শেয়ার বাজার

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও মেয়াদোত্তীর্ণতার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি একযোগে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন স্তরের মোট ১৪ জন নেতাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই দলগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিগুলোতে মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনার কোনো উল্লেখ করা হয়নি; বরং বহিষ্কারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যক্রমের কারণ এবং যুবদল ও ছাত্রদলের ক্ষেত্রে কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিদ্যমান ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির কারণ নির্দিষ্ট করা না হলেও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মহানগর উত্তরের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

একই দিনে বিএনপির অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কু। তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দ্রুতই এই শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মহানগর পশ্চিমের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন।

দলীয় আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার দায়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল থেকেও দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক মো. ওসমান গনির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নির্দেশে দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন ও সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁদের সঙ্গে যেকোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও চার নেতাকে বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা অনুমোদন করেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে মামুন মিরপুর অঞ্চলে নিজস্ব একটি অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। দেশে অবস্থানরত তাঁর দুই ভাই জামিল রহমান ও মশিউর রহমানের মাধ্যমে সেই চক্র পরিচালিত হতো। এই চক্রটির বিরুদ্ধে মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর ১২, সাগুফতা এবং বাউনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা জবরদখল, জমি দখল ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বহু অভিযোগ রয়েছে।

ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত

সরকারি চাকরির নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও কোন আইন-মানদণ্ডে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্ন তুলে দলটি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দলের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিবৃতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদও জানান তিনি।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।

মিয়া পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের হঠাৎ করে কোন আইনে, কোন মানদণ্ডে এবং কার সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হলো? অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন। নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।


সরকার পতনের কর্মসূচি আবারও আসছে: বিএনপির ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

সরকার পতনের কর্মসূচি আবারও আসছে: বিএনপির ফারুক

বার্তাবেলা ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘সরকার পতনের কর্মসূচি আসবে, সবকিছুর হিসাব নেওয়া হবে। লড়াই করে বাংলাদেশের একদলীয় শাসন বিদায় করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।’

স্বৈরাচাররা ক্ষমতায় থাকতে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে মন্তব্য করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল, আপনাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই। জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকলেও কেবল এই রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য কিছু করতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার আজ বিএনপিকে অবহেলা করে কথা বলে। অথচ আপনাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। আমরা সৎ আছি, ন্যায়ের পথে আছি। এজন্য বিদেশের মাটিতে আমার নেত্রীর (খালেদা জিয়ার) এক ছটাক জায়গাজমিও নেই।’

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘স্বাধীনতা অধিকার আন্দোলন’ আয়োজিত মানবনন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতো, তাহলে ২০১৪ সালে ১৫৪ জন প্রতিনিধিকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করতো না, দিনের ভোট রাতে করতো না। যে নির্বাচন কমিশন দুই হাজার কোটি টাকা দিয়ে ডামি নির্বাচন উপহার দিয়েছে, সে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনার ঘুমিয়ে ছিলেন। একেক সময় একেক কথা বলেছেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘একদিকে বলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা, অন্যদিকে তৈরি করে সিন্ডিকেট। সে সিন্ডিকেটের টাকা দিয়ে কানাডায় বাড়ি বানানো হয়। অথচ বাংলাদেশের মানুষ একটা ডিম কিনে খেতে পারে না, মাংস কিনে খেতে পারে না। এসবের বিরুদ্ধে যখন আমরা কথা বলি, তখন আগুন সন্ত্রাসের উপাধি দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘এত বছরেও সাগর-রুনি হত্যার চার্জশিট তৈরি করতে পারেনি এই সরকার। অথচ তারা আইনের শাসন, স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলেন। মানুষ এখন নির্ভয়ে ঘরে ঘুমাতে পারে না। যারা আজ মেগা প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে, তাদের পদত্যাগ করা উচিত। এই সরকার জনগণের ভোটের সরকার নয়।’

আরও পড়ুন: বিএনপি বাংলাদেশে ডামি বিরোধী দল: ওবায়দুল কাদের

সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘যখন গণমাধ্যম সোচ্চার হয় তখন গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয় সরকার। যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন, সুষ্ঠু নির্বাচন বিশ্বাস করে না- তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। যে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকার- এ সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না। সরকার জানে ব্যাংক লুট করতে, দুর্নীতি করতে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার জনগণের ভোটের সরকার নয়। সরকার দিন দিন অবহেলিত হচ্ছে, তাদের পায়ের মাটি সরে যাচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।’

মানববন্ধনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহসহ আয়োজক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে কথা বলেছেন আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

আজ বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আসিফ নজরুলের এই পোস্টে মাহফুজ আলমের বক্তব্যের ভিন্নতা খুঁজে পাচ্ছেন নেটিজেনরা।

২০২৪ সালে ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের পাশাপাশি তাঁর ছাত্র মাহফুজ আলমও ছিলেন।

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের তিন মাসের বেশি সময় পর গতকাল মঙ্গলবার মাহফুজ আলম এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, মাজারে ও হিন্দুদের ওপর হামলা এবং ডানপন্থীদের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ব্যাক’ করেছে।

তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসিফ নজরুল একই বিষয়ে লেখেন। তাঁর তিন বাক্যের এই পোস্টে ৫৫ মিনিটে রিয়েক্ট পড়ে ১৩ হাজারের মতো। একই সময়ে পোস্টটি শেয়ার দেখাচ্ছিল ৩৫৮ বার।

গতকাল মাহফুজ আলম তাঁর দীর্ঘ পোস্টে লিখেছিলেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’

এরপর আওয়ামী লীগ কীভাবে ফিরেছে, তার বিরাট একটি তালিকা তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪–কে ৭১–এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরিণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে, লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে। যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’

এ ছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে ডানপন্থার উত্থানের আশঙ্কা এবং উগ্রবাদীদের নিরাপদ জায়গা করে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য সহায়ক হয়েছে বলে মনে করেন মাহফুজ আলম। তাঁর ভাষায়, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেস দেওয়া হইসিল।’

এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন ওই সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম। তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে “বিএনপি ও *” অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর “বিএনপি ও *” ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিল অন্তরিণ।’