শেয়ার বাজার

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও এখনও রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ পদে কারা বসছেন তা নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে আলোচনা। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ১২ মার্চ বসছে সংসদ অধিবেশন। 

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর এবার সংসদীয় কাঠামো পুনর্বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি পদে চার শীর্ষ নেতার কথা উঠছে

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।

অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে আরও চমক দেখাতে পারেন তারেক রহমান। সে ক্ষেত্রে দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেলিমা রহমানের নাম সামনে আসতে পারে। নারী নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল থাকতে পারে দলীয় প্রধানের।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতির বাইরের কাউকে আনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে যাচ্ছে না। আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর নামও। এছাড়া সাবেক সচিব বা অবসরপ্রাপ্ত কোনো সেনাপ্রধানের নামও আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপি জোট।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গেলো রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। ওই অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। বিগত সংসদদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদ অধিবেশন কিভাবে শুরু হবে বা প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাও সভাপতিত্ব করতে পারেন।

এদিকে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম ওসমান ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আর ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পাশাপাশি দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত অন্য দল থেকেও একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ হতে পারেন কারা?

সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম। চিফ হুইপ পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনির নাম।

হুইপ পদে আলোচনায় আছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমরান আহমেদ চৌধুরী, সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সংসদীয় কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্থান দেওয়া হবে।

বিএনপির প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা বলেছেন, দল একেক করে সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করবে। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ মানুষটিও মূল্যায়িত হবে।

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে দলীয় আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকেই নেওয়া হবে। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে আলোচনা বা নাম ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। তবে জনগণের প্রত্যাশা আছে—অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আমরা চাই, সেই জনপ্রত্যাশা যেন পূরণ হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘এই পদগুলো ঠিক করবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ নেতা। আর আমি বা আমরা জানতে পারলো আপনাদের জানাবো।’

বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

বার্তাবেলা ডেস্ক: বিএনপি-জামায়াতকে উগ্র সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন সরকারদলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এরা রাষ্ট্রের শত্রু, স্বাধীনতার শত্রু। সাম্প্রদায়িকতা গণতন্ত্রের শত্রু। সন্ত্রাসী, জঙ্গি, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি করছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে আপনিই এটা পারবেন। বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধীদের নিষিদ্ধ করলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।

এ সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের স্বাধীনতাকে বাঁচাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাতে রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য এ দাবি করছি। তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। এরা যেন রাজনীতির নামে বাংলাদেশে খুন, সন্ত্রাস ও অরাজকতা করতে না পারে। আর যাকেই ধরতে পারবেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো দয়া-মায়া দেখানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এরা জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী। তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তারা সংবিধানকে তোয়াক্কা করে না। যারা সংবিধান, নির্বাচন মানে না তারা আবার কী রাজনীতি করবে।

তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যকারীদের সন্ধানে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করে বলেন, কারা এর পেছনে জড়িত ছিল তা বেরিয়ে আসবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে মারতে মারে তারা যেকোনো ঘটনা ঘটাতে পারে।

দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত শক্তি আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে বসে বিশ্বের বড় সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করে। কীভাবে বাংলাদেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি করা যায়, উন্নয়নের অব্যাহত ধারা বন্ধ করতে ষড়যন্ত্র করছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শেখ সেলিম বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে অগ্রসর হন তখন অতি বিপ্লবী, প্রতিবিপ্লবী... স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা জড়িত ছিল। উগ্রপন্থি সিরাজ সিকদার, সর্বহারা হকিত্বোহা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, লাল পতাকা বাহিনীর থানা লুট, ব্যাংক লুট, পাটের গুদামে আগুন, মানুষ হত্যা। ৭ জন সংসদ সদস্যকেও হত্যা করা হয়। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে গণবাহিনী ও জাসদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে সশস্ত্র আক্রমণ করে। কর্নেল ওসমানী গণতন্ত্র বলে বুক ফাটিয়ে ফেলতো, সে খুনি মোশতাকের সামরিক উপদেষ্টা হয়। গণবাহিনীর প্রধান কর্নেল তাহের বাহিনী রেডিও স্টেশনে গিয়ে খুনিদের সমর্থন জানায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার গণবাহিনী-জাসদ এরা বৈজ্ঞানিক সমাজন্ত্রের কথা বলে বঙ্গবন্ধুকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর চারপাশে যে শক্তিগুলো ছিল সেখান থেকে ষড়যন্ত্র না হলে বঙ্গবন্ধুর গায়ে কেউ হাত দিতে পারতো না। বড় একটা চক্র বঙ্গবন্ধুর আশপাশে ঘুরে তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী এখনো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা বলে টেলিভিশনের পর্দা ফাটিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এসব বুদ্ধিজীবীরা সেদিন কোথায় ছিলেন?

আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র এমপি বলেন, জিয়া ছিল আইএসআই-এর এজেন্ট। জিয়ার জন্ম পাকিস্তানে। তার পড়াশোনাও পাকিস্তানে। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালে আইএসআই-এর এজেন্ট হিসেবে জিয়াকে বাংলাদেশ পোস্টিং দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপি-জামায়াত একের পর এক নাশকতা শুরু করে। লন্ডনে বসে তারেক জিয়া অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণ তার জবাব দিয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায়।



সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউছার হোসেন রকি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউছার হোসেন রকি

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাভোগের কারণে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা কাউছার হোসেন রকি। বর্তমানে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কাউছার হোসেন রকি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

রকির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর মুক্তির দাবিতে গঠিত ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৩-১৪ সালের লাগাতার হরতাল-অবরোধ ও তৎকালীন একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনেও তিনি মাঠে ছিলেন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ৮ নভেম্বর থেকে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন কাউছার হোসেন রকি। একই বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবরণের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং ওই সময় আহত হন তিনি।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের দাবিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্দেশনায় হরতাল, অবরোধ, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে জানান কাউছার হোসেন রকি। এ সময় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি মামলার আসামি হন এবং পরবর্তীতে প্রায় এক মাস কারাভোগ করেন বলে দাবি করেন।

একই বছরের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন রকি। এ সময় তিনি আহত হন বলেও জানান। কাউছার হোসেন রকির দাবি, মামলা ও কারাভোগের পরও তিনি দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।
যেসব সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন

কাউছার হোসেন রকির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

২০১৪ সালে গঠিত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২০ সালে জিয়া সাইবার ফোর্স সিলেট জেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান রকি। ২০২২ সালে সিলেট মহানগর বিএনপির আওতাধীন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর পুনরায় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয়তা, মামলা-কারাভোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউছার হোসেন রকির নাম আলোচনায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ওপর।


১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের শরিক ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা চললেও এখনও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। সমঝোতা না হলে মোট আসনের অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

১১ দলীয় জোটের একাধিক সূত্র জানায়, বেশ কয়েকটি আসনে একাধিক দল প্রার্থী দিতে আগ্রহী হওয়ায় সমঝোতার বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় যেসব আসনে সমাধান সম্ভব হবে না, সেগুলো উন্মুক্ত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে ওই আসনগুলোতে জোটভুক্ত দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘শুধু ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেই নয়, আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা আসবে।’

খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এমন অনেক আসন রয়েছে, যেখানে তিন-চারটি দলই প্রার্থী দিতে চায়। সোমবারও লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়েছে। সামনে আরও বৈঠক হবে। আমরা চাই সব আসনে সমঝোতা হোক, তবে যেগুলো অমীমাংসিত থাকবে, সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘আমাদের বৈঠক এখনও বাকি রয়েছে। কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। যেসব আসনে সমঝোতা কঠিন হবে, সেখানে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কয়টি আসন উন্মুক্ত হবে, তা সমঝোতার পরই নির্ধারিত হবে।’

জামায়াত-চরমোনাই দ্বন্দ্ব কাটছে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে বারী মাসুদ বলেন, ‘জামায়াত কোন কোন আসনে প্রার্থী দিতে চায়, তা এখনও আমরা জানি না। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত হয়নি। আমরা মনোক্ষুণ্ন, কারণ একত্রে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। দুই দল আলাদা আলাদা বৈঠক করলেও সমাধান আসছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। কার কতটা সমর্থন আছে, সেটিও বিবেচনায় আনতে হবে। আমরা তো ২৬৭ আসনেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’

আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা

জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটে রয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি ও এলডিপি।

জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯০ থেকে ১৯৫টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসন দাবি করলেও তাদের জন্য ৪০টির মতো আসন দেওয়ার আলোচনা চলছে। এছাড়া এনসিপি: ২৫-৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: ১০টি,,খেলাফত মজলিশ: ৩টি, এবি পার্টি: ৩টি, এলডিপি: ২টি, বিডিপি: ২টি, জাগপা: ২টি, নেজামে ইসলাম পার্টি: ১টি আসন।

মনোনয়নপত্র জমা, অপেক্ষা ঘোষণার

সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকলেও জোটের প্রায় সব দলই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী,জামায়াত: ২৭৬ আসন, ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসন, এনসিপি: ৪৭, এবি পার্টি: ৫৩,,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: ৯৪, খেলাফত মজলিশ: ৬৮, এলডিপি: ২৪, খেলাফত আন্দোলন: ১১, নেজামে ইসলাম পার্টি: ৬, জাগপা: ৩, বিডিপি: ২টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

এদিকে, সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার অথবা বুধবার ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।