শেয়ার বাজার

পটুয়াখালীতে ২১ হাজার কেজি ভারতীয় জিরাসহ কার্গো বোট জব্দ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীতে ২১ হাজার কেজি ভারতীয় জিরাসহ কার্গো বোট জব্দ

চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পটুয়াখালীতে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা ২১ হাজার কেজি জিরাসহ একটি কার্গো বোট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দকৃত জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৪ অক্টোবর রাত ২টার দিকে পটুয়াখালী সদর থানাধীন লোহালিয়া নদীসংলগ্ন পালপাড়া এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালীর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ভারত থেকে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা ২১ হাজার কেজি জিরা পাওয়া যায়। পরে জিরাসহ কার্গো বোটটি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জিরার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জব্দকৃত জিরা ও কার্গো বোটের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাঁচ দশক পর মায়ের কোলে দুলি, নরওয়ে থেকে এসে মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

পাঁচ দশক পর মায়ের কোলে দুলি, নরওয়ে থেকে এসে মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখ মানেই নতুনের আবাহন। কিন্তু মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মুক্তানগর গ্রামের আম্বিয়া বেগমের কাছে এবারের নববর্ষ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো নয়, বরং দীর্ঘ অর্ধশতকের হাহাকার মুছে এক পূর্ণতার গল্প। নরওয়ে প্রবাসী মেয়ে দুলি রোজ থুভ সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে ফিরে এসেছেন মায়ের ভিটায়। এবারের বৈশাখ তাই আম্বিয়া বেগম আর দুলির কাছে এক অনন্য অনুভূতির নাম।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নরওয়ের নাগরিক দুলি রোজ। মাত্র এক বছর বয়সে ঢাকার শিশু সদন থেকে নরওয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পালক মা-বাবার কাছে বড়ো হলেও মনের গহিনে লালন করতেন এই মাটির সংস্কৃতি।

গত বছর একাত্তর টেলিভিশনের সহায়তায় দীর্ঘ লড়াই আর অপেক্ষার অবসান ঘটে, দুলি খুঁজে পান তার গর্ভধারিণী মাকে। এরপর থেকেই অপেক্ষার পালা ছিলো—কবে নিজের শেকড়ে ফিরে দেশি আমেজে মেতে উঠবেন।

দুলি রোজ জানান, তিনি ইন্টারনেট আর গুগলের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ গান আর মেলার ছবি দেখতেন। খনার বচন, চারুকলার মুখোশ, পালকি আর গাজীর পট তাকে সবসময় টানতো। এবারের নববর্ষ সরাসরি উপভোগ করতে স্বামী ফয়েন থুভকে নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন মায়ের গ্রামে।

দুলি বলেন, এদেশের নিজস্ব পার্বণ পহেলা বৈশাখ যে এতো রঙিন, তা না দেখলে বিশ্বাস হতো না। চারদিকে প্রাণের উচ্ছ্বাস। গুগল থেকে জেনেছি এটি বিশ্ব ঐতিহ্য। মাকে খুঁজে পাওয়ার পর নিজের সংস্কৃতিতে অংশ নিতেই এবার আসা।

মুক্তানগর গ্রামের বাড়িতে এখন উৎসবের আমেজ। মা আর মেয়ের ভাষা আলাদা, একজন বলেন বাংলা আর অন্যজন ইংরেজি কিংবা নরওয়েজিয়ান। কিন্তু ভাষা না বুঝলেও অনুভূতির প্রকাশ থেমে নেই। একে অপরকে ছুঁয়ে থাকা আর ইশারায় চলছে মনের আলাপ।

মায়ের সঙ্গে বর্ষবরণের প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছেন না দুলি। সারাদিন ঘুরে চুড়ি, টিপ আর সাজসজ্জার সরঞ্জাম কিনেছেন। নিজের জন্য কিনেছেন বৈশাখের চিরায়ত লাল-সাদা শাড়ি। শুধু নিজের জন্য নয়, মা আর পরিবারের সদস্যদের জন্য সাধ্যমতো করেছেন নববর্ষের বাজার-সদাই।


গ্রামের নারীরা দুলি ও তার স্বামী ফয়েনকে হাতভরে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন নানা নকশায়। এমন আন্তরিকতায় মুগ্ধ ফয়েন থুভ বলেন, সবখানে রঙের দারুণ ছোঁয়া। এখানকার মানুষের মন মাটির মতো নরম।

দুলির মা আম্বিয়া বেগম অসুস্থ ছিলেন। দূর প্রবাসে থেকেও পারিবারিক বন্ধু ক্রিস্টোফারের সহায়তায় মায়ের চিকিৎসা ও অপারেশনের সব ব্যবস্থা করেছেন দুলি। এখন মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ। আম্বিয়া বেগম ভাঙা ভাঙা গলায় মেয়েকে শিবালয়ের বৈশাখী মেলার গল্প শোনাচ্ছেন।

অর্ধশত বছর ধরে মুক্তানগরের এই বাড়িতে নববর্ষ আসত এক চাপা কষ্ট আর অপূর্ণতা নিয়ে। হারিয়ে যাওয়া সন্তানের শূন্যতা আম্বিয়া বেগমকে প্রতি বৈশাখে পোড়াত। আজ সেই শূন্যতা ভরাট হয়েছে। চৈত্রসংক্রান্তির রাত পোহালেই নতুন বছর। মুক্তানগরের এই বাড়িতে এবার নববর্ষ শুধু উৎসব নয়, এক হার না মানা সম্পর্কের পুনর্মিলন। দুলি আর ফয়েন দম্পতি বারবার ফিরে আসতে চান এই প্রাণের উৎসবে।


জুলাই অভ্যুত্থান: মামলায় ৪০ গুলির দাবি, তদন্তে মেলেনি একটিও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান: মামলায় ৪০ গুলির দাবি, তদন্তে মেলেনি একটিও

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন হয় আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের। ৩৬ দিনের গণআন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দিন ৫ আগস্ট পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় হাজারের বেশি মানুষ, স্থায়ী পঙ্গু হয় আরও ২০ হাজারের বেশি জনতা।

 
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শুরু হয় জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রক্রিয়া। কিন্তু সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে হতে থাকে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি পর্যায়ের মামলা। যেসব মামলা নিয়ে এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাপকভাবে।
 
ওই বছর ৪ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে আহত হন রিমন। এমন অভিযোগে অভ্যুথানের পর মামলা করেন তার বাবা। অভিযোগ ছিল ৪০টি গুলি করা হয় তার ছেলে রিমনকে। কিন্তু তদন্তে মেলেনি একটি গুলিরও প্রমাণ। ধানমন্ডি এলাকায় জুলাই আন্দোলনের আরেক মামলায় অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি আহত ব্যক্তির। যাত্রাবাড়ীতে এক মামলায় জীবিত ব্যক্তিকে দেখানো হয়েছে মৃত। এসব তথ্য উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে।
                                                                                                                       
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, 
মামলার বাদী আদালতে এসে হলফনামা দিয়েছেন যে, তাকে আসামি করা হয়নি। তাহলে আসামি করেছেন কে, সেটারও কোনো হদিস পাচ্ছি না। বাদীই জানেন না আসামি কে দিয়েছেন! এমনকি আসামিকে পর্যন্ত বাদী চেনেন না।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে অনেককে এ মামলাগুলোতে জড়ানো হয়েছে। একই বিষয় নিয়ে একাধিক থানায় যেসব মামলার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো চার্জশিটে ফুটে উঠছে।’
 
শুধু পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেই ১৬৫ মামলার মধ্যে ভুয়া শনাক্ত হয়েছে ৩১টি। বাকি ১১১টি মামলার ৯ হাজার ৬৯১ আসামির মধ্যে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে ৩ হাজার ৭৭০ জনের বিরুদ্ধে। তবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে দাবি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীর। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, ন্যায় বিচারের স্বার্থে বর্তমান সরকার ভুয়া মামলা শনাক্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
 
‘থানার কর্মকর্তাদের বলে দেয়া হয়েছে, অভিযোগের স্পষ্টতা না থাকলে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদেরকেই অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।  
 

 

সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ্‌ বলেন, 

নিরীহ মানুষকে ঢালাওভাবে গ্রেফতার করা এবং মামলা করলেই একটা বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা-- এই দুইটার কারণেই মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে এটাকে একটা ব্যবসাও বানিয়ে নিয়েছে।
এদিকে, দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের প্রত্যাশায় যে জুলাই গণ-অভ্যুথান, সেই চেতনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয় এসব ভুয়া মামলার মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশাসন ও বিচার বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ তাদের।
 
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘কোনো পুলিশের পক্ষে জুলাইয়ের মামলায় কাউকে অব্যাহতি দেয়া তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। কারণ এখানে মবের একটা বিষয় আছে। থানায় আক্রমণ করা হয়, আদালতে আক্রমণ করা হয়।’



পিরোজপুরে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিরোজপুরে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

‎পিরোজপুর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান, পিপিএম-সেবা এর সাথে জেলার সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


‎রবিবার(২৭ সেপ্টেম্বর)পিরোজপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে এ সভার আয়োজন করা হয়।   ‎​সভায় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম শামীম,  সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদ হোসেন,সিনিয়র সাংবাদিক মুনিরুজ্জামান নাসিম আলী,সিনিয়র সাংবাদিক এস এম সোহেল বিল্লাহ,পিরোজপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জিয়াউল হক জিয়া ‎পিরোজপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল,  পিরোজপুর সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু জাফর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহিন ফকিরসহ জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।  


​মতবিনিময় সভায় নবাগত পুলিশ সুপার পিরোজপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল যেন স্থানীয় জনগণ পেতে পারে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউজ ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা হচ্ছে।  


‎​অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পাশাপাশি পুলিশ সুপার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান— অবৈধ অস্ত্রধারী,মাদক সরবরাহকারী, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত যেকোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকবে। জেলার প্রতিটি থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রকে শতভাগ জনবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু— এ কথাটি কেবল কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করা হবে।  


‎​আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও এলাকার চিহ্নিত সমস্যাগুলো দূরীকরণে তিনি সম্মানিত নাগরিক এবং সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ কামনা করেন।