শেয়ার বাজার

কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার রাশিয়ার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৩ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার রাশিয়ার

কৃষ্ণ সাগরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা হয়েছে। বিধ্বস্ত সেই জাহাজটি থেকে ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে রাশিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনী।

গত কাল মঙ্গলবার ঘটেছে এ ঘটনা। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাইবেরিয়ার পতকাবাহী আফরাম্যাক্স রিও নামের সেই জাহাজটিতে নাভাল (সমুদ্রে ব্যবহারের উপযোগী) ড্রোন আঘাত হেনেছিল। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যে সেই আগুন পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়েছিল।

“মোট ২৩ জন নাবিক ছিলেন জাহাজটিতে। রাশিয়ার কোস্টগার্ড বাহিনীর উদ্ধারকারী টিম যখন জাহাজটির কাছে পৌঁছায়, সে সময় পুরো জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। জাহাজে মোট ২৩ জন নাবিক ছিলেন এবং তারা সবাই ভারতীয়। আগুনের তেজের কারণে তাদের উদ্ধার করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, তবে সবাইকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

নাবিকদের উদ্ধারের পর দমকল বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায় বলে জানানো হয়েছে রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

সামাজিক যোগাাযোগমাধ্যমে জ্বলতে থাকা সেই জাহাজটির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। সেসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সাগরের বুকে পানিতে জাহাজটি দাউদাউ করে জ্বলছে এবং কালো ধোঁয়ার বিশাল কুন্ডলি উঠছে সেই জাহাজটি থেকে।

হামলাটি ঘটেছে কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী রুশ রিসোর্ট শহর সোচি’র কাছাকাছি সাইরিয়াস এলাকায়। এ ঘটনার পর সাইরিয়াসের সবগুলো সাগরতীরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে এটি যে ইউক্রেন ঘটিয়েছে— তা মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রুশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সাথে জড়িত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে ট্যাঙ্কারটি এর আগেই ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।


সূত্র : এএফপি, ফার্স্টপোস্ট

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেষ ভাষণে যুদ্ধ-এআই-জলবায়ু সংকটে জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব গুতেরেসের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে সাধারণ পরিষদে শেষবারের মতো ভাষণ দিতে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে যুদ্ধ বন্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি মোকাবিলা, জলবায়ু সংকট এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন অ্যান্তনিও গুতেরেস। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘও চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিদায়ী ভাষণ দেন পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ পাঁচ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশকের জাতিসংঘ নেতৃত্বেরও অবসান ঘটতে যাচ্ছে তার।

বিদায়ী ভাষণে এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহার নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত তদারকির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস। তার বক্তব্যের সময় জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ এআই খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গুতেরেস বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর উচিত নিরাপত্তা ঝুঁকি-সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করা। এআইয়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা জোরদারে বিশ্বনেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তদারকির আওতায় বহুপাক্ষিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন গুতেরেস। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগে ৩৯ সদস্যের একটি এআইবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ যুক্ত ছিলেন। একই বছর নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে। সে সময় চীন প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বিকশিত হতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে দমন করার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছিল।

বিদায়ী ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে হুতিদের অগ্রগতির কারণে নৌপথ হুমকির মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ এখনই বন্ধ করতে হবে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিজের এক দশকের মেয়াদে যেসব বিষয়ে জোর দিয়ে এসেছেন, বিদায়ী ভাষণেও সেগুলোর ওপর গুরুত্ব দেন গুতেরেস। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান, জলবায়ু সংকটে দূষণকারীদের দায় ও ক্ষতিপূরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

এ সময় জাতিসংঘের ভেতরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংকটের কথাও উল্লেখ করেন গুতেরেস। তার ভাষ্য, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অতীতের ক্ষমতার কাঠামো ও স্বার্থের বাস্তবতাকে ধারণ করে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ১৩০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেননি।

গুতেরেসের প্রায় এক দশকের নেতৃত্বে জাতিসংঘকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি এআইয়ের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই সময়ে বিভিন্ন পরাশক্তির জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত তহবিল কমানোর মতো চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

এর মধ্যে রোববার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলতি সপ্তাহের বৈঠকে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন নতুন এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। দুই দেশের কৌশলগত আলোচনার অংশ হিসেবে তৈরি ওই প্রস্তাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এআই-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদায়ী ভাষণের শেষ পর্যায়ে গত ১০ বছর পাশে থাকা বিশ্বনেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গুতেরেস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মহাসচিবের দায়িত্বে না থাকলেও শান্তি সম্ভব—এই বিশ্বাসের পক্ষে তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের মূল মূল্যবোধের পক্ষে তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না।


ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ৮৫ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের ৮৫ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, "আমাদের জবাব আজ থেকে শুরু হল।”

বাইডেন বলেন, ‌‘আমার নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া আজ থেকে শুরু হলো। আমাদের পছন্দমতো সময়ে ও জায়গায় এটি চলতে থাকবে।’

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের ৮৫টি বেশি লক্ষ্যবস্তুতে তাদের সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়েছে। একাধিক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরপাল্লার বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানায় তারা।


গত রোববার (২৮ জানুয়ারি) জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত হন। জর্ডানে ওই হামলার জন্য ইরান–সমর্থিত একটি সশস্ত্র গ্রুপকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় তিনজন নিহত ছাড়াও আহত হন আরও ২৫ জন সেনা সদস্য।

আরও পড়ুন: সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানপন্থি ১৮ যোদ্ধা নিহত

ওই হামলার পর কঠোর প্রতিশোধের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিরিয়া ও ইরাকে অবস্থিত ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অনুমোদনের পরদিনই দুই দেশে হামলা চালিয়ে বসলো মার্কিন সামরিক বাহিনী।

খবর: আল-জাজিরার।


সিএনএনের বিশ্লেষণ
সচল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, প্রকাশ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬

সচল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, প্রকাশ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা

দ্রুতগতিতে চাপা পড়ে যাওয়া অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করায় আবারও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা মার্কিন বোমা হামলা কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথ এবং সংযোগ সড়ক ধ্বংস করা হয়েছিল। ফলে এসব ঘাঁটিতে প্রবেশ ও অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

তবে সিএনএনের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত টানেল ও প্রবেশপথ পুনরুদ্ধার করছে ইরান। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কেবল টানেলের মুখ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

যুদ্ধ চলাকালে প্রবল ঝুঁকি নিয়েও টানেলের প্রবেশপথ খনন ও পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যায় ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায়ই এসব কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবুও ইরান সীমিত পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। সাত সপ্তাহ আগে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি টানেল প্রবেশপথের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০টিই পুনরায় চালু করেছে ইরান।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকায় লঞ্চার ও অপারেটর থাকলে ইরান হামলা চালিয়ে যেতে পারবে। তার ভাষ্য, 'ইরানের হাতে এখনো বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ব্যবহার ঠেকানোর মতো কোনো বাধা নেই।'

স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কও মেরামত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে পিচ ঢালাইও করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনের অনুসন্ধান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।'

যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ। গত মার্চে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, লঞ্চার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পূর্ণ অকার্যকর করাকে যুদ্ধের পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মিত ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো শত শত মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেগুলোতে সরাসরি হামলা চালানো অত্যন্ত কঠিন। ফলে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত প্রবেশপথ ও লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা সাময়িকভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব ঘাঁটির গভীরে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং ভূপৃষ্ঠে পরিচালিত হামলায় সেগুলোর খুব বেশি ক্ষতি হয়নি।

জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির গবেষক তৈমুর কাদিশেভ বলেন, 'এ ধরনের যুদ্ধের জন্য ইরান ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা আগের তুলনায় আরও বেশি প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।'

দ্রুত পুনর্গঠনে উদ্বেগ

ইস্পাহানের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময় চারটি টানেল প্রবেশপথ বন্ধ করতে বহুবার হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি প্রবেশপথ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং ধ্বংস হওয়া সড়কও সংস্কার করা হয়েছে।

খোমেইনের বাইরে আরেকটি ঘাঁটিতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে অন্তত ১০টি নির্মাণযান প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ছিল বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরায় সচল হওয়ায় ইরানের সামরিক হুমকি নতুন করে জোরালো হতে পারে, বিশেষকরে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রের মজুতও ধীরে ধীরে কমে আসছে।

এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলোতে হামলা চালানো হলেও ইরান দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তেহরান ইতোমধ্যে ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, 'পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ধারিত সব সময়সীমাকেই ছাড়িয়ে গেছে ইরান।' 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র দিয়ে যে ক্ষতি করা হয়, সাধারণ বুলডোজার ও নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করেই তার বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারা ইরানের অন্যতম কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠেছে।