শেয়ার বাজার

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনোয়ারের বৈঠক

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনোয়ারের বৈঠক

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে মিয়ানমারের শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনসহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় রয়্যাল মালয়েশিয়ান রেঞ্জার রেজিমেন্টের (১ আরআরডি) প্রথম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রায় ৩০ মিনিটের এ বৈঠকে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও উদ্বেগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থীদের বিষয়টি। বিশেষ করে জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারের শরণার্থী সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং এবং মিয়ানমারের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দরকষাকষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংককে গত বছরের শুরুতে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শুরু হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতা হিসেবেই এবারের বৈঠককে দেখছেন তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে সরাসরি আলোচনার সুযোগ সীমিত রাখার অতীত পদ্ধতিগুলো কার্যকর ফল বয়ে আনেনি। বরং কয়েক দশক ধরে চলমান শরণার্থী সংকট আরও জটিল হয়েছে এবং এটি মালয়েশিয়ার জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে এখন একটি বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, দীর্ঘদিনের এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনার বিকল্প নেই। আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, যা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মালয়েশিয়ার স্বার্থ ও উদ্বেগকেও বিবেচনায় নেয়।

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মিয়ানমারের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের বিভিন্ন দিকও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬

কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো  ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি এই প্রাদুর্ভাবকে এখনো মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেনি। খবর আল-জাজিরার।

রোববার (১৭ মে) সংস্থাটি জানায়, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতুরি প্রদেশে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের কারণে হয়েছে, যার এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। 

ডব্লিউএইচও জানায়, সংক্রমণ ইতোমধ্যে উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং কঙ্গোর রাজধানীতেও সংশ্লিষ্ট রোগী শনাক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক ঝুঁকি বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো মহামারির মানদণ্ড পূরণ করেনি। এ কারণে দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।  

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানায়, শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৩৩৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, প্রাদুর্ভাবের সূচনা হয় মঙ্গওয়ালু নামের একটি খনিশিল্প এলাকায়। 

তারা আরও জানায়, জনসংখ্যার চলাচল, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ইতুরিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

আফ্রিকা সিডিসি জানায়, ইবোলা একটি মারাত্মক ও প্রায় প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। ১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গোর ইবোলা নদীর কাছে প্রথম এটি শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড়সহ বন্য প্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এছাড়া রক্ত, বমিসহ শরীরের বিভিন্ন তরল বা দূষিত কাপড়-চোপড় ও বিছানার সংস্পর্শে এলে রোগটি ছড়াতে পারে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক হয়ে ওঠেন।

এদিকে কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম রোগী ছিলেন একজন নার্স। তিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইবোলার মতো উপসর্গ নিয়ে আসেন। অন্যদিকে উগান্ডায় কঙ্গো থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মধ্যে দুটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং রাজধানী কাম্পালায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডব্লিউএইচও এর প্রধান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চলাচল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তিনি সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।


যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের রূপরেখা দিল ইরান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের রূপরেখা দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সাত দিনের এক রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা, যার মধ্যে রয়েছে শত্রুতার অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু এবং গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

তেল ও গ্যাস রপ্তানির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধটি বর্তমানে এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সামনে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে সপ্তম মাসে পা রাখতে চলেছে।

পরস্পরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে উভয় দেশ আবার চুক্তিতে ফিরে আসতে পারে—এমন লক্ষণ খুব একটা দেখা যায়নি, যদিও তেহরান এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাব মানা হলে সাত দিনের মধ্যে গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের আটকে রাখা অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দেবে, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।

সাত দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার চূড়ান্ত দিনে হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইরানের পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত আলোচনা অবিলম্বে শুরু হবে, যাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান মূল কারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরানের বর্তমান প্রস্তাবটি পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের প্রায় অনুরূপ হলেও এটি একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। গত ১৭ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়।

ইরানের এক নিরাপত্তা সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের শর্ত ও প্রতিশ্রুতি মেনে নেয়, তবে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতির অধ্যাপক সাইরাস শায়েঘ আল-জাজিরাকে বলেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত অবসানের দিকে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।


ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংঘাতের মূলে যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৩

ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংঘাতের মূলে যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

ফিলিস্তিনিদের রক্তাক্ত ইতিহাসে ১৪ই মে, ২০১৮ ছিল আরেকটি বিষাদময় দিন। যুক্তরাষ্ট্র সেদিন জেরুসালেমে তাদের দূতাবাস উদ্বোধন করছিল। আর সেদিন গাজা পরিণত হয়েছিল এক রক্তাক্ত প্রান্তরে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের হিসেব অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে সেদিন গাজায় নিহত হয় ৫৮ জন। আহত হয় আরও প্রায় তিন হাজার। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর এক দিনে এত বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানির ঘটনা আর ঘটেনি।

সেই দিনটি ছিল ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী। ১৯৪৮ সালের এই দিনটিতে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ফিলিস্তিনিদের কাছে দিনটি হচ্ছে 'নাকবা' বা বিপর্যয়ের দিন। লাখ লাখ ফিলিস্তিনি সেদিন ইসরায়েলে তাদের বাড়ী-ঘর থেকে উচ্ছেদ হয়েছিল। প্রতিবছর দিনটিকে তারা 'নাকবা' দিবস হিসেবেই পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্র যে তাদের দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নিয়ে এসেছে, সেটিও খুবই বিতর্কিত একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে এই পদক্ষেপ নেয়ার পর তা ফিলিস্তিনিদের মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ করে।

ফিলিস্তিনিরা মনে করে পূর্ব জেরুসালেম হবে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী। অন্যদিকে ইসরায়েল পুরো জেরুসালেম নগরীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নিয়ে কার্যত ইসরায়েলিদের অবস্থানকেই সমর্থন জানাচ্ছে বলে মনে করে ফিলিস্তিনিরা।

ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ আট দশকের এই সংঘাত বুঝতে সাহায্য করতে পারে নীচের দশটির প্রশ্নের উত্তর:


১. কীভাবে এই সংঘাতের শুরু?

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে বসবাসকারী ইহুদীরা ব্যাপক বিদ্বেষ-নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। সেখান থেকেই 'জাওনিজম' বা ইহুদীবাদী আন্দোলনের শুরু। তাদের লক্ষ্য ছিল ইউরোপের বাইরে কেবলমাত্র ইহুদীদের জন্য একটি রাষ্ট্র পত্তন করা।

সেই সময় প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন ছিল তুর্কী অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। এটি মুসলিম, ইহুদী এবং খ্রিস্টান- এই তিন ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র ভূমি হিসেবে বিবেচিত।

ইহুদীবাদী আন্দোলন দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইউরোপের ইহুদীরা দলে দলে প্যালেস্টাইনে গিয়ে বসত গাড়তে শুরু করে। কিন্তু তাদের এই অভিবাসন স্থানীয় আরব এবং মুসলিমদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। সেসময় আরব এবং মুসলিমরাই ছিল সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুর্কী অটোমান সাম্রাজ্য কার্যত ভেঙ্গে পড়ে। তখন যে লিগ অব নেশন' গঠিত হয়েছিল, সেই বিশ্ব সংস্থার পক্ষ থেকে ব্রিটেনকে 'ম্যান্ডেট' দেয়া হয় প্যালেস্টাইন শাসন করার।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যখন চলছিল তখন ব্রিটেন আরব এবং ইহুদী, উভয় পক্ষের কাছেই নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্যালেস্টাইন নিয়ে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির কোনটিই ব্রিটেন রক্ষা করেনি।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য তখন কার্যত ভাগ-বাটোয়োরা করে নিয়েছিল ব্রিটেন আর ফ্রান্স। এই দুই বৃহৎ শক্তি পুরো অঞ্চলকে তাদের মতো করে ভাগ করে নিজেদের প্রভাব বলয়ে ঢোকায়।

প্যালেস্টাইনে তখন আরব জাতীয়তাবাদী এবং ইহুদীবাদীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয়। ইহুদী এবং আরব মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে।

এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যেভাবে লাখ লাখ ইহুদীকে হত্যা করা হয় (হলোকাস্ট) তার পর ইহুদীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চাপ বাড়তে থাকে।

ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা অঞ্চলটি তখন ফিলিস্তিনি আর ইহুদীদের মধ্যে ভাগ করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল।

কিন্তু পরদিনই মিশর, জর্দান, সিরিয়া এবং ইরাক মিলে অভিযান চালায় ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে থাকা অঞ্চলে। সেটাই ছিল প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। ইহুদীদের কাছে এটি স্বাধীনতার যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।

জাতিসংঘ প্যালেস্টাইনে আরবদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে অঞ্চলটি বরাদ্দ করেছিল, এই যুদ্ধের পর তার অর্ধেকটাই চলে যায় ইসরায়েল বা ইহুদীদের দখলে।

ফিলিস্তিনের জাতীয় বিপর্যয়ের শুরু সেখান থেকে। এটিকেই তারা বলে 'নাকবা' বা বিপর্যয়। প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে হয়। ইহুদী বাহিনী তাদেরকে বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছেদ করে।

কিন্তু আরব আর ইসরায়েলিদের মধ্যে এটা ছিল প্রথম যুদ্ধ মাত্র। তাদের মধ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের সূচনা হলো মাত্র।

১৯৫৬ সালে যখন সুয়েজ খাল নিয়ে সংকট তৈরি হয়, তখন ইসরায়েল মিশরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কিন্তু সেই সংকটে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ব্রিটেন, ইসরায়েল আর ফ্রান্সকে পিছু হটতে হয়। ফলে যুদ্ধের মাঠ কোন কিছুর মীমাংসা সেই সংকটে হয়নি।

এরপর এলো ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ। ৫ই জুন হতে ১০ই জুন পর্যন্ত এই যুদ্ধে যা ঘটেছিল, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছিল পরবর্তীকালে।

ইসরায়েল বিপুলভাবে জয়ী হয় এই যুদ্ধে। তারা গাজা এবং সিনাই উপদ্বীপ দখল করে নেয় যা কীনা ১৯৪৮ সাল হতে মিশরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে পূর্ব জেরুসালেম-সহ পশ্চিম তীরও তারা দখল করে নেয় জর্দানের কাছ থেকে। সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করে গোলান মালভূমি। আরও পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি-ঘর ফেলে পালাতে হয়।

আরব-ইসরায়েল সংঘাতের ইতিহাসে এর পরের যুদ্ধটি 'ইয়োম কিপুর' যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরের এই যুদ্ধের একদিকে ছিল মিশর আর সিরিয়া, অন্যপক্ষে ইসরায়েল। মিশর এই যুদ্ধে সিনাই অঞ্চলে তাদের কিছু হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করে। তবে গাজা বা গোলান মালভূমি থেকে ইসরায়েলকে হটানো যায়নি।

কিন্তু এই যুদ্ধের ছয় বছর পর ঘটলো সেই ঐতিহাসিক সন্ধি। মিশর প্রথম কোন আরব রাষ্ট্র যারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করলো। এর পর তাদের পথ অনুসরণ করলো জর্দান।

কিন্তু তাই বলে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হলো না। গাজা ভূখন্ড যেটি বহু দশক ধরে ইসরায়েল দখল করে রেখেছিল, সেটি ১৯৯৪ সালে তারা ফিলিস্তিনিদের কাছে ফিরিয়ে দিল। সেখানে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বড় ধরণের লড়াই হয় ২০০৮, ২০০৯, ২০১২ এবং ২০১৪ সালে।

২. মধ্যপ্রাচ্যে কেন ইসরায়েলে প্রতিষ্ঠা করা হয়?

ইহুদীরা বিশ্বাস করে বাইবেলে বর্ণিত পিতৃপুরুষ আব্রাহাম এবং তার বংশধরদের জন্য যে পবিত্রভূমির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, আজকের আধুনিক ইসরায়েল সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই অবশ্য এই ভূমি নিয়ে সংঘাত চলছে। আসিরিয়ান, ব্যাবিলোনিয়ান, পার্সিয়ান, ম্যাসিডোনিয়ান এবং রোমানরা সেখানে অভিযান চালিয়েছে, সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। রোমানরা সেখানে 'জুডেয়া' বলে একটি প্রদেশ তৈরি করেছিল।

তবে এই 'জুডেয়া' প্রদেশের ইহুদীরা বেশ কয়েকবার বিদ্রোহ করেছেন। রোমান সম্রাট হাড্রিয়ানের আমলে ১৩৫ খ্রিস্টাব্দে এক বিরাট জাতীয়তাবাদী ইহুদী বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। তিনি সে দমন করেন। এরপর তিনি জুডেয়া এবং রোমানদের অধীন সিরিয়াকে যুক্ত করে তৈরি করেন এক নতুন প্রদেশ, যার নাম দেয়া হয় সিরিয়া-প্যালেস্টাইন।

এসব যুদ্ধ-বিগ্রহের ফলে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। সেখানে ইহুদীদের ব্যাপক হারে হত্যা করা হয়। অনেকে নির্বাসিত হয়। অনেক ইহুদীতে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়।

অস্টম শতকে যখন ইসলামের উত্থান ঘটলো, প্যালেস্টাইন জয় করলো আরবরা। এরপর অবশ্য ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা সেখানে অভিযান চালায়। ১৫১৬ সালে এই এলাকায় শুরু হয় তুর্কি আধিপত্য। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি এক নাগাড়ে শাসন করেছে তারা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর লীগ অব নেশন্স প্যালেস্টাইন তুলে দেয় ব্রিটিশদের হাতে। সেখানে ব্রিটিশ শাসন চলেছে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে যে ইহুদী নিধনযজ্ঞ (হলোকাস্ট) চলে, তার শিকার হন লাখ লাখ ইহুদী। একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং এর স্বীকৃতির জন্য তখন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে।

কিন্তু আরব আর ইহুদীদের মধ্যে এ নিয়ে যে বিরোধ, ব্রিটিশরা তার কোন সমাধান করতে পারছিল না। তারা বিষয়টি নিয়ে জায় জাতিসংঘে। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার জন্য জাতিসংঘ একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে।

১৯৪৭ সালের ২৯শে নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্যালেস্টাইন ভাগ করার এক পরিকল্পনা অনুমোদন করে। এই পরিকল্পনায় একটি আরব এবং একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল আর জেরুসালেম নগরীর জন্য একটি বিশেষ কৌশল গ্রহণের কথা বলা হয়।

পরিকল্পনাটি মেনে নিয়েছিল ইসরায়েল, কিন্তু প্রত্যাখ্যান করেছিল আরবরা। এই পরিকল্পনাকে আরবরা দেখছিল তাদের ভূমি কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে।

কিন্তু প্যালেস্টাইনের ওপর ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে ইহুদীরা ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিল।

পরের দিনই ইসরায়েল জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন জানালো, যা গৃহীত হলো এক বছর পর। জাতিসংঘের ১৯২ টি দেশের ১৬০টি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

৩. ফিলিস্তিনরা দুটি আলাদা ভুখন্ডে ভাগ হয়ে আছে কেন?

১৯৪৭ সালে প্যালেস্টাইন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছিল একটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে "পশ্চিম গ্যালিলি, সামারিয়া এবং জুডেয়ার পার্বত্য অঞ্চল, তবে জেরুসালেম নগরী এবং মিশর সীমান্ত পর্যন্ত ইসডুডের উপকূলীয় সমভূমি এর মধ্যে পড়বে না।"

কিন্তু আজকের ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের বিভাজন মূলত নির্ধারিত হয়েছে প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালের যুদ্ধবিরতির রেখা বরাবর।

ওয়েস্ট ব্যাংক বা পশ্চিম তীর (৫,৯৭০ বর্গ কিলোমিটার) এবং গাজা ভূখন্ড (৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার) হচ্ছে দুটি প্রধান ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকা। এই দুই ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের সবচেয়ে নিকটবর্তী দুটি এলাকার মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

ওয়েস্ট ব্যাংক বা পশ্চিম তীরকে এই নামে ডাকা হয় কারণ এটি জর্দান নদী এবং ডেড সীর পশ্চিম তীরে। জেরুসালেম পর্যন্ত এর বিস্তার। যে জেরুসালেম নগরীকে কীনা ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি- উভয়েই তাদের রাজধানী বলে দাবি করে।

পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করে ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি সরকার। ধর্মনিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি দল ফাতাহ এই ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের মূল শক্তি বা দল।

আর গাজার সঙ্গে রয়েছে ইসরায়েলের ৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। মিশরের সঙ্গেও গাজার ৭ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। গাজার অন্যদিকে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূমধ্যসাগর উপকূল।

গাজা এখন নিয়ন্ত্রণ করে হামাস। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল হামাস। অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে হামাস তাকে স্বীকৃতি দেয় না।

৪. ইসরায়েলি আর ফিলিস্তিনিরা কি কখনো কোন শান্তি চুক্তি করেছে?

ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যখন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেল, তখন ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে পশ্চিম তীর এবং গাজায়। সেখানে ফিলিস্তিনিরা বিভিন্ন দলে সংগঠিত হয়ে সংগ্রাম শুরু করে। গাজা নিয়ন্ত্রণ করতো মিশর। আর পশ্চিম তীর ছিল জর্দানের নিয়ন্ত্রণে। অন্য কিছু আরব দেশেও ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় শিবির তৈরি হয়।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু আগে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো মিলে গঠন করে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গেনাইজেশন (পিএলও)। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল ছিল ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহ। পিএলও গঠিত হওয়ার পর এর বাহিনী ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ শুরু করে। প্রথমে তারা হামলা চালায় জর্দান থেকে। এরপর লেবানন থেকে।

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের নানা ধরণের টার্গেট লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। ইউরোপেও ছিল কিছু টার্গেট। বিমান, দূতাবাস থেকে শুরু করে ইসরায়েলি অ্যাথলীটদের ওপর হামলা চলে।

ফিলিস্তিনিরা একের পর এক ইসরায়েলি টার্গেটে হামলা করছিল। আর ইসরায়েল আবার পাল্টা ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছিল টার্গেট করে। দুপক্ষের এই 'যুদ্ধ' চলে বহু বছর ধরে।

এরপর ১৯৯৩ সালে পিএলও এবং ইসরায়েল একটি শান্তি চুক্তিতে সই করে। অসলো শান্তি চুক্তি নামে পরিচিত এটি। পিএলও সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদের পথ পরিহার করে ইসরায়েলের অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং শান্তির অঙ্গীকার করে। তবে হামাস কখনোই এই চুক্তি মানেনি।

চুক্তি অনুসারে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে তাদের দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রতিশ্রুতি কখনোই বাস্তবায়ন করেনি। তারা বরং অধিকৃত এলাকায় ইহুদী বসতি গড়ে তোলে।

এই ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি শান্তি চুক্তির অধীনেই গঠিত হয়েছিল 'প্যালেস্টিনিয়ান ন্যাশনাল অথরিটি' বা ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষ। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি সরকার।

সরাসরি ভোটে এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের নিয়োগ করেন।

জেরুসালেম যদিও ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের অন্যতম উৎস, তারপরও এই অসলো শান্তি চুক্তিতে জেরুসালেমের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

২০১৫ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে ঘোষণা দেন, তারা আর এই শান্তি চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য নন, কারণ ইসরায়েল এই চুক্তি মেনে চলেনি। তিনি আরও বলেন, একটি দখলদারি শক্তি হিসেবে এখন সবকিছুর দায়িত্ব ইসরায়েলের ঘাড়েই বর্তাবে।

৫. ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলিদের মধ্য বিরোধের মূল বিষয়গুলো কী?

একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিলম্ব, পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি নির্মাণ অব্যাহত রাখা এবং ফিলিস্তিনি ও ইহুদী এলাকার মধ্যে নিরাপত্ত প্রাচীর তৈরি করা--এগুলি শান্তি প্রক্রিয়াকে বেশি জটিল করে ফেলেছে। যদিও দ্য হেগের আন্তর্জাতিক আদালত পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে শান্তির পথে এগুলোই একমাত্র বাধা নয়। বিল ক্লিনটন যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তখন ক্যাম্প ডেভিডে ২০০০ সালে তিনি যে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেখানে এর ব্যর্থতার আরও অনেক কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত সেই বৈঠকে একমত হতে পারেননি আরও অনেক বিষয়ে।

যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য:

জেরুসালেম: ইসরায়েল দাবি করে জেরুসালেমের ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে তারা পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়। এরপর থেকে তারা জেরুসালেমকে তাদের রাজধানী বলে গণ্য করে। কিন্তু এর কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুসালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে চায়।

সীমান্ত এবং এলাকা নিয়ে বিরোধ: ফিলিস্তিনিরা চায় ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের আগে যে সীমান্ত ছিল, সেই সীমানার ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হবে। ইসরায়েল এটা মানতে নারাজ।

ইহুদী বসতি: ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল যেসব ফিলিস্তিনি এলাকা দখল করে নিয়েছিল, সেখানে তারা অনেক ইহুদী বসতি গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ। কেবল পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেমেই এখন বসতি গেড়েছে পাঁচ লাখের বেশি ইহুদী।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী: ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেখান থেকে বাড়ী-ঘর ছেড়ে পালিয়ে এসেছিল লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। এরা ইসরায়েলের ভেতর তাদের বাড়ীঘরে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করে আসছে। পিএলও'র হিসেবে এই ফিলিস্তিনি এবং তাদের বংশধরদের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ছয় লাখ। কিন্তু ইসরায়েল এই অধিকারের স্বীকৃতি দিতে চায় না। তাদের আশংকা, এত বিপুল সংখ্যাক ফিলিস্তিনি যদি ইসরায়েলে ফিরে আসে, তাদের রাষ্ট্রের ইহুদী চরিত্র আর ধরে রাখা যাবে না।

৬. ফিলিস্তিন কি কোন দেশ?

২০১২ সালের ২৯শে নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব ভোটে পাশ হয়। এতে ফিলিস্তিনিদের 'নন মেম্বার অবজারভার স্টেট' বা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয়া হয়।

এর ফলে ফিলিস্তিনিরা এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তারা জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠাগুলোর কাজেও অংশ নিতে পারে।

২০১১ সালে অবশ্য একটি পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আপত্তির কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

কিন্তু জাতিসংঘের স্বীকৃতি না মিললেও এই বিশ্ব সংস্থার ৭০ ভাগ সদস্য রাষ্ট্রই ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। (সাধারণ পরিষদের ১৯২ টি দেশের ১৩৪টি দেশ)।

২০১৫ সালের সেপেম্বরে জাতিসংঘ সদর দফরের বাইরে ফিলিস্তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলনেরও স্বীকৃতি মিলে।

৭. যুক্তরাষ্ট্র কেন ইসরায়েলের প্রধান মিত্র? আর ফিলিস্তিনের সমর্থক কারা?

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের পক্ষে রয়েছে খুবই ক্ষমতাধর একটি লবি। সেখানে জনমতও ইসরায়েলের পক্ষে। এর ফলে কোন প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইসরায়েলেও ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়া কঠিন।

২০১৩ সালে বিবিসি ২২টি দেশে একটি জরিপ চালিয়েছিল। সেই জরিপে দেখা যায়, পুরো পশ্চিমা দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে একমাত্র দেশ, যেখানে জনমত ইসরায়েলের পক্ষে সহানুভূতিশীল।

শুধু তাই নয়, এই দুইদেশ ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সাহায্য পায় ইসরায়েল। এই সাহায্যের একটা বড় অংশই খরচ হয় ইসরায়েলের জন্য সামরিক অস্ত্র কেনার জন্য।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের পক্ষে খোলাখুলি সমর্থন যোগানোর মতে একটি বৃহৎ শক্তিও নেই।

ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এক সময় মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো। কিন্তু মিশরের সেনাবাহিনী ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যূত করার পর সেখান থেকে হামাস আর কোন সমর্থন পায় না।

হামাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এখন সিরিয়া, ইরান এবং লেবাননের হেযবোল্লাহ গোষ্ঠী। ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল বিশ্বের আরও অনেক দেশ। কিন্তু এই সহানুভূতি কাজে পরিণত হয় কম।

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন যে অস্থিরতা, তার কারণেও ফিলিস্তিনিদের ইস্যুটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরে গেছে।

৮. ফিলিস্তিনি এলাকায় সর্বশেষ দফা সহিংসতার পেছনে কি?

কিছুদিনের তুলনামূলক শান্তির পর গত ১৪ই মে, ২০১৮ হতে আবার ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়েছে গাজায়। সেদিন অন্তত ৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয় ইসরায়েলি হামলায়। আহত হয় তিন হাজারের বেশি।

গত ছয় সপ্তাহে একশোর বেশি ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী ইসরায়েলি সৈন্যদের গুলি এবং বোমায় নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের এই বিক্ষোভের নাম দিয়েছে 'গ্রেট মার্চ টু রিটার্ন'। অর্থাৎ নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়ার মিছিল।

১৪ই মে ছিল ‌ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৭০তম বার্ষিকী। আর ফিলিস্তিনিরা সেই দিনটি পালন করে 'নাকবা' বা বিপর্যয় হিসেবে। কারণ ঐ দিনই প্রায় সাত লাখ ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের ভেতর থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছিল তাদের বাড়িঘর ফেলে।

আর ঠিক এরকম এক স্পর্শকাতর দিনেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস সরিয়ে নিচ্ছিল জেরুসালেমে। এটি ফিলিস্তিনিদের সাংঘাতিক ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল।

ফিলিস্তিনিরা মনে করে পূর্ব জেরুসালেম হবে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী। আর যুক্তরাষ্ট্রে তাদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নিয়ে কার্যত পুরো নগরীরর ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে।

৯: তাহলে কি এখন আমরা আরেকটি 'ইন্তিফাদা'র সূচনা দেখছি?

ফিলিস্তিনিরা এর আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দুটি গণঅভ্যুত্থান বা 'ইন্তিফাদা' ঘটিয়েছে। প্রথমটি ১৯৮০র দশকে। পরেরটি ২০০০র এর শুরুর বছর গুলিতে।

১৯৮৭ সালের প্রথম ইন্তিফাদার সময় ফিলিস্তিনিরা ছিল কার্যত নিরস্ত্র। ফিলিস্তিনি তরুণ এবং কিশোররা পাথর ছুড়ে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর মোকাবেলা করছে, এই দৃশ্য অনেক ছবিতেই দেখা যাবে।

২০০০ সাল হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ইন্তিফাদা ছিল অনেক বেশি রক্তাক্ত। তিন হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয় সেই সময়। ইসরায়েলিদেরও হারাতে হয় এক হাজার সৈন্য।

গাজায় সম্প্রতি যে বিক্ষোভ দেখা গেছে তা সেখানে ধূমায়িত হতে থাকা ক্ষোভ এবং হতাশার বহিপ্রকাশ বলে মনে করা হয়। কারণ শান্তি প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতিতে ব্যাপকভাবে হতাশ ফিলিস্তিনিরা।

শতাধিক ফিলিস্তিনির প্রাণহানির পর এখন ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তৃতীয় ইন্তিফাদা শুরু হয় কীনা, সে প্রশ্ন উঠছে। অনেকের ধারণা, এটি গাজা থেকে পশ্চিম তীরেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

১০. কী ঘটলে দুপক্ষের মধ্যে টেকসই শান্তি আসবে?

ফিলিস্তিনিদের দিক থেকে দেখলে, এজন্যে প্রথমেই ইসরায়েলকে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকার করে নিতে। এতে হামাসও থাকবে। গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেমে ফিলিস্তিনেদের চলাফেরার ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি হচ্ছে,এজেন্য আগে সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীকে সহিংসতার পথ ত্যাগ করতে হবে এবং রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

এরপর রয়েছে সীমানা এবং ভূমি নিয়ে বিরোধ। আছে ইহুদী বসতি এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার অধিকারের প্রশ্ন।

এসব প্রশ্নেও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার দরকার হবে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অনেক কিছু্ই বদলে গেছে। বিশেষ করে আরব এবং ইসরায়েলিদের মধ্যে অনেক যুদ্ধের পর বিরোধপূর্ণ অঞ্চলগুলির চেহারাই পাল্টে গেছে।

ইসরায়েল যেহেতু অধিকৃত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণে, তাই এর ভিত্তিতেই দরকষাকষি করতে চায় তারা। কিন্তু ফিলিস্তিনিরা দাবি করছে, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের আগে যে সীমানা ছিল, সেই সীমানার ভিত্তিতেই তাদের রাষ্ট্র হবে।

আর পশ্চিম তীরে ইসরায়েল যে অবৈধ বসতি নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে, সেটা নিয়ে নীরব লড়াই তো চলছেই।

তবে সবচেয়ে জটিল বিষয় মনে হয় জেরুসালেম নগরীর প্রতীকি গুরুত্ব।

পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস, উভয়েই চায় পূর্ব জেরুসালেম হবে তাদের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী। যদিও ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল হতে এটি দখল করে রেখেছে।

এই বিরোধের নিরসন ছাড়া হয়তো একটা চূড়ান্ত সমাধান কোনদিনই সম্ভব হবে না। অন্যান্য বিরোধের ক্ষেত্রে হয়তো আপোসের জায়গা আছে, কিন্তু জেরুসালেমের বেলায় নেই।

আর মৃতপ্রায় শান্তিপ্রক্রিয়াকে যে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে, সেটাও মনে হচ্ছে না।

সত্যি কথা বলতে কি, সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এই পুরোনো বিরোধের মীমাংসার জন্য এত কম চেষ্টা আর কখনো দেখা যায়নি।

আর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু - এই দুজনের কেউই যে চুক্তিতে পৌছানোর জন্য দরকারি কোন ছাড় দেবেন--সেটা কেউই বিশ্বাস করেন না।