শেয়ার বাজার

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ একটি আইনি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও এক প্যানেল আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে কঠোরভাবে আইনি ও কাঠামোগত বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোগত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার নাটকীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারত সরকার তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়নি এবং দিল্লি তাঁর আগমনের জন্যও প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাঁকে ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে সৃষ্ট চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছায়। সেই মুহূর্তে তিনি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটির অবতরণ অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সেই বাস্তবতাকে সামাল দেওয়া ছিল আমাদের দায়িত্ব।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বারবারই স্পষ্ট করেছে যে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক পথেই অনুরোধটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল কোনো তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গভীর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন। একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী সবসময় সংকটে পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নে সম্পূর্ণ সক্ষম উল্লেখ করে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিই আগামী দিনে দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে বানার্ড আর্নল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৪

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে বানার্ড আর্নল্ট

পুরো বিশ্বে যখন কিনা অর্থনৈতিক সংকট চলছে, সেই সময়ও ধনী ব্যক্তিরা আরও ধনী হচ্ছেন। সম্প্রতি ২০২৪ সালের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোর্বস। দেখা গেছে―চলমান বিশ্বে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করেও গতবারের তুলনায় সম্পদ বেড়েছে অনেক ধনীদের।

বিলিওনিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেয়া দুই-তৃতীয়াংশ ধনীদের সম্পদমূল্য গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, আর কমেছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যক্তিদের সম্পদমূল্য। এছাড়া শীর্ষ ২০ ধনীর সম্পদমূল্য অনেক বেশিই বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে তাদের সম্পদমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ হাজার কোটি ডলার।

ফোর্বসের প্রকাশ করা তালিকায় এবার শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্সের বানার্ড আর্নল্ট ও তার পরিবার। তার সর্বমোট সম্পদমূল্য ২৩৩ বিলিয়ন ডলার। ৭৫ বছর বয়সী বার্নাড হচ্ছেন লুই ভুইতোঁ ও সেফোরাসহ বিশ্বের ৭৫টি নামিদামি ফ্যাশন ও কসমেটিক্স ব্র্যান্ডের মালিক।

এরপর দ্বিতীয়তে রয়েছেন নাগরিক টেসলা ও স্পেস এক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক। ৫২ বছর বয়সী এই ব্যক্তির সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৫ বিলিয়ন ডলার।

তৃতীয়তে রয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। গত বছরের তুলনায় এবার তার সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার। তার মোট সম্পদমূল্য ১৯৪ বিলিয়ন ডলার।

তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তির গতবার সম্পদমূল্য ছিল ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭ বিলিয়ন ডলার।

তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন বিশ্বের আলোচিত বিলিওনিয়ার মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এবার তার সম্পদমূল্য বেড়ে ১২৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ১১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তালিকার ৯ম-এ অবস্থান করছেন।

এবার বিশ্বের বিলিওনিয়ারদের নিয়ে প্রকাশ করা এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১৪১ জনের বেশি ধনী ব্যক্তি। সবমিলে এখন বিশ্বে বিলিওনিয়ার রয়েছেন ২ হাজার ৭৮১ জন।


যুদ্ধে ইরানকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হয়েছে: নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

যুদ্ধে ইরানকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হয়েছে: নেতানিয়াহু

ইরান সাম্প্রতিক সংঘাতে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভিত্তি নড়ে গেছে এবং সেটি শেষ পর্যন্ত পতনের দিকেই এগোচ্ছে। মঙ্গলবার (২ জুন) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, 'যুদ্ধে ইরান ইতোমধ্যে খুবই ভারী মূল্য পরিশোধ করেছে। দেশটিতে সন্ত্রাসের এই শাসনব্যবস্থায় ফাটল ধরেছে। এটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি আপনাদের বলছি, এই শাসনব্যবস্থার পতন খুবই নিকটে।' তবে নেতানিয়াহুর এ মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাত এবং পারস্পরিক হুমকি-পাল্টা হুমকির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।


ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬

ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না

ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৭ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ কথা লেখেন। খবর বিবিসির। 

যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় ট্রাম্প বলেন, ঘড়ির কাটা টিক-টিক করছে; সময় ফুরিয়ে আসছে। ইরানকে দ্রুত এগোতে হবে, নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এছাড়া সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত শুক্রবার (১৫ মে) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখে, তাহলে তিনি তা মেনে নিতে পারেন।

এর আগে গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চুক্তি না হলে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। চলতি সপ্তাহেও তিনি বলেন, তেহরানের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করার পর যুদ্ধবিরতি এখন ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সুস্পষ্ট ছাড় দেয়নি।

ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থান আলোচনা প্রক্রিয়াকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আলোচনা এগিয়ে নিতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেনে চলা হলেও মাঝেমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এদিকে, ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, তেহরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারি রেখেছে। এ সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।