শেয়ার বাজার

সিজেপিকে মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, ৩ শতাধিক ক্যামেরা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সিজেপিকে মোকাবিলায় নয়াদিল্লিতে ২৫ হাজার পুলিশ, ৩ শতাধিক ক্যামেরা

রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় শনিবার থেকেই সপ্তাহান্তের ছুটির (উইকএন্ড) আমেজ শুরু হয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে, তবে আজ শনিবারের (১০ অক্টোবর) চিত্র ভিন্ন। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নয়াদিল্লিজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ সদস্য, ৩ শতাধিক ক্যামেরা এবং ১২টি অস্থায়ী বন্দিশালা।

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে গতকাল রাত ১০টার দিকে দিল্লির যন্তর মন্তর ও তার চারপাশের ৪ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আজ শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তরমন্তর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আজ ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রাজধানী ও তার সংলগ্ন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে যেন লোকজন সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পারে, সেজন্য আজ শনিবার নয়াদিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশনের সবগুলো বন্ধ করা হয়েছে, বাতিল করা হয়েছে ২৫০টি ট্রেন।

প্রশাসনিক নিয়মকানুন, অতীতের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিশাল জনসমাগমের জেরে নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ওপর সম্ভাব্য ব্যাঘাত প্রভৃতি কারণ উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ আগেই যন্তর মন্তরে সিজেপির ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে দৃশ্যত হচ্ছে না যে সিজেপি-র এই বিক্ষোভ কর্মসূচি সহসাই দমানো সম্ভব হবে।

রাজ্য পুলিশপ্রধানদের স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশ

ককরোচ জনতা পার্টির সম্ভাব্য বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসতি অঞ্চলের পুলিশ প্রধানদের চিঠি দিয়েছেন  কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব গোবিন্দ মোহন। সেই চিঠিতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে তাদের সবাইকে সমন্বয় বজায় রাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

গত কাল ৯ অক্টোবর পাঠানো সেই চিঠিতে গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও সিজেপি-র সদস্য ও সমর্থকরা দিল্লিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সীমান্ত তদারককারী কর্তৃপক্ষ যেন দিল্লি পুলিশের সাথে সমন্বয় রক্ষা করে এবং তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রাখে।

নয়াদিল্লির সীমান্ত এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; রাজধানীতে প্রবেশকারী যানবাহনগুলোর ওপর নজরদারি ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার দিল্লির মদের দোকান, পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে লোকজনকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টার ওপরও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে কড়া নজর রাখছে পুলিশ। প্রস্তাবিত সমাবেশ সংক্রান্ত অনলাইন পোস্ট ও বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খবর অনুযায়ী, ২০০ জনেরও বেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন।

যন্তর মন্তরের ১.৫ কিলোমিটারের সংবেদনশীল এলাকায় ৬,৫০০ নিরাপত্তা কর্মী

যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশন এবং দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরকে ঘিরে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকায় ৬,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া রাস্তাগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। এছাড়া নিউ দিল্লি জেলাকে ২০টিরও বেশি জোনে বা অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দিল্লি পুলিশকে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ১২০টিরও বেশি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে পারে। কৌশলগত স্থানগুলোতে সিআরপিএফ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করতে একাধিক স্থানে মক ড্রিল বা মহড়া চালানো হয়েছে।

সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার বসিয়ে মানুষকে জানানো হচ্ছে যে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের অননুমোদিত জমায়েত, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি ও সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হচ্ছে লাউডস্পিকারে।

১২টি বন্দিশিবির স্থাপন

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ চলাকালে যাদের আটক করা হবে, তাদের জন্য যন্তর মন্তরসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ১২টি আটক কেন্দ্র প্রস্তুত করে রেখেছে দিল্লি পুলিশ।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের সংযত আচরণ করতে এবং পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, পুলিশ কর্মীদের উস্কানিতে সাড়া না দিতে এবং অতীতের সিজেপি বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর নতুন দিল্লি ও মধ্য দিল্লির হোটেল, লজ এবং গেস্ট হাউসগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবাসন প্রদানকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে; পাশাপাশি এয়ারবিএনবি অপারেটর এবং বাড়ির মালিকদেরও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

৩০০ ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা এবং রেকর্ডিং টিম

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থান ও এলাকাগুলোতে অডিও ও ভিডিও ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং তার ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এবং পুলিশের পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করার জন্য প্রায় ১০০ জন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফারকে নিয়োজিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া দিল্লি পুলিশ কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ এবং আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোর মাধ্যমে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণাও শুরু করেছে, যার মাধ্যমে বাসিন্দাদের জানানো হচ্ছে যে এই বিক্ষোভের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

৪ কিলোমিটারের  মধ্যে মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত

৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরের জনপথ-কর্তব্য পথ সংযোগস্থলের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনের পর দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল এই নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশ সমস্ত ধরণের মোবাইল ইন্টারনেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এয়ারটেল, জিও, ভিআই ও এমটিএনএল পরিষেবা স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী দলের নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে অবস্থান কর্মসূচি থেকে মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ রাহুল গান্ধীসহ অন্য নেতাদের আটক করে বাসে তুলে নেয়। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, তাদের উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেওয়া হচ্ছিল।

এর আগে সকালে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ‘নির্বাচন সদন’-এর উদ্দেশে মিছিল বের করেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া ওই মিছিলে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার ছিল। তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছানোর পর রাহুল গান্ধী ও অন্য নেতারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ‘অনিয়ম’ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় তাদের অবস্থানস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে হলেও সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তার দাবি, প্রায় ৩০০ জন সংসদ সদস্য জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান।

রাহুল বলেন, ‘জনগণের প্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’

মঙ্গলবার দুপুরেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ কিছু সময়ের জন্য একটি বাসে উঠিয়েছিল। পরে তারা বাস থেকে নেমে আসেন। সন্ধ্যায় আবার তাদের আটক করা হয়।

কংগ্রেস সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা এক-দুই দিনের মধ্যে সাক্ষাতের আশ্বাস দিলে রাহুল অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারেন- এমন কথাও দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে তার শর্ত, ৩০০ জন সংসদ সদস্যকে একসঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে।

ইন্ডিয়া জোটের মিছিল


মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। তবে জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ দল ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি (এএপি) মিছিলে অংশ নেয়নি বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কংগ্রেস জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল মিছিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।

২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ পর্যায়ে জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে কংগ্রেস।

এ ছাড়া ২৫ ও ২৬ নভেম্বর দিল্লির আশপাশের ছয়টি এলাকা থেকে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আওতায় আলাদা মিছিল বের করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিছিলগুলো ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে দিল্লিতে এসে মিলিত হবে।

কংগ্রেসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিষয়গুলো তোলা হবে। সিইসির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার কথাও জানিয়েছে দলটি।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে আদালত রাজি হয়নি। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সব সময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে- এমন পর্যবেক্ষণও আদালত দিয়েছেন। মামলাটির শুনানি অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে চান জেলেনস্কি, দাবি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে চান জেলেনস্কি, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সঙ্গে তার দেশের যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী। সম্প্রতি প্যারিসে ট্রাম্প এবং জেলেনস্কির মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানেই জেলেনস্কি ট্রাম্পকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শনিবার এলিসি প্রাসাদে জেলেনস্কি এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ত্রিমুখী আলোচনার আয়োজন করেছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রায় তিন বছর চলছে। অপরদিকে আগামী জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ট্রাম্প।

নিজের ট্রুথ সোস্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, এই পাগলামি বন্ধ করতে জেলেনস্কি এবং ইউক্রেন একটি চুক্তি করতে চায়।

ট্রাম্প বলেন, এখানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত এবং আলোচনা শুরু করা উচিত। অকারণে অনেক জীবন নষ্ট হচ্ছে, অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে এবং যদি এটা চলতে থাকে তবে এটা আরও বড় এবং আরও খারাপ কিছুতে পরিণত হতে পারে।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তাছাড়া শীতের শুরুতে হামলা জোরালো করেছে মস্কো।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় শহর ক্রিভি রিহতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। স্থানীয় গর্ভনর জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।

সেখানের জরুরি সার্ভিস জানিয়েছে, ১৬ জন আহতের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। তাছাড়া নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলেও জানানো হয়েছে।


মাহাথিরের পাশে আর নেই হাসমাহ
১০০ বছরে থামল পথচলা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানানো হবে শেষ বিদায়

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১০০ বছরে থামল পথচলা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানানো হবে শেষ বিদায়

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ হারালেন তার দীর্ঘ জীবনের সঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীকে। ১০০ বছর বয়সে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে।


সোমবার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানান। তিনি ডা. সিতি হাসমাহর শেষকৃত্যের আয়োজন করতে সরকারের প্রধান সচিব ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন।


আনোয়ার ইব্রাহিম সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সরকার ও মালয়েশিয়ার জনগণের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ডা. সিতি হাসমাহর ‘মাতৃসুলভ উপস্থিতি’ স্মরণ করবে এবং দেশের জন্য তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে।
১৯২৬ সালের ১২ জুলাই সেলাঙ্গরের ক্লাংয়ে জন্মগ্রহণ করেন ডা. সিতি হাসমাহ। সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড সপ্তম কলেজ অব মেডিসিন থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি মালয় নারীদের মধ্যে চিকিৎসা পেশায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।


১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনে মাহাথিরের রাজনৈতিক পথচলার পাশাপাশি দেশের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


পরবর্তীতে মাহাথির মালয়েশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হলে ডা. সিতি হাসমাহ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।


এক শতাব্দীর জীবন শেষে তার বিদায়ে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দেশটির ইতিহাসের এক পরিচিত ও প্রভাবশালী নারীর দীর্ঘ পথচলা।