শেয়ার বাজার

আওয়ামী লীগের আমলে এক জেলাতেই এলজিআরডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

আওয়ামী লীগের আমলে এক জেলাতেই এলজিআরডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট: মির্জা ফখরুল

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের মাত্র একটি জেলাতেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিআরডি) থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। বলেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৩ মে) বিকেলে রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রকৌশলীদের এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আমাদের খুব দুঃখ হয় যখন দেখি তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে, অথচ বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। আর এই বিশাল অংকের দুর্নীতিটি হয়েছে এই এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকেই। ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে যেন এমন নজিরবিহীন লুটপাট ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে, সেজন্য দেশের সকল প্রকৌশলীকে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সাথে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কারের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই এ দেশের মানুষকে বারবার গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে হয়েছে। তবে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন ও নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়। সেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব এখন সবার।

সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

বার্তাবেলা ডেস্ক: সমুদ্রসীমার সম্পদ আহরণ করে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪ (অ্যাক্ট নং ২৬, ১৯৭৪)’ প্রণয়নের ৫০ বছর পূর্তিতে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আছে তরুণ সমাজ। এরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের পথ দেখালেই বীরদর্পে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা সেটাই চাই।

এসময় বিভিন্ন দেশের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শান্তি প্রগতি ও উন্নতির পথ দেখায়, জাতিকে অগ্রগরমান করে, উন্নত জীবন দেয়। আমরা সেজন্য শান্তি চাই। যুদ্ধ চাই না। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেটি আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেখানে রেখে গেছেন, বাংলাদেশ সেখানে থমকে গিয়েছিল। আমরা আবার সেখান থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। আমরা চাই, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তুলতে চাই। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াবো। মর্যাদা নিয়ে চলবো। সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে রেখেছি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী করে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, খনিজ সম্পদসহ সব আমাদের উত্তোলন করতে হবে। কাজে লাগাতে হবে। এজন্য যথাযথ বিনিয়োগও প্রয়োজন। এজন্য আলাপ আলোচনা করছি। আন্তর্জাতিক টেন্ডারও দিয়েছি। আমরা বিশাল সমুদ্রসীমার যথাযথ ব্যবহার করে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।

এসময় তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা আসুন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। আমাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বিনিয়োগ করে আপনারাও লাভবান হবেন।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবো না। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সামর্থ্য থাকতে হবে। ফোর্সেস গোল তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

সমুদ্র এলাকার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্র এলাকায় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে। মাতারবাড়িতে ডিপ সি পোর্ট করেছি। পায়রা সি পোর্ট করছি। এটা থেকে সমুদ্র বেশি দূরে না। এটার একটা ভবিষ্যৎ আছে। আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। তাড়াহুড়া করছি না। ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে নৌবাহিনী কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জাতির পিতা অনুভব করেছেন। আমি এই নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে রূপান্তর করেছি। অনেকে বলে, এটা কী দরকার ছিল। আমরা ছোট দেশ। আমরা কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে অনেক বড়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫ সালের পরের সরকার আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশাল সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি, কোনো রকম উদ্যোগ নেয়নি। আমাদের স্থল সীমানা চুক্তিও জাতির পিতা করে দিয়ে যান। সংবিধান সংশোধন করে সে চুক্তি বাস্তবায়ন করে দিয়ে যান। পরে সেটি আর কার্যকর হয়নি। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি এবং এ নিয়ে কাজ শুরু করি। এটি করতে হয় গোপনীয়ভাবে। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, এই নীতি মেনে চলেছি। পাশাপাশি আমাদের অধিকারটা আদায়েও সচেতন হই। উদ্যোগ নিই।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা আমাদের আছে। এটি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারবে। আজকের দিনের এই সেমিনার আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার ও সব সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা এবং সহায়ক ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে। সমুদ্রপথ সবাই ব্যবহার করছে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাত হয়নি, শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কখনোই সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ হবে না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যাবো।

আনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নিহত ৭ বছরের শিশু রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ৯টায় মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। 


প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। 

পুলিশ প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীকালে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সোহেল রানা।  

উল্লেখ্য, এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে। 


সাপের কামড়ে আহত মেয়েকে বাঁচাতে বস্তায় ভরে সাপসহ হাসপাতালে বাবা!

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাপের কামড়ে আহত মেয়েকে বাঁচাতে বস্তায় ভরে সাপসহ হাসপাতালে বাবা!

রান্নাঘরে কাজ করার সময় সাপের কামড়ের শিকার হন শেরপুরের নকলা উপজেলার এক তরুণী। চিকিৎসকদের দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য এক দারুণ বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছেন তার বাবা। মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বস্তায় ভরে সেই সাপটিকেও সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শেরপুরের নকলা পৌর শহরের দড়িপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণীর নাম রিয়া মণি (২০), তিনি ওই গ্রামের আকাব্বর আলীর মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে রান্নাঘরে কাজ করার সময় রিয়া মণিকে সাপে কামড় দেয়। তার আত্মচিৎকারে পরিবারের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। এ সময় আকাব্বর আলী দেখতে পান রান্নাঘরের এক কোণে সেই সাপটি লুকিয়ে রয়েছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তিনি মাছ ধরার কোচ দিয়ে সাপটিকে নিরাপদে ধরে একটি বস্তাবন্দি করেন।

বস্তায় সাপ ও মেয়েকে নিয়ে দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান আকাব্বর আলী। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তবে সাপটি দেখে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, রিয়া মণিকে কামড়ানো সাপটি বিষধর ছিল না।

তবে সাপের কামড়ের আকস্মিকতায় মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। অতিরিক্ত ভয়ের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি না ঘটিয়ে স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে রিয়া মণি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আকাব্বর আলী বলেন, “মেয়ের জীবন নিয়ে চরম আশঙ্কায় ছিলাম। সাপটি কোন প্রজাতির, তা চিকিৎসকরা দেখলে দ্রুত বুঝতে পারবেন—এই চিন্তা থেকেই মাছ ধরার ব্যাগে করে সাপটি সঙ্গে নিয়েছিলাম।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপে কাটলে ওঝা-বৈদ্যের কাছে সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। তবে এই ঘটনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে সাপটিকে সঙ্গে নেওয়ায় চিকিৎসকদের জন্য রোগ নির্ণয় করা অনেক সহজ হয়েছে।