পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
জাতীয় সংসদে সৌরশক্তি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রতীক সংসদে এ কার্যক্রম প্রমাণ করে নেতৃত্ব কেবল নীতিতে নয়, কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়। জলবায়ুর কষাঘাতে জর্জরিত বাংলাদেশ, তাই পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিকল্প নেই।
রোববার (২৪ মে) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের ছাদে এই সৌরশক্তি ব্যবস্থা উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সেজন্য টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয়, বরং এটি অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দিক। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি অভিযাত্রায় অংশ নেয়, তবে খুব দ্রুত বাংলাদেশ একটি সবুজ এবং টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্তব্য করেন, বিরোধী দল এখন মানা করলেও শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তারা আসবেই।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
শস্য ভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরের খাদ্য উদ্বৃত্ত বিরামপুর উপজেলায় বন্যার প্রভাবমুক্ত আমনের খেত সবুজে সমারোহে ভরে উঠেছে। সুশোভিত আমনের খেত দেখে মনে হবে এ যেন আবহমান গ্রাম বাংলার চিরায়ত উদ্ভাসিত রূপ। কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় এবার সুগন্ধি ধানের আবাদ বেড়েছে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় জানান, বিরামপুর উপজেলার পৌর এলাকা ও ৭টি ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন রোপন করা হয়েছে। আমন রোপনে কৃষি বিভাগ থেকে এবার উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চার হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ধানের অধিক দাম ও কৃষি প্রণোদনার সার-বীজ পেয়ে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে স্বতস্ফুর্ত ভাবে আমন রোপন করেছেন। এছাড়া সুগন্ধি ধানের জন্য বিখ্যাত এলাকা হিসেবে এই উপজেলায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমানে জমিতে সুগন্ধি জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাগণের সরাসরি তত্বাবধান ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা সার প্রয়োগ ও নিবিড় ভাবে খেত পরিচর্যায় করছেন। ফলে বন্যার প্রভাবমুক্ত অনুকুল আবহাওয়ায় দিগন্ত বিস্তৃত আমনের খেত এখন সবুজে ভরে উঠেছে। মাঠ ভরা সবুজের সমারোহ ও দিগন্ত বিস্তৃত বাড়ন্ত আমনের খেত দেখে কৃষকরা ভালো ফলনের উচ্চসিত আশা নিয়ে বুক বেঁধেছেন।
কৃষকদের রোপনকৃত ধানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা-৫, সুগন্ধি জাতের ব্রি-৩৪ (জিরা কাটারী), সম্পা কাটারী ও আলিম জিরা জাত।
উপজেলার চকমাধব (গোপালপুর) গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন মন্ডল জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারও আমনের আশাতীত ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলতে গিয়ে উঠে এসেছে মৃত্যুর আগের রাতের এক হৃদয়বিদারক তথ্য। ঘাতকদের নির্মম শিকার হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে গভীর রাতে বাবার মুঠোফোনে নিজের ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মেয়েটি। তবে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সেই বার্তা রাতে দেখতে পাননি; সকালে ঘুম ভেঙে মেসেজ দেখে লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবার চোখে পড়ে মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধারের মর্মান্তিক দৃশ্য।নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হয় তাজমিন। পরে সেখান থেকে সে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে যায়। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে সেখান থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে বাসে ওঠে সে। দীর্ঘক্ষণ মেয়ের সাড়া না পেয়ে রাতে বেশ কয়েকবার ফোন করেন বাবা, কিন্তু তাজমিন কল রিসিভ না করায় উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের। এর মধ্যে রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে বাবার ফোনে একটি সংক্ষিপ্ত টেক্সট মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠায় তাজমিন। বার্তায় সে লিখেছিল তাকে দ্রুত এসে যেন উদ্ধার করে নিয়ে যান বাবা। গভীর রাতে ঘুমের কারণে বার্তাটি তাৎক্ষণিক চোখে পড়েনি বাবার। সকালে মোবাইল দেখে ব্যাকুল হয়ে সেই লোকেশন ট্র্যাক করে জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেতে পৌঁছাতেই তিনি দেখেন, পুলিশ তার মেয়ের বস্ত্রহীন নিথর দেহ উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে মৃত্যুর আগের রাতে তাজমিনের গতিবিধির বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে হাইওয়ের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে। ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের নূরজাহান হোটেলের সামনে একাই নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পাশের কিছু খাবার ও স্টেশনারি দোকানের সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে। রাত ১২টার দিকে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথাও বলে সে এবং মুঠোফোনে কিছু একটা দেখায়। পরবর্তীতে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে হোটেল এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেলেও সেখান থেকে সে কীভাবে এবং কার সঙ্গে লালমাইয়ের জগতপুর গ্রামের নির্জন ফসলি মাঠে পৌঁছাল—তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেতে তাজমিনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলজুড়ে অন্তত ৪-৫টি জমির ধানগাছ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে বাঁচার জন্য চরম ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ি করেছিল মেয়েটি। মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল একটি রেজিস্ট্রেশনকৃত পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং কিছু দূরে ভ্যানিটি ব্যাগ।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার হলেও পরে পরিবারের সদস্যরা এসে পরিচয় শনাক্ত করেন। কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল; প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধেই হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও অন্যান্য নির্যাতনের বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফেলে যাওয়া সিএনজিটির নিবন্ধন নম্বর এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশের একাধিক দল মাঠপর্যায়ে ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, বাস থেকে নামা থেকে শুরু করে ধানক্ষেতে পৌঁছানো পর্যন্ত তাজমিনের প্রতিটি পদক্ষেপের ক্লু নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং খুব দ্রুতই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উন্মোচিত হবে।
সারাদেশে প্রায় ১৫০ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি চলছে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বর্তমানে ৫ প্রকার খাবার দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। তালিকায় রয়েছে, ডিম, বানরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট। তবে অভিযোগ উঠেছে এই প্রকল্পে শিশুদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। ১১ উপজেলায় যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সপ্তাহে কলা ও ডিম-বানরুটি থেকেই লোপাট হচ্ছে ১৭ কোটি টাকা। নিম্নমানের এসব খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।
স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল শিশু রাইসা মুনতাহা। সে জানায়, তার পেট ব্যথা করছিল। এছাড়াও তার ভাষ্যমতে, ওসব খাবার সব কেমিক্যাল।
রাইসার মিডডে মিল খাবারের ভয় এখনও কাটেনি। তেমনি তার মা জান্নাতুল সন্তানকে নিয়ে শঙ্কিত। তিনি বলেন, বিষাক্ত খাবার দিয়ে আমার লাভ কী? লাভ নেই। আর বাচ্চাদের যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে কী করবো? কে দেবে আমাকে বাচ্চা?
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপশাড়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মিডডে মিলের বানরুটিতে ফাঙ্গাস জমেছে। এর ফলে খাবার থেকে গন্ধ বের হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একই চিত্র দেখা যায়, জেলার কালাই উপজেলার তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বিদ্যালয়টির শিক্ষক জানান, এই রুটি খেলে পেটে ব্যথা হবে।
১২০ গ্রাম ওজনের বান রুটির দাম ধরা হয়েছে ২৪ টাকা পর্যন্ত। এমনকি ওজন ঠিক রাখতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে রুটি।
আশেপাশের আরও কয়েকটি জেলা ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুটির ভেতরের বাতাস থেকে এক ধরনের দুর্গন্ধ বের হয়, যা খাওয়ার অযোগ্য করে তোলে। তাই শিশুরা অনেক সময়ই সেটা ফেলে দেয়।
তবে নিয়ম অনুযায়ী ডিম দিতে হবে ন্যূনতম ৬০ গ্রাম ওজনের। প্রতি পিসের দাম ১৪ টাকা পর্যন্ত। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একেকটি ডিমের ওজন ৩৫ কিংবা ৪০ গ্রামের বেশি নয়।
৬০ গ্রাম না দিয়ে কম ওজনের ডিম দেওয়া হচ্ছে, জানতে পাবনার একটি খামারে গেলে একজন জানান, ছোট ডিমে এক টাকা কম লাগে। তিনি আরও জানান, ৫৫ গ্রামের ডিমগুলো বড় ক্যাটাগরিতে পড়ে, দামও বেশি।
এসব কারণেই প্রতিদিন ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর বাজেটে এক টাকা কম করেও দেওয়া হলে সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকবে লাখ টাকা, সপ্তাহে কোটি টাকা।
শুধু কম ওজন আর দামে সস্তা নয়, ঠিকঠাক সিদ্ধ না করা আর পচা ডিম সরবরাহের অভিযোগও আছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এই ডিম খাওয়া যায় না, তেমনি পচাও থাকে।
এদিকে, শিক্ষার্থীরা জানায়, কলার মাঝের অংশ অনেক সময় খারাপ থাকে। এ বিষয়ে এক শিক্ষক বলেন, অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, এই কলা যদি খাওয়ানো হয়, তাহলে আগে বাচ্চার কাশির ওষুধ কিনে দিতে হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসব কলা খেতে পারছে না। তাদের ভাষ্যমতে, কলা শক্ত, এটি না পাকায় তাদের কাছে কস লাগে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গিয়ে এক স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, কলার ওজন ৯০ গ্রাম। তবে সেখানে ১০০ গ্রাম ওজনের কলা দেওয়ার কথা ছিল সরবরাহকারীদের। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি কলার দাম সাড়ে ১০ টাকা পর্যন্ত।
দাম যাচাইয়ে উত্তরাঞ্চলের কলার অন্যতম হাট দুর্গাদহ বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একেকটি কলার দাম পড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা। এমনকি ওজনভেদেও দামের তারতম্য দেখা যায়।
কলার বাজেটে শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি কলায় ৭ টাকা বরাদ্দ থাকলে, সেই হিসাবে প্রতি সপ্তাহে অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে প্রায় দুই কোটি টাকা ঢুকছে।
এসব নিম্নমানের কলা, রুটি, ডিম খেয়ে বিভিন্ন স্থানে অসুস্থ হয়েছেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। তবে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শঙ্করবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন ২০ জন শিক্ষার্থী। তারা জানান, পাউরুটি খেয়ে পেট ব্যথা এবং বমি হয়েছিল।
শুধু রাজশাহী বিভাগের ১২ উপজেলায় পৌনে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য কলা, রুটি, ডিম সরবরাহ করে গণউন্নয়ন সংস্থা গাক। একজন বলেন, গণনায় ধরলে ২২ হাজার ডিম আসে। এত ডিম কি চেক করে দেওয়া সম্ভব?
প্রকল্প পরিচালক বলেন, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অ্যাকশন আমাদের নিতে হবে। কারণ আসলে কোমলমতি বাচ্চাদের এই খাবারের বিষয়ে আমরা কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, উপাদানগুলো যদি ক্ষতিকর হয়, তাহলে তা শিশুদের লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর যদি তা বাসি বা পচা হয়, তবে ডায়রিয়া, জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ ও ই হতে পারে।
সার্বিক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্ট কমিটি খাবার কমিটিতে থাকবে, তারা বিষয়টি বুঝে নেবে, এমনই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্কুল ফিডিং প্রকল্পে আগামীতে দেশের সরকারি সব প্রাথমিকে খাবার দিতে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চায় সরকার।
