শেয়ার বাজার

জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করবে বিএনপি, যা আগামী ২৫ মে থেকে ১জুন পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (১৮ মে) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

রিজভী জানান, সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। তবে এই সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ঈদ পড়বে। এ কারণে হয়তো কর্মসূচিগুলো কোনো আলোচনা সভা বা অন্য কিছু দুই একদিন গ্যাপ যেতে পারে। 

রিজভী বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে নির্বাচনের আগের সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করে যাচ্ছেন সরকার। একের পর এক কর্মসূচী বাস্তবায়নে নানা জেলায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। পিতার পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খনন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছেন।

তিনি আরও বলেন, এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা একটি রাজনৈতিক দল বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা ১০ টাকা কেজির টাকায় চাল খাওয়ানোর কথা বলে, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। 

রিজভী বলেন,  নানা রাজনৈতিক দল বিদ্রুপ করলেও জনগণকে টলাতে পারছেন না। কারণ, অভিযোগের আগে জনকল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করেছিলেন। স্বল্প সময়ে জাতিকে হতাশা থেকে আশার আলোয় উদ্ভাসিত করেছিলেন। তার পথে ধরে খালেদা জিয়া বারবার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলেন।

দূরপাল্লায় ৮, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দূরপাল্লায় ৮, সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে নৌপথে লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক জরুরি প্রেসবার্তায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রেসবার্তায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাস ও লঞ্চের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের মতামত উপেক্ষা করে পরিবহন মালিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবহন মালিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করলেও যাত্রীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় রাখা হচ্ছে না।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, ভাড়া বাড়ানোর আগে পরিবহন মালিকদের পরিচালন ব্যয় আসলে কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় সমন্বয়ের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে কতটা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া প্রয়োজন—তার কোনো বিস্তারিত ও স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না।

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, আগের সরকারের সময় থেকেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর সুবিধা পরিবহন মালিকদের একতরফাভাবে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষের মধ্যে বৈঠক হলেও পরবর্তী সময়ে ওই সিদ্ধান্তকে সব পক্ষের সম্মতিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের প্রতিনিধিদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। 


সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা, সিটি সার্ভিসের বাসে প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা এবং লঞ্চে প্রতি নটিক্যাল মাইলে ৫ পয়সা ভাড়া বাড়ানো যেতে পারে।


এস আলমের পোড়া চিনি-কেমিক্যাল পড়ে দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলি,মরছে মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

এস আলমের পোড়া চিনি-কেমিক্যাল পড়ে দূষিত হচ্ছে কর্ণফুলি,মরছে মাছ

চট্টগ্রামের এস আলম সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মিলে আগুনে পুড়ে যাওয়া চিনি ও কেমিক্যাল ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে বিষক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এস আলম সুগার মিলের নালা দিয়ে পোড়া বর্জ্য আসছে কর্ণফুলী নদীতে। এতে নদীর পানি তামাটে রং ধারণ করেছে। নদীর তীরে মাছ কুড়াচ্ছে শত শত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে ফেলা কেমিক্যাল বর্জ্য কর্ণফুলী নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নদীর পানির রং পরিবর্তনের পাশাপাশি মারা যাচ্ছে মাছ, চিংড়ি-কাঁকড়াসহ নানান জলজ প্রাণী।

শুধু কর্ণফুলী নদীতেই ফেলা হচ্ছে না চিনি মিলের পোড়া বর্জ্য। কারখানার আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায়ও যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দুুপুর ১২টার দিকে এস আলম সুগার মিলের সামনের রাস্তায় চলাচলরত শিক্ষার্থীদের সমস্যা পোহাতে দেখা যায়। মিল থেকে পোড়া বর্জ্য ট্রাকে করে ফেলা হচ্ছে রাস্তার পাশে ও খোলা জমিতে।

ইছানগর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘এসব কারখানার বর্জ্য নিয়মিতই নদীতে ফেলা হয়। এখন রাস্তাঘাট ও জমিতে ফেলছে, এতে আমাদের পরিবার ও স্বজনরা অসুস্থ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাত থেকে নদীতে মরা মাছ ভেসে আসছে। এছাড়া নানান জাতের মাছ কূলে আসছে, এলাকার মানুষ তা সংগ্রহ করছে।

জাহেদুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে নদীতে মাছ ভেসে আসার খবরে এখানে এসেছি। এখানে কেউ জাল দিয়ে আবার কেউ হাতেই মাছ ধরছে। চিনিকলের বর্জ্যে নদীর পানির রং নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক মাছ এরই মধ্যেই মারা গেছে। কিছু দুর্বল হয়ে জালে আসছে।’


অনেকের মতো নদীতে মাছ ধরতে এসেছে শিশু নাহিদ। সে জানায়, কেমিক্যালের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে শুনে নদীতে আসা। অনেকেই মাছ ধরছে নদীতে। দুই ঘণ্টায় এক কেজির কাছাকাছি মাছ পেয়েছে সে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনির দাহ্য পদার্থ যখন ৩৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকে তখন বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপ নেয়। আর সেখানে পানি ছাড়া হলে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন কার্বন তৈরি হয়। যে কারণে কারখানায় পোড়া চিনি বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপ নিয়ে নদী দূষণ করছে। যার কারণে নদীর মাছসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নদী গবেষক মঞ্জুরুল কিবরিয়া জাগো নিউজকে বলেন, পুড়ে যাওয়া চিনি বিষাক্ত কেমিক্যালে রূপ নিয়েছে। এতে পানির কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে পানিতে অক্সিজেনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এ কারণে পানিতে থাকা জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে নদীর মাছ মারা যাচ্ছে। এতে কর্ণফুলী নদীর পানি এবং জীববৈচিত্র্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হলো।

ড. ইদ্রিস আলী বলেন, শিল্প কারখানা গড়ে তোলার আগে ডাম্পিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন ছিল। এটি না করায় কারখানা থেকে পোড়া বর্জ্য পড়ে কর্ণফুলী নদী দূষিত করে তুলছে। যাতে ক্ষতি হবে মৎস্য সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য। এতে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা আর পূরণ হবে না। এজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও সজাগ হওয়া উচিত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস আলম সুগার মিলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় পুড়ে যাওয়া চিনি নালার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছিল। এখন আমরা ট্রাকে জমিতে পুঁতে ফেলছি।’

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে ফেলার কারণে মাছ মারা যাচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তদন্ত পরবর্তীসময়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে সংবাদকর্মীদের খবর সংগ্রহে মিলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।



নান্দাইলে বিদ্যুতায়িত হয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নান্দাইলে বিদ্যুতায়িত হয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু

বাড়ির পাশের ডোবায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মো. এবাদুল হক (১৫) নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এবাদুল হক উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এবাদুল হক শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বাড়ির পাশের একটি পতিত ডোবা থেকে মাছ ধরতে যায়। সেখানে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে থাকে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত এবাদুল হকের পিতা মোশাররফ হোসেন জানান, মাছ ধরতে গিয়েই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানতে পারি এবাদুল মারা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মাছ ধরতে গিয়ে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে সে মারা গেছে। ছেলেটি অত্যন্ত ভালো ছিল, তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। বিষয়টি কোতোয়ালি থানার আওতায়, তারা দেখবে।