বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে মালয়েশিয়াকে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতিতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বাণিজ্যনির্ভর দেশ হিসেবে এসব চ্যালেঞ্জ মালয়েশিয়ার জন্য কেবল তাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়। বিশেষ করে বিশ্বের চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় রয়েছে বিভিন্ন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
২০২৬ সালের খাজানাহ ন্যাশনাল বারহাদের মেগাট্রেন্ড ফোরামে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
আনোয়ার বলেন, ‘যে কোনো বাণিজ্যনির্ভর দেশের জন্য এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া এমন একটি দেশ, যার অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ বাস্তবতা সম্পর্কে যে বাণিজ্যনির্ভর দেশ সচেতন নয়, তারা দীর্ঘ সময় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে না।’
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মালয়েশিয়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ভারতকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখছে। আমরা সৌভাগ্যবান যে কঠিন এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছি। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং পশ্চিম ও পূর্ব উভয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানভুক্ত হওয়ায় মালয়েশিয়া কিছুটা স্থিতিশীলতার সুবিধা পাচ্ছে। তবে শুধু বৈঠক আয়োজন বা প্রতীকী সহযোগিতার মধ্যে আঞ্চলিক জোটের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি এতটা সরল নই যে এটিকে সহজ পথ হিসেবে দেখব। আমরা সৌভাগ্যবান যে আসিয়ানের অংশ এবং আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার নীতিকে সমর্থন করি। কিন্তু এর অর্থ হতে হবে এমন সক্ষমতা বা ক্ষমতা অর্জন করা, যার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারি। শুধু সভা আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়।
আনোয়ার একই সঙ্গে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সুশাসন আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এগুলোর পরিবর্তনের গতি সেই ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়েও বেশি।
তার মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে অর্থবহ জবাবদিহির ঘাটতি আধুনিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক দুর্বলতা। এর ফলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে।
আনোয়ার বলেন, ক্ষমতা সেই ক্ষমতা পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়েও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এটি বাস্তব অর্থে কার্যকর করতে হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে জনগণের কাছে জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।








