শেয়ার বাজার

বিরল মহাজাগতিক ঘটনা, ৩৩ বছর পর কাবা শরিফে থাকবে না ছায়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বিরল মহাজাগতিক ঘটনা, ৩৩ বছর পর কাবা শরিফে থাকবে না ছায়া!

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুরে সূর্য সরাসরি কাবা শরিফের ওপর অবস্থান নেবে। এ সময় মক্কায় কোনো বস্তুর ছায়া দেখা যাবে না, কারণ সূর্যের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ খাড়াভাবে মাথার ওপরে।

 
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বছরে দুইবার সূর্য কাবার ওপর সরাসরি অবস্থান করে। মক্কা কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়ায় সূর্যের আপাত গতিপথের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে থাকে।
 
তবে আরাফাতের দিনের সঙ্গে এবার মিলে যাওয়ায় এ ঘটনাকে বিশেষ করে তুলেছে। কারণ, কাবার ওপর সূর্যের সরাসরি অবস্থান এবং আরাফাতের দিন একই সময়ে পড়ার ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৯৩ সালে।
 
 
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিজরি চন্দ্র বর্ষপঞ্জি ও গ্রেগরিয়ান সৌর বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণেই এমন বিরল সমাপতন ঘটে। চন্দ্র বছরের সঙ্গে সৌর বছরের তারিখ পুনরায় মিলতে প্রায় ৩৩ বছর সময় নেয়।
 
সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, এটি একটি স্বাভাবিক ও পুনরাবৃত্ত জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। এর সঙ্গে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক নেই।
 
 
সৌদি সংবাদমাধ্যম আজেলের বরাতে আবহাওয়া কেন্দ্র জানায়, আবহাওয়া কেবল সূর্যের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে না। আর্দ্রতা, মেঘের উপস্থিতি, বাতাসের গতি এবং বায়ুপ্রবাহের মতো বিভিন্ন জলবায়ুগত উপাদান তাপমাত্রা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
 
জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের মুখপাত্র হুসেইন আল-কাহতানি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিবছরই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে নজরদারিতে করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে রেকর্ড গরমের যে দাবি করা হচ্ছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

দীর্ঘ ২৩ বছর অবস্থান করার পর অবশেষে ইরাক থেকে প্রত্যাবর্তন করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। আজ বুধবার ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে সেনাদের প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে।

যদিও তেহরান এবং তার মিত্ররা ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের এ বিদায়কে ‘বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করছে, তবে সত্য হলো— ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে; সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে। তার উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেন।

গত ১২ আগস্ট একটি বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছিল ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে। সেখানে বলা হয়েছিল, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সেই ৩০ সেপ্টেম্বর।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কাল বুধবার প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “ইরাকে আইএস বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযানের সমাপ্তি হতে চলেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রস্থান করবে। এই সময়সীমা নির্ধারিত এবং চূড়ান্ত। আগামী ১ অক্টোবর দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। কারণ এই দিন থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।

আরও বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে মার্কিন সেনাদের প্রস্থানের এই ডেটলাইন বা সময়সীমা।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরের সময়েই ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তার। বুধবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাক এখন থেকে পরস্পরের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকে সম্মান জানাবে এবং অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তেলার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করবে।

বস্তুত, আজ থেকে ২৩ বছর আগে, ২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে দেশটিতে অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। সে বছর ১৯ মার্চ ইরাকে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী এবং অভিযানের ৯ মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ৩ বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি হয়।

শর্ত অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরেই ইরাক ত্যাগের কথা ছিল মার্কিন বাহিনীর। তবে সাদ্দামের মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরাকে উত্থান ঘটে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের। ফলে এই গোষ্ঠীটিকে নির্মূলের জন্য ইরাকে সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন।

২০২০ সালের পর থেকে অবশ্য ইরাকের ঘাঁটিগুলোতে সেনা উপস্থিতি কমানো হচ্ছিল। সর্বশেষ মোট ৪ হাজার ৫০০ জন সেনা ছিলেন বিভিন্ন ঘাঁটিতে। আজ তাদের শেষ দলটি ইরাক ত্যাগ করছে।

ইরাকে অবস্থানের ২৩ বছরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তুলতে অনেক সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এ খাতে অর্থ সহায়তা দিয়েছে, আর ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছে মার্কিন সেনারা।

ইরাকের সাধারণ জনগণ মার্কিন সেনাদের এ বিদায়ে আনন্দিত, তবে অনেকেরই দুশ্চিন্তা যে মার্কিন সেনারা বিদায় নিলে ইরাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী হয়তো তাদরে সামাল দিতে পারবে না।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, “ নিরাপত্তাক্ষেত্রে সৃষ্ট যে কোনো শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। গত দু’দশকে আমরা এ শিক্ষা পেয়েছি।”

সূত্র : রয়টার্স


ট্রাম্প হুমকি দিলেও ইরানে হামলা চালানো যে কারণে কঠিন

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

ট্রাম্প হুমকি দিলেও ইরানে হামলা চালানো যে কারণে কঠিন

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগে ‘সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুখে হম্বিতম্বি করলেও বাস্তবে এমন কিছু করা তার জন্য বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কোনো সহজ সামরিক কৌশল নেই, যা ইরানের চলমান বিক্ষোভকে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে।

প্রস্তুতির অভাব

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে তেমন কোনো সামরিক প্রস্তুতি বা বাহিনী মোতায়েন এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। বরং গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো হয়েছে, যা হামলার আশঙ্কাকে আরও দুর্বল করে।

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর টানা প্রায় দুই বছর অঞ্চলটিতে মার্কিন রণতরী মোতায়েন ছিল। কিন্তু এখন ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিবীয় অঞ্চলে এবং ইউএসএস নিমিৎজ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইরানে হামলা চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান কিংবা সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে হবে। তবে এমন কিছু করলে ঘাঁটিগুলোও ইরানের পাল্টা আঘাতের ঝুঁকিতে পড়বে।

বিমান হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বিকল্প হতে পারে গত জুনে ফোরদোতে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো দূরপাল্লার বি-২ বোমারু বিমানের মতো অভিযান। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন হামলা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

যদিও গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তবুও তেহরানের কাছে এখনো প্রায় দুই হাজার ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পাহাড়ের ভেতরে লুকানো উৎক্ষেপণকেন্দ্রগুলো পুনর্গঠনও করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হতে পারে।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র আসলে কোথায় আঘাত হানবে। বিক্ষোভ এবং সরকারের দমন-পীড়ন সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ কঠিন। ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হলে বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে এবং এতে বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন না-ও আসতে পারে।

জনসমর্থন সরকারের পক্ষে

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ইরানি সরকার জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে এবং নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন জড়ো করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানসহ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ইতিহাস এই প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে। জুনে ইসরায়েলের বড় ধরনের আঘাত সত্ত্বেও ইরানি সরকার এখনো ভেঙে পড়েনি।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক রোক্সান ফারমানফারমায়ান বলেন, ইরানে এখনো একটি সুসংগঠিত সরকার, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামো বিদ্যমান, যা যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত।

খামেনিকে সরিয়ে দিলে কী হবে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে এবং তা সত্ত্বেও সরকার পরিবর্তনের নিশ্চয়তা নেই। এমনকি খামেনি মারা গেলে তার উত্তরসূরির তালিকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল গত জুনে ইরানের অন্তত ৩০ জন শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যা করলেও সরকার অটুট ছিল। ফলে সীমিত মার্কিন হামলা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ভাঙতে পারবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। উপরন্তু, ট্রাম্প নিজেই ‘মাঠে সেনা পাঠানো’ বা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করেছেন।

সাইবার হামলাই কি শেষ উপায়?

এই অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে সাইবার হামলার কথাও উঠেছে। তবে বিদ্যুৎ বা যোগাযোগব্যবস্থায় আঘাত বেসামরিক মানুষকেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এমনকি ইরানে ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের মতো উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা কঠিন।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘সহায়তা আসছে’ ধরনের বক্তব্যের বিপরীতে বাস্তবতা হলো—ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত এবং ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।


বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধে শতভাগ শুল্কছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (বিআইএস) সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য শুল্কের আওতাভুক্ত এসব দেশ ও অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করেছে।

এ সুবিধার আওতায় বেশ কিছু জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তের প্লাজমা (রক্তরস) থেকে উৎপাদিত চিকিৎসা উপাদান, বন্ধ্যত্বের ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট।

এ ছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রাণিচিকিৎসার কিছু পণ্যও এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব পণ্যের কাঁচামাল ও সংশ্লিষ্ট উপাদানও প্রয়োজনে শুল্কছাড়ের সুযোগ পাবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই শূন্য শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার আলোকে বলা হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর বা প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তি রয়েছে এবং যেসব পণ্য দেশটির জরুরি স্বাস্থ্যচাহিদা পূরণে অপরিহার্য, কেবল সে ক্ষেত্রেই এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে আর্জেন্টিনা, ভারত, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে থাকা পেটেন্টযুক্ত সাধারণ ওষুধের ওপর আগের মতো
১০০ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকবে—যদি না সেগুলো অন্য কোনো বিশেষ সুবিধার যোগ্য হয়। অন্যদিকে সাধারণ জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা রাখা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেনেরিক ওষুধ ও এর উপাদানগুলো সেকশন ২৩২-এর আওতায় আরোপিত এই শুল্কের আওতাভুক্ত হবে না।