শেয়ার বাজার

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা

দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

এর আগে, সবশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৫৮ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৬০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের সঙ্গে দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৩৬ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৩৭ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

বন্ধ পাটকল চালুতে সরকারের বড় উদ্যোগ, তৈরি হবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বন্ধ পাটকল চালুতে সরকারের বড় উদ্যোগ, তৈরি হবে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

বিএনপি সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ জুটমিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ৯টির উৎপাদন শুরু হওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মিলগুলো হলো— চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড ও নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল।


বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দুইটি কোম্পানির সঙ্গে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো গ্রুপ পেয়েছে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড।চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। মিলগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে। বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এটির বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এখান থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৭টির লিজ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিল দুটি হলো- ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মামুনুর রশিদ আরও বলেন, চট্টগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডের আমিন জুটমিলস ফেরত পাওয়া গেছে এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও অব্যবহৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দেশে পাটের ব্যবহার বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে।

পাটের ব্যবহার সম্প্রসারণে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশে-বিদেশে পাটপণ্যের প্রদর্শনী আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে (৫ থেকে ২০ বছর) বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএনপি সরকারের পাটকল চালুর এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পখাতে গতি ফিরবে, কর্মসংস্থান বাড়বে ও পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সূত্র: বাসস


রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের বড় পরিকল্পনা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের বড় পরিকল্পনা

কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ লক্ষ্যে এনবিআর চলতি অর্থবছরের রাজস্ব কৌশল সাজিয়েছে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে। এগুলো হলো—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বহাল) এবং রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)।

রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রেস্টোরেশন কৌশলের মূল লক্ষ্য করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরি করা। অন্যদিকে, রিকনস্ট্রাকশন কৌশলের আওতায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা পূরণে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআর বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে।

লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস অনুবিভাগের জন্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে এনবিআর আশা করছে।’

আয়কর খাতে বাড়তি আদায়ের পরিকল্পনা
রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ, ব্যক্তিশ্রেণির কর কাঠামো ও বিনিয়োগে কর রেয়াতের পরিবর্তন, মূলধনি মুনাফার ওপর কর আরোপ, কর পরিপালন জোরদার এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আয়কর অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে চায়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ, আইআইসি এবং কর সার্কেলের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার করে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরীক্ষা ও আয়কর আইনের ২১২ ধারায় পুনরায় মামলা খোলার মাধ্যমে সৃষ্ট করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিলম্বে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে স্বেচ্ছায় কর পরিপালনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আরও ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নীতিগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ করহার পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের করদাতাদের জন্য টার্নওভার কর চালুর মাধ্যমে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী করদাতাদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও হিসাবের বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক করে ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিজনেস-টু-বিজনেস) মডেলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে উৎসে কর আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবাসন খাতের ডেভেলপারদের হিসাবরক্ষণে আইএফআরএস-১৫ চালুর মাধ্যমে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা এবং জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য মূলধনি সম্পদ বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর নিয়মিত করহার প্রয়োগ করে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ও পরিপালনে জোর


ভ্যাট অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বাস্তবায়ন বাড়ার ফলে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিড়ি ও সিগারেটসহ তামাক খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আরও ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিরীক্ষা, বকেয়া রাজস্ব আদায়, ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি এবং কর পরিপালনের ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভ্যাট অনুবিভাগের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার ৫০ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে অনিষ্পন্ন মামলার অন্তত ৯৫ শতাংশ নিষ্পত্তি করা।

কাস্টমসে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য
চলতি অর্থবছরে কাস্টমস অনুবিভাগের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।

নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা থেকে ৫শ’ কোটি টাকা, নিলাম থেকে ৫শ’ কোটি টাকা, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করে ১ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস


পাকিস্তান থেকে জাহাজে এবার যা যা এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

পাকিস্তান থেকে জাহাজে এবার যা যা এসেছে

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’। এবার জাহাজটিতে চিনি, আখের গুড়, ডলোমাইট, সোডা অ্যাশ, থ্রি-পিস, খেজুর ছাড়াও নানান ধরনের পণ্য এসেছে।

এসব পণ্যের ৮৬ শতাংশই পাকিস্তান থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কনটেইনারবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। গত ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ৮১১ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি রওনা দেয়।

এই জাহাজটিই সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে ৩৭০টিইইউস কনটেইনার নিয়ে গত ১১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। সেসময় জাহাজটির বিভিন্ন কনটেইনারে সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট চুনাপাথর, ম্যাগনেশিয়াম ভাঙা কাচ, কাঁচামাল কাপড়, রং, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পেঁয়াজ, আলু, খেজুর, জিপসাম, পুরোনো লোহার টুকরা, মার্বেল ব্লক, কপার ওয়্যার, রেজিন এবং মাদক হুইস্কি, ভদকা ও ওয়াইন ছিল। ১২ নভেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। ওইসময় তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ফের সেই একই জাহাজ করাচি থেকে চট্টগ্রামে এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য নিয়ে। যদিও এর আগে পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনা-নেওয়া হতো তৃতীয় কোনো বন্দরের মাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাজটি কনটেইনার খালাস ও খালি কনটেইনার লোড করার জন্য বন্দরের এনসিটি জেটিতে দুদিন অবস্থান করবে। কাজ শেষে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার বন্দরের জন্য ৪০০ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ হিসাবে) এবং মালয়েশিয়ার বন্দরের জন্য ৬০০ টিইইউ’স খালি কনটেইনার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাহাজটিতে এবার আরব আমিরাত ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে ৮১১ একক কনটেইনার পণ্য। যা জাহাজটির প্রথম ট্রিপের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে ৬৭৮ একক কনটেইনার পণ্যই এসেছে পাকিস্তান থেকে। দেশটি থেকে এবার সবচেয়ে বেশি এসেছে পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

পাকিস্তান থেকে এবার ২৮৫ কনটেইনারে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ ব্যাগ চিনি আনা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন।

কাঁচশিল্পে ব্যবহারের জন্য চিনির পর পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি আনা হয়েছে ডলোমাইট। এবার ১৭১ কনটেইনারে ডলোমাইট আমদানি হয়েছে। এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাস ও আকিজ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ। পাকিস্তান থেকে আমদানি হওয়া আরেকটি পণ্য হলো সোডা অ্যাশ। এই পণ্য আমদানি হয়েছে ১৩৮ কনটেইনারে। শিল্পে ব্যবহারের এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো এনেছে কাপড়ের রোল। মোট ৪৬টি কনটেইনারে রয়েছে কাপড়ের রোল। আলু আমদানি হয়েছে ১৮ একক কনটেইনারে। এছাড়া জয়পুরহাটের পিঅ্যান্ডপি ট্রেডিং ২০ কনটেইনারে আখের গুড় এনেছে। এসব পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো লোহার টুকরা, রেজিন, থ্রি-পিস ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়েছে।

পাকিস্তান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা হয়েছে খাদ্যপণ্য, খেজুর, লুব অয়েল, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। পাকিস্তানের পাশাপাশি আমিরাত থেকেও ১০ কনটেইনার চিনি আমদানি হয়েছে।

‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেনসি লাইনস লিমিটেড এই সংস্থার বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। দুবাই ভিত্তিক কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ফিডার লাইনস ডিএমসিসি দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া-ভারত-দুবাই রুটে ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটি চালু করেছে।

কর্ণফুলী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা বলেন, জাহাজটিতে প্রথমবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ কনটেইনার এসেছে। সরাসরি জাহাজটি আসায় সময় কয়েকদিন কম লাগছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।

শিপিং এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকদের মতে, দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চালু হওয়ায় মেরিটাইমে গুরুত্বপূর্ণ দুই বিবেচ্য বিষয় ‘ভাড়া’ ও ‘সময়’ সাশ্রয় হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এত দিন শ্রীলঙ্কা বা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামে পণ্য আমদানি হতো। তাতে এসব কনটেইনার একবার এসব বন্দরে নামানো হতো। আবার চট্টগ্রামমুখী জাহাজে তুলে দেওয়া হতো। এতে সময় লাগতো বেশি। এখন সরাসরি জাহাজসেবা চালুর কারণে ১০ দিনে পণ্য হাতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।