শেয়ার বাজার

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত


গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির মরদেহ নিয়ে যাচ্ছে স্বজন ও প্রতিবেশীরা। রয়টার্স

ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছে বলে ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও ইসলায়েলি বাহিনীর একের পর এক হামলায় তা অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের কয়েক সপ্তাহ ধরে চালানো বিমান হামলা থামানোর পর থেকে ইসরায়েল গাজায় হামলা বৃদ্ধি করেছে। ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডের অর্ধেকের বেশি এখন ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, বাকি অংশগুলোতে হামাস তাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তুলছে, লিখেছে রয়টার্স।

গাজার চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরায়েলি হামলায় এক পুলিশ পোস্টের কাছে এক ফিলিস্তিনি ও আরেকজন এক তাঁবুতে নিহত হয়।

তাদের জন্য ‘হুমকি হয়ে ওঠা এক জঙ্গিকে’ তারা খান ইউনিসে হত্যা করেছে বলে দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর।

পৃথকভাবে আরেক দল চিকিৎসা কর্মী জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিয়ের আল-বালাহে এক কমিউনিটি কিচেনের কাছে ইসরায়েলি আকাশ হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়।

ইসরায়েল বলছে, তারা হামাসের এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালিয়েছে যিনি ‘ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছিলেন’।

গাজার চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরও তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এদের মধ্যে একজনকে খান ইউনিসে গুলি করে আর অপর দুইজনকে দিয়ের আল-বালাহে একটি বেকারির কাছে আকাশ হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়।

শনিবার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তারা শত্রুবার গাজা সিটিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে আঘাত হেনে গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করেছে।

হামাস হাদ্দাদের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করলেও প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো হুমকি দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

অক্টোবরে দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৮৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। একই সময় ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

নেতানিয়াহু ব্যর্থ
‘‌ইসরায়েলের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক বিপর্যয় আর ঘটেনি’

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

‘‌ইসরায়েলের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক বিপর্যয় আর ঘটেনি’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, আমাদের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয় নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন ইসরায়েল আলোচনার টেবিলেই ছিল না।

ইয়ার লাপিদ বলেন, সেনাবাহিনীকে যা করতে বলা হয়েছিল, তার সবই তারা করেছে এবং জনগণ অসাধারণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ‘কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, তার কোনোটিই পূরণ করতে পারেননি’।

তিনি আরও বলেন, অহংকার, অবহেলা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে নেতানিয়াহু যে কূটনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি করেছেন, তা মেরামত করতে আমাদের বছরের পর বছর সময় লাগবে।



ভারী বর্ষণ-বন্যায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা জারি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভারী বর্ষণ-বন্যায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা জারি

টানা বর্ষণের ফলে মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এএফপির এক প্রতিবেদনে বরাতে গালফ নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজধানীর গভর্নর জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত শহরে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার (১১.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে। জরুরি দুর্যোগ ঘোষণার ফলে স্থানীয় সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা পেয়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং খালের পানি উপচে সংলগ্ন ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে। উত্তর ব্যাংককের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পানি কোমর সমান উঠে যাওয়ায় দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং তার মতে এটি ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার চেয়েও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিথিপুন্ট জানান, শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সামনে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে এবং আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সেচ দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করা হলেও খালের পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।’

গভর্নর খালসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত তাদের যানবাহন উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল শয্যাশায়ী রোগীদের সাময়িকভাবে হাসপাতালে স্থানান্তরিত হওয়ার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে থাইল্যান্ডজুড়ে দেখা দেওয়া ভয়াবহ বন্যায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু

হয়েছিল এবং লাখ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সূত্র: গালফ নিউজ


শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণ একটি আইনি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।

একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও এক প্যানেল আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে কঠোরভাবে আইনি ও কাঠামোগত বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোগত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার নাটকীয় প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারত সরকার তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়নি এবং দিল্লি তাঁর আগমনের জন্যও প্রস্তুত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাঁকে ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে সৃষ্ট চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছায়। সেই মুহূর্তে তিনি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটির অবতরণ অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সেই বাস্তবতাকে সামাল দেওয়া ছিল আমাদের দায়িত্ব।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বারবারই স্পষ্ট করেছে যে প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক পথেই অনুরোধটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল কোনো তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গভীর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন। একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী সবসময় সংকটে পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নে সম্পূর্ণ সক্ষম উল্লেখ করে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিই আগামী দিনে দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।