শেয়ার বাজার

বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন, কারিগরি শিক্ষা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।

এ সময় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসি’র পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিবাদন জানান এবং আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতি অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।

তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা কৌশল, লজিস্টিকস ও উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক ও টিআইএফএ বৈঠক দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশি পেশাজীবীদের, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য কারিগরি ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা এবং ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মশক্তির জন্য কর্মোপযোগী দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও চলাচল বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।

এ সময় হাইকমিশনার অস্ট্রেলীয় ব্যবসায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে ব্যাংকিং সংস্কারের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের কনটেইনার জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পাশাপাশি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্টকে তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এসব প্রবাসী কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স তাদের পরিবার ও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি কনটেইনার জাহাজ আটকে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে গেলে এসব জাহাজ যাতে নিরাপদে ও সহজভাবে বের হতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল-গ্যাস সরবরাহে যে চাপ তৈরি হতে পারে, তাতে বাংলাদেশ যেন বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে—সে বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের এসব উদ্বেগ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বের সঙ্গে নোট করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ একটি ‘নিউট্রাল স্পেস’। সেই নিরপেক্ষ পরিসরে সংঘাতের পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশীদারও বাংলাদেশকে এই নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে শান্তির পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ তার নিরপেক্ষ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে একটি ‘সফট মিডিয়াম ইনফ্লুয়েন্স’ তৈরি করতে চায়। এর লক্ষ্য কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।


বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে আইন সবার জন্য সমান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে আইন সবার জন্য সমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিকে দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সবার জন্য সমান। 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচার গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার তারা কেড়ে নিয়েছিল। মানুষকে তারা কথা বলতে দেয়নি। মানুষের কষ্ট-দুর্দশা তারা দূর করেনি। দুঃখ-দুর্দশার কথাও তারা শুনতে চায়নি সেদিন।

তিনি বলেন, ২৪-এর ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ সেই স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিদায় করেছে। এ বছর ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে এই দেশের মানুষ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে। এই দেশে বিএনপিকে যখন দেশের মানুষ দায়িত্ব দিয়েছে, বিএনপি তার সর্বশক্তি দিয়ে নিশ্চিত করবে যে আইন সকলের জন্য সমান। দেশে যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা দেখেছি, কীভাবে আইনের শাসনকে বিগত ১৭ বছর ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে আইনের শাসন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা খেয়াল করছি, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। এই যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললাম, কৃষক কার্ডের কথা বললাম, খাল খননের কথা বললাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কথা বললাম, বন্ধ মিল-কারখানা চালু করার কথা বললাম—এই কাজগুলোতে যদি বিঘ্ন ঘটে, ক্ষতি কার হবে? এই দেশের মানুষের, না বিদেশি মানুষের? এই দেশের মানুষেরই হবে।

বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘গুপ্তদল’ শব্দ ব্যবহার করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই রাজনৈতিক দল—যারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে—১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা দেখেছি, তারা সেই সময় কীভাবে বিভিন্ন অন্যায় করেছিল, কীভাবে মা-বোনদের হয়রানি করেছিল, মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল। যেভাবে তারা মা-বোনদের ওপর নির্যাতন করেছিল, ঠিক একইভাবে আমরা দেখছি আবার তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হয়েছে। আমরা দেখছি, এই গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করছে এবং শুধু নির্যাতন করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। তদন্ত চলছে। যে বিষয়টি তদন্তাধীন, সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু মানুষ বলে, শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি। একটি মানুষের জীবনাবসান করে দিয়েছে তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখলাম, সেই গুপ্তদলের নেতারা খুব নসিহত করছে আমাদের—আপনারা এটা করেন, আপনারা ওটা করেন। আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কীভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।

এর আগে কর্মসূচির শুরুতে ফেনীর উত্তরাঞ্চলে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

পরশুরামে এই কর্মসূচির পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


২৪ সেপ্টেম্বর জা‌তিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৪ সেপ্টেম্বর জা‌তিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়ো‌জিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রস‌চিব আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্রস‌চিব জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। নিউইয়র্কে পৌঁছে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। 

আসাদ আলম সিয়াম জানান, ওই‌দিন সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। 

তি‌নি জানান, এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাই‌মেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্যা জাস্ট ট্রান্স‌টিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন। 

পররাষ্ট্রস‌চিব জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এসব সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস্ট অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।   

তি‌নি জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। তার বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।   

তি‌নি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। ২৩ সেপ্টেম্বরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।

পররাষ্ট্রস‌চিব জানান, ২৪ সেপ্টেম্বরে তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করবেন।   

আসাদ আলম সিয়াম ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।   

তি‌নি ব‌লেন, সামগ্রিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই।

নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।