শেয়ার বাজার

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি আজ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার ঐতিহাসিক চুক্তি আজ

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সই করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ চুক্তি সই হবে।

‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে বিমানের পক্ষে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এবং সরু কাঠামোর এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে।

তবে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ বা এয়ারবাসের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত থাকবেন।

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর দুই দফায় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সাল থেকে বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। সব উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগবে।

চুক্তি হলেও সরবরাহের আগে এসব উড়োজাহাজের পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। একটি করে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮। ইতোমধ্যে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়বে।

এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের চুক্তি করা ২৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টি। বর্তমান বহরের উড়োজাহাজ বিবেচনায় নিলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াতে পারে।

বর্তমানে বিমানের বহরের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের তৈরি। এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

বার্তাবেলা: বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স সোনার দাম দুই হাজার ১০০ ডলার স্পর্শ করে সপ্তাহে। সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পর অবশ্য সেই দাম ধরে রাখতে পারেনি এ ধাতুটি। রেকর্ড সৃষ্টির পর বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ধাতুটির দাম প্রায় ৭০ ডলার কমেছে।

বিশ্ববাজারের মতো দেশের বাজারেও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ফলে দেশের বাজারেও সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কয়েক দফা দাম বাড়ার পর গত সপ্তাহে দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তবে, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম কমেছে দেশের বাজারে দাম কমার হার সেই তুলনায় কম।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭১ দশমিক ৯৭ ডলার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৪ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ২ হাজার ১২৪ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আর আগে বিশ্ববাসী দেখেনি।

অবশ্য এ রেকর্ড দাম হওয়ার পরপরই পতনের মধ্যে পড়ে সোনা। ওই দিনই প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ২ হাজার ২১ ডলারে চলে আসে। অর্থাৎ একদিনেই সোনার দাম ১০০ ডলারের ওপর কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একদিনের মধ্যে সোনার দামে এমন উত্থান-পতনও আগে কখনো দেখা যায়নি।

সোনার দামের এমন উত্থান-পতন বিস্মিত করেছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, দাম বাড়বে এবং কমবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একদিনের মধ্যে এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়ে যাওয়া এবং কমে যাওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সাধারণত দাম বাড়া বা কমার পেছনে কোনো না কোনো ঘটনা থাকে। কিন্তু এবার কি কারণে এমন দাম বাড়লো এবং কি কারণেই দরপতন হলো তার কোনো কারণ খুঁছে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই এক আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ১২৪ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আগে কখনো হয়নি। কিন্তু এ রেকর্ড দামের পরই আমরা আবার বড় দরপতন দেখতে পাই। একদিনের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০০ ডলার কমে যায়। সোনার দামে এমন অস্থিরতা আগে দেখা যায়নি। এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি যখন সোনার দাম বেড়েছে বা কমেছে তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে। কিন্তু এবার কেন সোনার এত দাম বাড়লো, আবার কেনই বা কমলো তার কোনো কারণ জানতে পারেনি। এটা শুধু আমাদের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নয়, অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদেরও বিস্মিত করেছে।

এদিকে একদিনে বড় উত্থান পতনের পর গত সপ্তাহের বাকি চার কর্যদিবসেও সোনার দাম কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ১ হাজার ৯৯৫ ডলারে চলে আসে। তবে শেষদিকে কিছুটা দাম বেড়ে ২ হাজার ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে থিতু হয়েছে সোনা।

এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই কমেছে ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারে গত সপ্তাহের সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাজুস। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠক করে ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে।

ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮ হাজার ১২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২২৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ৮৮ হাজার ৪৭১ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা কমিয়ে ৭৩ হাজার ৭১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেইসঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০ টাকা গুনতে হতো।

এ দাম কমানোর আগে ৩০, ২৭, ১৯ ও ৬ নভেম্বর এবং ২৭ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ৩০ নভেম্বর সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৯২৯ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেশের বাজারে এর থেকে বেশি দামে আর সোনা বিক্রি হয়নি।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় পতন হওয়ায় এখন দেশের বাজারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে এমএ হান্নান আজাদ বলেন, সর্বশেষ আমরা যখন দাম সমন্বয় করেছি সে সময় স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার যে দাম ছিল এখনো প্রায় তাই রয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আমরা সোমবার বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দেখবো। যদি দাম সমন্বয়ের মতো হয়, তাহলে দাম সমন্বয় করা হবে।


বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সামনের বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো। চলমান বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট সেজন্য এখানে কোনো টাকা বরাদ্দ ছিল না।
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই; যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে। এমনকি দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। এর ফলে খালের দুই পাশে যারা থাকে, তারাও পানির সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা স্বাবলম্বী হলে এই দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে মজবুত হবে। আর দেশের অর্থনীতি মজবুত হলে এই দেশের মানুষের অর্থনীতি মজবুত হবে।


মাছ-মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি, ডিমে উল্টো চিত্র

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাছ-মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি, ডিমে উল্টো চিত্র

রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক ধরনের মাছ ও মুরগির দাম কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে তেলাপিয়ার দাম– কেজিতে ৮০ টাকা। পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা, মাঝারি রুই ও পাবদার দামও কমেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমেছে। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছ-মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ব্রাউন ডিমের দাম ডজনে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে দামের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা। তেলাপিয়ার দাম গত সপ্তাহের ২৬০ টাকা থেকে কমে আজ ১৮০ টাকা হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে তেলাপিয়ার দাম কমেছে ৮০ টাকা।


মাঝারি আকারের রুই মাছও গত সপ্তাহের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। আজ একই মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় কেজিতে ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। পাবদার দামও গত সপ্তাহের ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা থেকে কমে আজ ৩০০ টাকা কেজিতে নেমেছে। আজকের বাজারে কই মাছ ২০০ টাকা এবং সিলভার মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ১৭৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে দাম কমেছে ১৫ টাকা। হাইব্রিড সোনালি মুরগি আজ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ মুরগির দাম ছিল ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।

অন্যদিকে গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের মতো আজও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। গত সপ্তাহে ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছিল। আজ ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে— ১৪০ টাকা ডজন। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

এ ছাড়া আজকের বাজারে প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা দরে।

মাছের বাজারে কথা হয় ক্রেতা জাহিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, কম-বেশি মাছ প্রতি সপ্তাহেই কেনা হয়। আজকে মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কম দেখছি। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট মনে হয়েছে। কিন্তু, ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, এটা তো আর সাধারণ মানুষ কিছুদিন পর কিনতে পারবে না। ১৫০ টাকা টাকার নিচে নামছেই না।

মাছ বিক্রেতা রুবেল বলেন, মাছের দাম প্রতিদিন একই থাকে না। বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আবার সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় এখন পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই ও পাবদার দাম কিছুটা কম। আমরা কমে কিনতে পারলে তো ক্রেতাদেরও কমে দিতে পারি।

মুরগি বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি ছিল, এখন ১৭৫ টাকায় বিক্রি করছি। হাইব্রিড সোনালিও আগের দামেই আছে। শুক্রবারে চাহিদা থাকে বেশি। আমরা কমে পেয়েছি বলেই কমে বিক্রি করতে পারছি।