ঈদের আগে মসলার বাজারে স্বস্তি, বিক্রি কমে হতাশ ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর তেজগাঁও, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে গত দুদিনে ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বর্তমানে ধনীর সন্তানরাও জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা মারামারিসহ হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। তাদের জামিনের বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (৬ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, দুদিনে ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্বের কারণে সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, ইভটিজিং, হুমকি দেওয়া, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের ভয় দেখানো ও বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা পরিস্থিত সৃষ্টি করে। এ কাজগুলো তারা দলবদ্ধ হয়ে করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নানা নামে প্রভাব বিস্তার করে আসছে তারা।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়োং স্টার, বিগবস, ডিস্কো বয়েজ, বন্ধুমহল, শীল বিষু গ্যাং, পারভেজ গ্রুপ, রুস্তম গ্রুপ, ইয়োং স্টার গ্রুপ, নাইনএমএম গ্রুপ, নাইন স্টার গ্রুপ, রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলো মাদক, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করে আসছে। তাদের কিছু বড় ভাইয়ের ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এমনকি তারা চুরি-ছিনতাই করে আসছে। এসব কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গত দুই বছরে ৩৪ জন কিশোর নিহত হয়েছে।
হারুন অর রশীদ আরও বলেন, একসময় মনে করতাম ভাসমান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যবিত্ত, ধনীদের আলালের ঘরে দুলালরাও কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের পোশাক, চুলের কাটিং চলাফেরা সবই ভীতিকর। এসব ধনীর সন্তানরা প্রথমে মাদকসেবন, পরে মাদক বিক্রিতেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তারা এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বড় ভাই আবার কখনো কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে থেকে তারা হত্যার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরদের ছত্রচ্ছায়ার অভিযোগ রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদিন ৭৫ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সবাই কিশোর গ্যাং চক্রে জড়িত থাকার কথা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।
কিশোর গ্যাং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ উল্লেখ করে ডিবিপ্রধান বলেন, এখন যে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে। এসব কিশোর স্কুলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মাদকসেবনের মতো উশৃঙ্খল জীবন-যাপন করছে। গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে। তবে আমি মনে করি অভিভাকদের উচিত তার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মিশে তার খোঁজ রাখা। পাশাপাশি মা-বাবার উচিত সন্তানদের সময় দেওয়া। গ্রেফতার করে কিশোর গ্যাং দমন করা যাবে না। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দেওয়া বড় ভাইদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক বড় ভাইয়ের নাম পেয়েছি। এসব নাম তদন্ত করে দেখবো কারা কারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে আমি মনে করি এসব কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধ করার তথ্যতো কাউন্সিলররা জানেন।
হারুন অর রশীদ বলেন, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা কিন্তু বড় বা রাজনৈতিক নেতাদের পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে। মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ করে। কিশোর গ্যাংয়ের এমন দৌরাত্ম্যের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যদের কিশোর গ্যাং দমনে এগিয়ে আসতে হবে। কিশোর গ্যাংবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এ বিষয়ে কেউ সুপারিশ নিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভারের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার কামালপুরে ১৭ একর বনভূমির জমিতে "এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট" নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কতিপয় ব্যাক্তি।
বাইরে থেকে তাদের প্রচারণা দেখে এটিকে আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ মনে হলেও গভীরে রয়েছে মারাত্মক আইনি ও পরিবেশগত ঝুঁকি।
সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই প্রজেক্টটি বাণিজ্যিক স্বার্থে পরিবেশ আইন ও সরকারি ভূমি নীতি লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
নিচে প্রজেক্টটির প্রধান প্রধান নেতিবাচক ও ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. বন বিভাগের জমি লিজের আইনি বৈধতা ও বড় ধরনের উচ্ছেদ ঝুঁকি
বন আইন লঙ্ঘন: বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান বন আইন অনুযায়ী, সরকারি বনভূমি বা সাব-বিটের অন্তর্ভুক্ত জমি বাণিজ্যিক রিসোর্ট, পর্যটন বা ব্যক্তিস্বার্থমূলক প্রজেক্টের জন্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
চুক্তির শর্তে অসচ্ছতা: বন বিভাগের জমি সাধারণত সামাজিক বনায়ন বা নির্দিষ্ট পরিবেশগত উদ্দেশ্যে সাময়িক চুক্তিতে দেওয়া হয়। সেখানে সদস্য বা কোনো বেসরকারি স্বত্বাধিকারীর নামে বাণিজ্যিক রিসোর্ট বা পশুপালনের দোহাই দিয়ে জমি ব্যবহারের দাবি আইনি পর্যালোচনায় টিকবে না। সরকার যেকোনো মুহূর্তে এই লিজ বাতিল করে জমি পুনঃদখল করতে পারে, যার ফলে প্রজেক্টের পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে।
২. কৃষি জমি অকৃষি খাতে রূপান্তর ও পরিবেশগত ক্ষতি। রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের জন্য পাশেই ব্যক্তিগত কৃষি জমি কেনার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা দেশের "কৃষি জমি সুরক্ষা আইন"-এর চরম পরিপন্থী। উর্বর কৃষি জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে।
ইকো-সিস্টেম বিপর্যয়: সাভারের বিরুলিয়া ও বন বিট সংলগ্ন এলাকাটি প্রাকৃতিক লেক, বনাঞ্চল ও কৃষিজমির জন্য পরিচিত। এখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের সমাগম, বর্জ্য নিষ্কাশন ও শব্দদূষণ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, পশুপাখি এবং বনাঞ্চলকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।
৩. স্বচ্ছতার অভাব: মাত্র ২০টি শেয়ার বিক্রি করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রজেক্টের মোট বাজেট, লভ্যাংশ বণ্টন পদ্ধতি কিংবা জমি হস্তান্তরের কোনো স্পষ্ট ও আইনি ফ্রেমওয়ার্ক নেই। বিনিয়োগকারীদের জালিয়াতির আশঙ্কা: লিজ নেওয়া বনভূমির কোনো মালিকানা বিনিয়োগকারীদের দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কোনো আইনি জটিলতায় প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন না। কেবল ক্রয়কৃত সামান্য কৃষিজমির ওপর নির্ভর করে এত বড় রিসোর্ট চালানো একটি চরম অদূরদর্শী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক মডেল।
৪. ভুল বার্তা ও ছদ্মবেশী পর্যটন: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকের লাভ হবে। কিন্তু বাস্তবে বন ও কৃষিজমি দখল করে কৃত্রিম রিসোর্ট বানালে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের মূল জীবিকা ও জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কৃষির ক্ষতি: আধুনিক রিসোর্টের কোলাহল ও পর্যটকদের আনাগোনায় স্বাভাবিক চাষাবাদ ব্যাহত হবে এবং স্থানীয় গ্রামটির প্রাকৃতিক পরিবেশ চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।
উপসংহারে বলা যায় সাভার বন বিটের পাশে কামালপুরের এই এগ্রো ট্যুরিজম প্রজেক্টটি একটি আইনি জটিলতায় ঘেরা ও পরিবেশবিরোধী উদ্যোগ। বনভূমির জমিতে রিসোর্ট পরিচালনা করা যেকোনো সময় সরকারি অভিযানের মুখে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আইনি অনুমোদন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) ছাড়পত্র এবং স্পষ্ট আর্থিক গ্যারান্টি ছাড়া এই প্রজেক্টে শেয়ার কেনা বা বিনিয়োগ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
