শেয়ার বাজার

এবার আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

এবার আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষিত এ পদক্ষেপের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কাজকে দুর্বল করাই এ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য। তবে আদালতের তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। আদালতটির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগে আদালতের কয়েকজন কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবারের পদক্ষেপে আদালতকে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না। এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। আমরা এই অবাধ্য আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করব, তাদের সম্পদপ্রাপ্তি বন্ধ করব এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব।’

আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা। এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির অতীত তদন্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের আপত্তি রয়েছে। আদালত অবশ্য জানিয়েছে, ওই তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

বিশ্বের ১২৫টি দেশ আইসিসির সদস্য। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ রয়েছে। ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া অন্য দেশগুলোও আদালতটির সদস্য। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত এ আদালত আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কিছু লেনদেনে ছাড়

নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। এর মাধ্যমে আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আদালতের আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এর ফলে ব্যাংক হিসাব বন্ধ, বিমা সেবা প্রত্যাহার এবং সফটওয়্যার সরবরাহ বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তা প্রত্যাহার করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়।

এবার আদালতটির ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় আইসিসি কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে দপ্তরের কম্পিউটারে মাইক্রোসফটের সফটওয়্যারের পরিবর্তে উন্মুক্ত উৎসের বিকল্প সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে।

আইসিসির রেজিস্ট্রার ওসভালদো জাভালা গিলার চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি ‘ব্লকিং মেকানিজম’ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানান। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মিত্রদেরও আইসিসির ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান

মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসি এবং আদালত প্রতিষ্ঠার রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সমাধানের সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে বন্ধ করে দেব। আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা—যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল—আদালটিকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’

রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে পদক্ষেপটি সাজিয়েছে, যাতে আইসিসির সদস্য দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন উদ্বেগের সমাধান দিতে পারে। এসব উদ্যোগ সফল না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইয়ের সঙ্গে আইসিসির সম্পর্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন এ পুরস্কারের মাধ্যমে সেসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে তারা।

কমিটির ভাষ্য, যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে—এমন আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।

সূত্র: রয়টার্স

সিএনএনের বিশ্লেষণ
সচল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, প্রকাশ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬

সচল ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, প্রকাশ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা

দ্রুতগতিতে চাপা পড়ে যাওয়া অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করায় আবারও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের দিকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা অর্জনের পথে রয়েছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা মার্কিন বোমা হামলা কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর প্রবেশপথ এবং সংযোগ সড়ক ধ্বংস করা হয়েছিল। ফলে এসব ঘাঁটিতে প্রবেশ ও অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

তবে সিএনএনের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত টানেল ও প্রবেশপথ পুনরুদ্ধার করছে ইরান। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কেবল টানেলের মুখ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

যুদ্ধ চলাকালে প্রবল ঝুঁকি নিয়েও টানেলের প্রবেশপথ খনন ও পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যায় ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায়ই এসব কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবুও ইরান সীমিত পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। সাত সপ্তাহ আগে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার ৬৯টি টানেল প্রবেশপথের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০টিই পুনরায় চালু করেছে ইরান।

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকায় লঞ্চার ও অপারেটর থাকলে ইরান হামলা চালিয়ে যেতে পারবে। তার ভাষ্য, 'ইরানের হাতে এখনো বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ব্যবহার ঠেকানোর মতো কোনো বাধা নেই।'

স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কও মেরামত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন করে পিচ ঢালাইও করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনের অনুসন্ধান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।'

যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ। গত মার্চে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, লঞ্চার ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পূর্ণ অকার্যকর করাকে যুদ্ধের পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্মিত ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো শত শত মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেগুলোতে সরাসরি হামলা চালানো অত্যন্ত কঠিন। ফলে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত প্রবেশপথ ও লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা সাময়িকভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব ঘাঁটির গভীরে এখনো প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং ভূপৃষ্ঠে পরিচালিত হামলায় সেগুলোর খুব বেশি ক্ষতি হয়নি।

জার্মানির হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির গবেষক তৈমুর কাদিশেভ বলেন, 'এ ধরনের যুদ্ধের জন্য ইরান ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা আগের তুলনায় আরও বেশি প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।'

দ্রুত পুনর্গঠনে উদ্বেগ

ইস্পাহানের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময় চারটি টানেল প্রবেশপথ বন্ধ করতে বহুবার হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি প্রবেশপথ ইতোমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং ধ্বংস হওয়া সড়কও সংস্কার করা হয়েছে।

খোমেইনের বাইরে আরেকটি ঘাঁটিতে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে অন্তত ১০টি নির্মাণযান প্রবেশপথ পুনরুদ্ধারের কাজে নিয়োজিত ছিল বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরায় সচল হওয়ায় ইরানের সামরিক হুমকি নতুন করে জোরালো হতে পারে, বিশেষকরে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রের মজুতও ধীরে ধীরে কমে আসছে।

এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কারখানাগুলোতে হামলা চালানো হলেও ইরান দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তেহরান ইতোমধ্যে ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, 'পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নির্ধারিত সব সময়সীমাকেই ছাড়িয়ে গেছে ইরান।' 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ও ব্যয়বহুল অস্ত্র দিয়ে যে ক্ষতি করা হয়, সাধারণ বুলডোজার ও নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করেই তার বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারা ইরানের অন্যতম কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠেছে।


চলতি মাসের ১৯ তারিখে চীন সফরে যাবেন পুতিন: সিনহুয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

চলতি মাসের ১৯ তারিখে চীন সফরে যাবেন পুতিন: সিনহুয়া

আগামী ১৯ ও ২০ মে চীন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আসন্ন এই সফরে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। শনিবার (১৬ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।


ভূ-রাজনীতিতে এখন 'বার্নিং-টপিক' যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ। অন্যদিকে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের 'হিডেন-অ্যালাই' রাশিয়া ও চীন। যুদ্ধে সুবিধাজনক পজিশনে 'না' থাকায় অনেকটা আত্মসমর্পণ করে চীন সফর শেষ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন এক ঝাঁক বিলিয়নিয়ারদের। বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম দাবিও করেছেন, ঘটা করে দলবল নিয়েও চীন থেকে খালি হাতেই ফিরেছেন ট্রাম্প। 

এদিকে, ট্রাম্পের সফর শেষ হতে না হতেই চীনে সফরের ঘোষণা দিয়েছে মস্কো। পুতিন-শি'র বৈঠক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা আর বলার অবকাশ রাখে না।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত এই চুক্তিকে সামনে রেখেই আলোচনায় গুরুত্ব পাবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা, কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার উপায় এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করবেন দুই নেতা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় পুতিনের আসন্ন সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। অন্যদিকে, জীবাশ্ম জ্বালানির বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চীন। ফলে জ্বালানি সহযোগিতাও এবারের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইরান ইস্যুতো আছেই। 


আবারও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

আবারও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। পেন্টাগন বলছে, সোমবার আটটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ভূগর্ভস্থ একটি গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নজরদারির স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট দিয়ে যাতায়াতকারী ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য বলছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ প্রবাহ রক্ষা করার চেষ্টা করছে তারা। পেন্টাগনের জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের লক্ষ্য লোহিত সাগরে উত্তেজনা হ্রাস করা এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা। ওই অঞ্চলে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষা করার বিষয়ে আমরা দ্বিধা করব না।

গত ১১ জানুয়ারি হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

দুদেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসের সমর্থনে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইউএসএস আইজেনহাওয়ারের মার্কিন যুদ্ধবিমান সোমবারের হামলায় অংশ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে, তাদের জোড়া ভয়েজার ট্যাঙ্কারের সহায়তায় চারটি আরএএফ টাইফুন মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশ নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস হুথিদের অসহনীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা হিসাবে এই হামলাকে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত আল দাইলামি বিমান ঘাঁটি, তাইজ এবং বায়দা প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে।