দুই পবিত্র শহর মক্কা-মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সৌদি শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর লড়াকু মনোভাবের প্রশংসাও করেছে তুরস্ক-পাকিস্তান।

রিয়াদের বৈঠকে ৩ দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ

সোমবারের উচ্চপর্যায়ের  বৈঠকে তিন দেশেরই জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা, কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। তুরস্কের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং সেনাপ্রধান (চিফ অফ জেনারেল স্টাফ) জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু।

পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান (চিফ অফ জেনারেল স্টাফ) জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি।

পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদ—যিনি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন—তিনিও এই বৈঠকে অংশ নেন।

প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানি জেনারেলের নিয়োগ

জোট কমিটি পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদকে তিন বছরের মেয়াদে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

জোটভুক্ত ৩ দেশ জানিয়েছে, প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা তাদের সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা জোর দিয়ে বলে যে, যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য ‘মক্কা চুক্তি’ বাস্তবায়ন সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে এবং এটি প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে হুথি হুমকি

হুথিদের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে এই চুক্তিটি কার্যকর করা হলো; হুথিরা দাবি করেছে যে তাদের এসব আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো।

এই পদক্ষেপটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক; এর মাধ্যমে দেশ তিনটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আসা হুমকির মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। এই চুক্তির আওতায়, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

তারপর থেকে দেশগুলো চুক্তিটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আগস্ট মাসে ইস্তাম্বুলে জোটভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানরা বৈঠক করেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে সামরিক প্রধানরা আরও আলোচনা করেন।

সূত্র : এপি, ইন্ডিয়া টুডে