শেয়ার বাজার

এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ বছর নয়, আগামী বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার কথা বলেছে। নির্বাচন কমিশন আগামী বছর থেকেই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে তার মনে হচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে জ্বালানি মন্ত্রী তার বক্তব্য দিয়েছেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি ছোট করে বলতে চাই, নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। আর নির্বাচনের দিনক্ষণ যেহেতু নির্বাচন কমিশন ঠিক করেনি। তারা প্রথমে একটা তারিখ নির্ধারণ করে পরবর্তীতে বলেছে যে ৬ জুনের মধ্যে তারা নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায়। নির্বাচন যেহেতু আরও দেরি আছে, আমরা নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী মনে করছি, নির্বাচন হতে এখনো দেরি আছে। তাই এ মুহূর্তে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী—তা বলা কঠিন; নির্বাচনের সময় হলেই কেবল তা বোঝা যাবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারকে না জানিয়েই নির্বাচন কমিশন আগে তারিখ ঘোষণা করেছিল। তবে বিষয়টি তুলে ধরার পর কমিশন সচিব পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা আবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শুরু ও শেষ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রমজান মাস, এসএসসি পরীক্ষা ও ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার কথা বিবেচনা করেই হয়ত তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ঠিক কবে ভোট শুরু ও শেষ করবে এবং মোট খরচ কত হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সরকারকে জানায়নি।

আপনারা কী পরামর্শ দিয়েছেন? কবে নাগাদ হলে আপনাদের মিনিস্ট্রির জন্য সহযোগিতা করতে সুবিধা হবে- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সচিবরা মিটিংয়ে গিয়ে যে পরামর্শ দিয়েছে, সেই পরামর্শের আলোকে নির্বাচন কমিশন তাদের বক্তব্য দিয়েছে। ৬ জুনে অর্থবছরের মধ্যেই হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ নির্বাচন তারা পরিচালনা করবে। নির্বাচন কমিশন আমাদের যারা স্টেকহোল্ডার আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এবং জনপ্রশাসন, যারা নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, এ সমস্ত সচিবরা মিটিংয়ে গিয়েছিল। প্রয়োজনে তারা আবার বসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনকেই ঠিক করতে হবে যে, এই অর্থবছরের মধ্যে তারা কোন সিডিউলে তারা শেষ করবে। কারণ আমরা অর্থ বরাদ্দ রেখেছি এবং আমাদের সচিবরাও মিটিংয়ে গিয়ে বলে এসেছে তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।

বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগেও বলেছি যে, তারা একটা টেন্টেটিভ হিসাব দিয়েছে, ৬ হাজার কোটি টাকা লাগবে এই পাঁচটি নির্বাচন শেষ করতে। আমরা মোটামুটি এই পরিমাণ অর্থ যাতে আমরা দিতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমাদের রাখা আছে। এটা প্লাস-মাইনাস হতে পারে, তারা একটা সম্ভাব্য হিসাব আমাদের কাছে দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ করতে আমাদের খরচ হবে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, উপজেলা নির্বাচনে লাগবে ২ হাহার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এই দুইটা নির্বাচনেই বড় খরচ। আর বাকি পৌরসভা ৩৩০টা পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন মাত্র ১৩টি। এগুলোতে খরচের পরিমাণ অনেক কম বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী চলতি বছরে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। যেহেতু আগামী ৬ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কমিশন আগামী বছর থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এই মাসের শেষে অথবা অক্টোবরের ফার্স্ট উইকে আরেকটা মিটিং করে ওনারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের প্রতিনিধিরা সেখানে থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের চাওয়া-পাওয়া এই অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচনগুলো যেন তারা শেষ করে। শুরুটা আমি বলব না। শুরুটা ওনারাই ঠিক করবে। কারণ, আমি যদি শুরুটা বলে দিই, এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রত হবে। কারণ নির্বাচনটা তারা কনডাক্ট করবে। শুরুটা সরকার আমরা কেন বলতে যাব? ওনারাই ঠিক করবে যে, নির্বাচন কবে থেকে কবে করবে।

সাপের কামড়ে আহত মেয়েকে বাঁচাতে বস্তায় ভরে সাপসহ হাসপাতালে বাবা!

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাপের কামড়ে আহত মেয়েকে বাঁচাতে বস্তায় ভরে সাপসহ হাসপাতালে বাবা!

রান্নাঘরে কাজ করার সময় সাপের কামড়ের শিকার হন শেরপুরের নকলা উপজেলার এক তরুণী। চিকিৎসকদের দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করার জন্য এক দারুণ বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছেন তার বাবা। মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বস্তায় ভরে সেই সাপটিকেও সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শেরপুরের নকলা পৌর শহরের দড়িপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণীর নাম রিয়া মণি (২০), তিনি ওই গ্রামের আকাব্বর আলীর মেয়ে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে রান্নাঘরে কাজ করার সময় রিয়া মণিকে সাপে কামড় দেয়। তার আত্মচিৎকারে পরিবারের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। এ সময় আকাব্বর আলী দেখতে পান রান্নাঘরের এক কোণে সেই সাপটি লুকিয়ে রয়েছে। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তিনি মাছ ধরার কোচ দিয়ে সাপটিকে নিরাপদে ধরে একটি বস্তাবন্দি করেন।

বস্তায় সাপ ও মেয়েকে নিয়ে দ্রুত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান আকাব্বর আলী। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তবে সাপটি দেখে এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন যে, রিয়া মণিকে কামড়ানো সাপটি বিষধর ছিল না।

তবে সাপের কামড়ের আকস্মিকতায় মানসিকভাবে মারাত্মক ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। অতিরিক্ত ভয়ের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি না ঘটিয়ে স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে রিয়া মণি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।

গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আকাব্বর আলী বলেন, “মেয়ের জীবন নিয়ে চরম আশঙ্কায় ছিলাম। সাপটি কোন প্রজাতির, তা চিকিৎসকরা দেখলে দ্রুত বুঝতে পারবেন—এই চিন্তা থেকেই মাছ ধরার ব্যাগে করে সাপটি সঙ্গে নিয়েছিলাম।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপে কাটলে ওঝা-বৈদ্যের কাছে সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া উচিত। তবে এই ঘটনায় সচেতনতার অংশ হিসেবে সাপটিকে সঙ্গে নেওয়ায় চিকিৎসকদের জন্য রোগ নির্ণয় করা অনেক সহজ হয়েছে।


অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আনোয়ারায় বিএনপির মিছিল-সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অস্থিতিশীলতার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আনোয়ারায় বিএনপির মিছিল-সমাবেশ

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দিনের নির্দেশনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব গাজী ফোরকান। দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা জিয়াউল কাদের জিয়া, অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা, ওসমান সিকদার, আলফাজুর রহমান আরিফ এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জুয়েল।

এ ছাড়া আবদুল হান্নান, তারেক, আরফাত, আনোয়ারা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি বোরহান উদ্দিন, শাহ্ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তারেক, সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন রাকিব এবং আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম, হাসান ও মোহাম্মদ মোছাসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল—আনোয়ারা উপজেলা শাখা।


কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাড়ছে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনিরাপত্তায় চৌদ্দগ্রামবাসী

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাড়ছে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনিরাপত্তায় চৌদ্দগ্রামবাসী

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

গত শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারীর বাড়িতে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পাশের কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন তার কৃষি জমি দেখা শেষে ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর গ্রামের যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ব্যাপক মারধর করে। মিয়াধনকে মারধরের খবর পেয়ে মাসকরা গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে সোনাপুরের যুবকদের ওপর আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মাসুম আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।


এ ঘটনার জেরে আহত জাহিদুল ইসলাম মাসুমের বন্ধু উপজেলার ডলবা গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল, মো. রানা ও ছাতিয়ানী গ্রামের ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সোনাপুর, ডলবা, বসকরা, ছাতিয়ানী ও শ্রীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬০-৭০ জন অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য পাটানন্দী গ্রাম হয়ে মাসকরায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছয়টি দোকানসহ অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বেশ কয়েকটি খড়ের স্তূপে অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাট করা হয় স্বর্ণালংকার, হাঁস-মুরগি ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র।

এ সময় তাদের হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে মাসকরা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সহোদর ভাই রুবেল ও রানা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার হয়। অপর ভাই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়াও সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সহোদর দুই ভাই স্থানীয় একতা বাজারে আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুত বিচারের মামলারও আসামি। শনিবার বিকেল মাসকরা গ্রামে হামলার পর রুবেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী রুবেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এর আগে আগুনে ঘর ও খড়ের ছিন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে রোববার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।