শেয়ার বাজার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারতের ৩ দফা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারতের ৩ দফা

পঞ্চম বছরে পা দেওয়া রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে তিন দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পেশ করেছে ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের গত মাসের কিয়েভ সফরের সময় এই পরিকল্পনাটি ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পেশ করা প্রস্তাবের তিন মূল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে শক্তি কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামোয় আক্রমণ বন্ধ করা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখা এবং এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা পুরোপুরি বন্ধ রাখা।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা ভারতের প্রস্তাব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে এটিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আসা চারটি আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বলে উল্লেখ করেছেন। তুরস্ক, মিসর এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেলেও যেকোনো চুক্তিতে কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং শক্তি অবকাঠামো ও কৃষ্ণসাগর পরিস্থিতির সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।


এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেন, যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতামূলক সমাধানের লক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ভালো চিন্তাভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে যুদ্ধ থামাতে কাজ করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসাও করেন।

ভারতের প্রস্তাবটি তুরস্ক ও মিসরের প্রস্তাব থেকে ভিন্ন, কারণ তারা মূলত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের মাধ্যমে শস্য চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি কেবল শক্তি অবকাঠামোয় যুদ্ধবিরতির ওপর কেন্দ্র করে তৈরি। 

দিল্লি মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, ভারত কেবল মৌখিক আহ্বানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উভয় দেশের সঙ্গেই কার্যকর আলোচনা চালাচ্ছে। রাশিয়া সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থাকায় ভারত নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার রাশিয়ার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার রাশিয়ার

কৃষ্ণ সাগরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে। বিধ্বস্ত সেই জাহাজটি থেকে ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে রাশিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনী।

গত কাল মঙ্গলবার ঘটেছে এ ঘটনা। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাইবেরিয়ার পতকাবাহী আফরাম্যাক্স রিও নামের সেই জাহাজটিতে নাভাল (সমুদ্রে ব্যবহারের উপযোগী) ড্রোন আঘাত হেনেছিল। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যে সেই আগুন পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছিল।

“মোট ২৩ জন নাবিক ছিলেন জাহাজটিতে। রাশিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনীর উদ্ধারকারী টিম যখন জাহাজটির কাছে পৌঁছায়, সে সময় পুরো জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। জাহাজে মোট ২৩ জন নাবিক ছিলেন এবং তারা সবাই ভারতীয়। আগুনের তেজের কারণে তাদের উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, তবে সবাইকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

নাবিকদের উদ্ধারের পর দমকল বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায় বলে জানানো হয়েছে রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

সামাজিক যোগাাযোগমাধ্যমে জ্বলতে থাকা সেই জাহাজটির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সাগরের বুকে পানিতে জাহাজটি দাউদাউ করে জ্বলছে এবং কালো ধোঁয়ার বিশাল কুন্ডলি উঠছে সেই জাহাজটি থেকে।

হামলাটি ঘটেছে কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী রুশ রিসোর্ট শহর সোচি’র কাছাকাছি সাইরিয়াস এলাকায়। এ ঘটনার পর সাইরিয়াসের সবগুলো সাগরতীরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে এটি যে ইউক্রেন ঘটিয়েছে— তা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রুশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সাথে জড়িত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে ট্যাঙ্কারটি এর আগেই ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।


সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট


বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন ও বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং বা বাজার সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর করেছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে- বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করায় ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক ধরা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সবচেয়ে কম, অর্থাৎ টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।

নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস কেবল পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা উপভোগ করবে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ভারতের ডিজিটিআর। বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর চালানো এই তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তাতে সাড়া দেয়। ডিজিটিআরের দাবি, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে এসেছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে ভর্তুকির হার বিবেচনা করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম।’

ভারতের বাজারে রপ্তানি সাময়িক কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি কমার আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তা আমদানিতে প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত, যা পরবর্তীতে পাটের বস্তার কাপড়ের ওপরও সম্প্রসারিত হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে ১১৬ কোটি ডলার আয় করেছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সিএনএনের বিশ্লেষণ
সচল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, প্রকাশ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬

সচল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, প্রকাশ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা

দ্রুতগতিতে চাপা পড়ে যাওয়া অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করায় আবারও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা মার্কিন বোমা হামলা কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথ এবং সংযোগ সড়ক ধ্বংস করা হয়েছিল। ফলে এসব ঘাঁটিতে প্রবেশ ও অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

তবে সিএনএনের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত টানেল ও প্রবেশপথ পুনরুদ্ধার করছে ইরান। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কেবল টানেলের মুখ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

যুদ্ধ চলাকালে প্রবল ঝুঁকি নিয়েও টানেলের প্রবেশপথ খনন ও পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যায় ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায়ই এসব কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবুও ইরান সীমিত পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। সাত সপ্তাহ আগে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি টানেল প্রবেশপথের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০টিই পুনরায় চালু করেছে ইরান।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকায় লঞ্চার ও অপারেটর থাকলে ইরান হামলা চালিয়ে যেতে পারবে। তার ভাষ্য, 'ইরানের হাতে এখনো বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ব্যবহার ঠেকানোর মতো কোনো বাধা নেই।'

স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কও মেরামত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে পিচ ঢালাইও করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনের অনুসন্ধান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।'

যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ। গত মার্চে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, লঞ্চার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পূর্ণ অকার্যকর করাকে যুদ্ধের পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মিত ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো শত শত মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেগুলোতে সরাসরি হামলা চালানো অত্যন্ত কঠিন। ফলে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত প্রবেশপথ ও লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা সাময়িকভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব ঘাঁটির গভীরে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং ভূপৃষ্ঠে পরিচালিত হামলায় সেগুলোর খুব বেশি ক্ষতি হয়নি।

জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির গবেষক তৈমুর কাদিশেভ বলেন, 'এ ধরনের যুদ্ধের জন্য ইরান ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা আগের তুলনায় আরও বেশি প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।'

দ্রুত পুনর্গঠনে উদ্বেগ

ইস্পাহানের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময় চারটি টানেল প্রবেশপথ বন্ধ করতে বহুবার হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি প্রবেশপথ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং ধ্বংস হওয়া সড়কও সংস্কার করা হয়েছে।

খোমেইনের বাইরে আরেকটি ঘাঁটিতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে অন্তত ১০টি নির্মাণযান প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ছিল বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরায় সচল হওয়ায় ইরানের সামরিক হুমকি নতুন করে জোরালো হতে পারে, বিশেষকরে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রের মজুতও ধীরে ধীরে কমে আসছে।

এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলোতে হামলা চালানো হলেও ইরান দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তেহরান ইতোমধ্যে ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, 'পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ধারিত সব সময়সীমাকেই ছাড়িয়ে গেছে ইরান।' 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র দিয়ে যে ক্ষতি করা হয়, সাধারণ বুলডোজার ও নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করেই তার বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারা ইরানের অন্যতম কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠেছে।