শেয়ার বাজার

আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: অর্ধবছরেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: অর্ধবছরেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়

ঢাকায় বসানো হয়েছে নতুন রাডার। এখন থেকে বাংলাদেশের আকাশ সীমায় এলেই দিতে হবে রাজস্ব। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণের কারণে এতদিন এই ব্যবস্থা চালু ছিলনা। এসব সমস্যা কাটিয়ে দেশের আকাশসীমা এখন পুরোপুরি নিজেদের কব্জায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার এবং পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা চালুর পর পাল্টে গেছে দেশের এভিয়েশন খাতের চিত্র। 


পুরোনো জীর্ণদশা কাটিয়ে আকাশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে গত ছয় মাসেই ফ্লাইওভার বা ওভারফ্লাই চার্জ বাবদ সরকারের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।  


​খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পর্যাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর রাডার ব্যবস্থার অভাব ছিল। বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন আকাশসীমার একটি বড় অংশ কার্যকর নজরদারির বাইরে থাকায় দেশের ওপর দিয়ে বিদেশি বিমান চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক ফি বা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হতো না। এমনকি নামমাত্র বা দুর্বল কাঠামোর কারণে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় এক ধরণের পরোক্ষ দুর্বলতা ও পরনির্ভরশীলতা বজায় ছিল। 
অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) এবং কমিউনিকেশন, নেভিগেশন অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স (সিএনএস) সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মূলত দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। পরবর্তীতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আধুনিক এটিসি টাওয়ার ও রাডার ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়।  


​রাজস্ব আয়ের চিত্র:


বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রযুক্তি চালুর পর থেকেই ওভারফ্লাই রাজস্ব আয়ের উল্লম্ফন দেখা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ওভারফ্লাই ফি বাবদই আয় হয়েছে রেকর্ড ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৩৩৮ কোটি টাকার ওপরে আয় হলেও, টাওয়ারটি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর কেবল জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসের ব্যবধানেই আয় ছাড়িয়ে গেছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসেই নিয়মিতভাবে গড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে সরকারের খাতে।  
​যেভাবে দূর হলো দুর্বলতা: এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত পাঁচ দশকে দেশে যে অ্যানালগ ও সীমিত সক্ষমতার রাডার ব্যবহৃত হতো, তাতে বিদেশি বিমানগুলোর সঠিক রুট মনিটরিং করা দুরূহ ছিল। অনেক উড়োজাহাজ রাডার ফাঁকি দিয়ে বা কম নজরদারির সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করত। যার আর্থিক ক্ষতি পোহাতে হতো দেশকে।  


​বর্তমানে ফ্রান্সের বিখ্যাত এভিয়েশন ও ডিফেন্স টেকনোলজি কোম্পানি ‘থেলস’-এর সঙ্গে জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট টু গভমেন্ট) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রায় ৯৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি দেশের আকাশ নিরাপত্তায় বিপ্লব এনেছে। সিএএবির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থার ফলে এখন দেশের আকাশসীমার এক ইঞ্চি জায়গাও আর নজরদারির বাইরে থাকছে না। বিদেশি যেকোনো বিমান দেশের ওপর দিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাকিং সিস্টেমে ধরা পড়ছে এবং নির্ধারিত ফি আদায় নিশ্চিত হচ্ছে।  


​বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন রুটে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এ খাত থেকে অর্জিত এই রাজস্ব দেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন ও স্থায়ী শক্তিশালী উৎস হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন ও বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং বা বাজার সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর করেছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে- বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করায় ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক ধরা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সবচেয়ে কম, অর্থাৎ টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।

নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস কেবল পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা উপভোগ করবে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ভারতের ডিজিটিআর। বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর চালানো এই তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তাতে সাড়া দেয়। ডিজিটিআরের দাবি, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে এসেছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে ভর্তুকির হার বিবেচনা করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম।’

ভারতের বাজারে রপ্তানি সাময়িক কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি কমার আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তা আমদানিতে প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত, যা পরবর্তীতে পাটের বস্তার কাপড়ের ওপরও সম্প্রসারিত হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে ১১৬ কোটি ডলার আয় করেছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সর্বজনীন পেনশন: কত টাকা জমা দিলে কত টাকা পাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৩

সর্বজনীন পেনশন: কত টাকা জমা দিলে কত টাকা পাবেন?

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হল সর্বজনীন পেনশন স্কিম। সে স্কিমের আওতায় সরকারি চাকুরীজীবী ব্যতীত দেশের সকল নাগরিক পেনশন সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর এটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ কারো বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেই এখন অনলাইনে এটিতে নিবন্ধন করতে পারবেন।

উদ্বোধনের সময় শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের যারা সরকারি চাকুরিজীবী তারা তো পেনশন পান, কিন্তু যারা চাকরি করেন না তারা তো পান না, কাজেই এটা সরকারি চাকরিজীবিদের জন্য না। তার বাইরে যে জনগোষ্ঠী তাদের জন্য এই ব্যবস্থা। ”

তবে সরকারের নতুন চালু করা এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন, আলোচনা। কারা, কীভাবে এতে যুক্ত হতে পারবেন, সুবিধা কী, কত টাকা দিতে হবে ইত্যাদি।

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা বিবিসি বাংলাকে বলেন, পেনশন স্কিম উদ্বোধনের পর থেকে অনেক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

"প্রচুর লোক ওয়েবসাইটে ঢুকছে। উদ্বোধনের পরপরই একসাথে ১১০০/১২০০ লোক আমাদের প্ল্যাটফর্মে আসেন," বলেন মি. মোস্তফা।

কাদের জন্য এই স্কিম?

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে , দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সুবিধা দিতে এই পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে, গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল শ্রেণী পেশার বাংলাদেশি নাগরিক এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অংশ হতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক।

তবে ব্যতিক্রম আছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তারা চাইলে পাসপোর্ট দিয়েও নিবন্ধন করতে পারবেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তার কপি জমা দিতে হবে।

আবার বয়সের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনা রাখা হয়েছে। যাদের বয়স ৫০ পেরিয়ে গেছে তারাও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে তিনি পেনশন পাবেন টানা ১০ বছর চাঁদা দিয়ে যাওয়ার পর।

অর্থাৎ স্কিম অনুযায়ী ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর হলেই তিনি সরকার থেকে পেনশন পেতে শুরু করবেন, তাকে আর চাঁদা দিতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি ৫৫ বছর বয়সে এসে স্কিমে অংশ নেন তাহলে ৬৫ বয়স বয়স থেকে তিনি পেনশন পেতে শুরু করবেন।

সরকার মোট ৬টি স্কিমের কথা ঘোষণা করেছে। তবে আপাতত চালু হয়েছে চারটি স্কিম। এগুলোর নাম দেয়া হয়েছে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা।

প্রবাস

এটি শুধু বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য। এর মাসিক চাঁদার হার ধরা হয়েছে ৫ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে। ব্যক্তি চাইলে এই চাঁদার সমপরিমাণ অর্থ তিনি যে দেশে আছেন সে দেশের মুদ্রায় দিতে পারবেন। আবার দেশে এসে দেশীয় মুদ্রাতেও দিতে পারবেন। এছাড়া প্রয়োজনে প্রবাস স্কিম পরিবর্তনেরও সুযোগ থাকছে।

প্রগতি

এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য। এক্ষেত্রেও তিন ভাগে চাঁদার হার ভাগ করা হয়েছে। কেউ চাইলে মাসে ২ হাজার, ৩ হাজার বা ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। আবার প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের মালিকও প্রগতি স্কিমে অংশ গ্রহণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে মোট চাঁদার অর্ধেক কর্মচারী এবং বাকি অর্ধেক প্রতিষ্ঠান বহন করবে।

সুরক্ষা

এই স্কিমটা স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য। অর্থাৎ কেউ কোথাও চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন, তারা সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। এর আওতায় পড়েন ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন। এই স্কিমে চাঁদার হার চার রকম- মাসে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা করে।

সমতা

এই স্কিমে চাঁদার হার একটিই – এক হাজার টাকা। তবে এক্ষেত্রে প্রতিমাসে ব্যক্তি দেবে পাঁচশ টাকা আর বাকি পাঁচশো দেবে সরকার। মূলত দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই স্কিম। এক্ষেত্রে দারিদ্রসীমা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। যেমন বর্তমানে বছরে যাদের আয় এখন বছরে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে তারাই কেবল এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হবেন।


স্কিম কীভাবে খুলবেন?

অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা বলেন, "আমরা একটা ফর্মূলা দিয়ে এই মুনাফার ব্যাপারটা ঠিক করেছি। ওখানে উল্লেখ করেছি এটা বাড়তে বা কমতে পারে। তবে আমাদের ফর্মূলা অনুযায়ী এর চেয়ে কমার সম্ভাবনা নেই।"

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের জন্য এই ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল দিয়ে কয়েকটি ধাপে এতে নিবন্ধন করবেন। এসময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দরকার হবে। কেউ চাইলে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নমিনি করতে পারবে।

মাসিক চাঁদা ছাড়াও কেউ চাইলে তিন মাস পরপর বা বছরে একবার পুরো চাঁদা দিয়ে দিতে পারবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে তার পরের এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। এরপর থেকে প্রতি দিনের জন্য ১% বিলম্ব ফি যুক্ত হবে। কেউ টানা ৩ কিস্তি পরিশোধ না করলে তার অ্যাকাউন্টটি স্থগিত হয়ে যাবে। তবে কেউ যদি নিজেকে অসচ্ছল ঘোষণা করে তাহলে ১২ মাস পর্যন্ত চাঁদা না দিলেও অ্যাকাউন্টটি স্থগিত হবে না।

অনলাইন ও যে কোন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। আপাতত শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের হিসাব খোলা হয়েছে। কেউ চাইলে সরাসরি সোনালী ব্যাংকে গিয়েও নিবন্ধন করতে পারবেন ও চাঁদা দিতে পারবেন।

পেনশনের সুবিধা

অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটি হচ্ছে - পেনশন স্কিমে টাকা দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেটি পাওয়া যাবে তো?

এ প্রসঙ্গে মি. মোস্তফা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এটা নিয়ে শঙ্কা থাকার কোন কারণ নেই। কারণ সরকার নিজে এটার গ্যারান্টি দিচ্ছে। আর আমরা যে ইউনিক নাম্বার দেব প্রত্যেক পেনশনারকে, তারা কিন্তু ঐ নাম্বার দিয়ে সবসময় চেক করতে পারবেন তার অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে।"

পেনশনারগণ আজীবন অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে কেউ যদি ৭৫ বছর বয়স পূরণ হবার আগেই মারা যান তাহলে তার নমিনি পেনশনারের বয়স ৭৫ হওয়া পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন।

আর যদি পেনশনার ১০ বছর চাঁদা দেবার আগেই মারা যান তাহলে তার জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ তার নমিনিকে ফেরত দেয়া হবে।

কারো যদি পেনশনে জমাকৃত অর্থ কোন এক পর্যায়ে উত্তোলনের দরকার হয় তাহলে সেই সুযোগও থাকছে। তার মোট জমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ তিনি আবেদনের প্রেক্ষিতে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

পেনশনের জন্য প্রতিমাসে জমা দেয়া চাঁদা বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে এবং সেই অর্থ কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে। আর মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ হবে আয়কর মুক্ত।


ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন মোহাম্মদ আবু জাফর

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন মোহাম্মদ আবু জাফর

ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আবু জাফর। গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

ব্যাংকিং খাতে ৩৬ বছরের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে মোহাম্মদ আবু জাফরের। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ব্যবসা উন্নয়ন, তৈরি পোশাক খাতে অর্থায়ন, অফশোর ব্যাংকিং, করপোরেট ব্যাংকিং, ট্রেজারি, ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন এবং শাখা ব্যাংকিংসহ ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ঢাকা ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ২০২১ সাল থেকে ঢাকা ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

মোহাম্মদ আবু জাফর ১৯৯০ সালে উত্তরা ব্যাংক পিএলসিতে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

উত্তরা ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকে তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় অনুমোদিত ডিলার (এডি) শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বৈদেশিক মুদ্রা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং শাখা ব্যাংকিং কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

মোহাম্মদ আবু জাফর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (আইবিবি) থেকে ডিপ্লোমেড অ্যাসোসিয়েট অব দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (ডিএআইবিবি) ডিগ্রি অর্জন করেন।

দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ, পেশাগত কর্মসূচি, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেছেন।