শেয়ার বাজার

ইউক্রেইন রাশিয়া যুদ্ধ
রাশিয়ার তুমুল হামলায় ইউক্রেইনে নিহত ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

রাশিয়ার তুমুল হামলায় ইউক্রেইনে নিহত ১১

ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভ ও অন্য শহরগুলোতে রাশিয়ার তুমুল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও আরও শতাধিক আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোররাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে ইউক্রেইনের কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এক যুদ্ধে ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে রাশিয়া। আর চলতি বছর রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেইন। উভয়পক্ষই বেসামরিকদের লক্ষ্যস্থল করার কথা অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে ক্রেমলিন সতর্ক করে বলেছিল, তারা কিইভের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ‘পরিকল্পিত আঘাত’ হানবে। ইউক্রেইনের রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চল লুহানস্কে এক ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় মস্কো এ হুমকি দেয়। ইউক্রেইন হামলার দায় অস্বীকার করে।

রয়টার্স জানিয়েছে হামলার পর কিইভের সুউচ্চ ভবনগুলোতে বিস্ফোরণ ও সেখানে থেকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডুলি উঠতে দেখা যায়। এখানে রাতভর হামলায় চারজন নিহত ও শিশুসহ ৬৫ জন আহত হয় বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।

ক্লিচকো জানান, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২৪তলা এক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। লোকজন সম্ভবত ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আর ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্যান্য ভবনের মধ্যে নয়তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আগুন ধরে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোররাতেই হাজার হাজার মানুষ কিইভের সাবওয়েতে এসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য হাজির হয়। তখন ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা পদ্ধতিগুলো রাশিয়ার হামলা প্রতিহতে ব্যস্ত ছিল আর সারা আকাশজুড়ে তার ঝলক দেখা যাচ্ছিল।

ভোর হওয়ার পরও কিইভের বিভিন্ন স্থানে আরও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলে রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানিয়েছেন।

দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকজান্দার হানজা টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, দিনিপ্রো শহর ও এর আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত ও আরও ৩৬ জন আহত হয়েছে।

ইউক্রেইনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৬৫৬টি ড্রোন ও ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, অধিকাংশই কিইভকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানিয়েছে, তারা ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬০২টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে অথবা ধ্বংস করেছে।

বিমান বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে আটটি জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। মস্কোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে নয়গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে আর এগুলোর পাল্লা ১০০০ কিলোমিটার।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লক্ষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পন্ন দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনাগুলোতে তারা ‘ব্যাপক আঘাত’ হেনেছে।

কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬

কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো  ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি এই প্রাদুর্ভাবকে এখনো মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেনি। খবর আল-জাজিরার।

রোববার (১৭ মে) সংস্থাটি জানায়, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতুরি প্রদেশে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের কারণে হয়েছে, যার এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। 

ডব্লিউএইচও জানায়, সংক্রমণ ইতোমধ্যে উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং কঙ্গোর রাজধানীতেও সংশ্লিষ্ট রোগী শনাক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক ঝুঁকি বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো মহামারির মানদণ্ড পূরণ করেনি। এ কারণে দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।  

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানায়, শনিবার (১৬ মে) পর্যন্ত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৩৩৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদিকে, প্রাদুর্ভাবের সূচনা হয় মঙ্গওয়ালু নামের একটি খনিশিল্প এলাকায়। 

তারা আরও জানায়, জনসংখ্যার চলাচল, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ইতুরিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

আফ্রিকা সিডিসি জানায়, ইবোলা একটি মারাত্মক ও প্রায় প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। ১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গোর ইবোলা নদীর কাছে প্রথম এটি শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড়সহ বন্য প্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এছাড়া রক্ত, বমিসহ শরীরের বিভিন্ন তরল বা দূষিত কাপড়-চোপড় ও বিছানার সংস্পর্শে এলে রোগটি ছড়াতে পারে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রামক হয়ে ওঠেন।

এদিকে কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম রোগী ছিলেন একজন নার্স। তিনি গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির রাজধানী বুনিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইবোলার মতো উপসর্গ নিয়ে আসেন। অন্যদিকে উগান্ডায় কঙ্গো থেকে আসা ভ্রমণকারীদের মধ্যে দুটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং রাজধানী কাম্পালায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

ডব্লিউএইচও এর প্রধান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চলাচল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তিনি সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।


সৌদি আরবের নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে বসছে মক্কা জোট

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদি আরবের নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে বসছে মক্কা জোট

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে যৌথ সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এ লক্ষ্য অর্জনে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন তারা, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে ত্রিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনের কার্যালয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৈঠক করেন।

বৈঠকে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের আসন্ন বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৌদি আরবকে সহায়তার বিভিন্ন উপায় ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, চুক্তিভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

বৈঠকে সৌদি আরবের মক্কা এবং দেশটির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হামলার প্রচেষ্টার ‘তীব্র নিন্দা’ জানান তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ওপর গুরুত্ব দেন। এছাড়াও সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তারা।

আঞ্চলিক স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগে সহায়তা এবং চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।


ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর কেটে গেছে দুই সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যেই দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতার ভেতরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের অনুগতদের বসাচ্ছেন, যাতে অভ্যন্তরীণ হুমকি মোকাবিলা করা যায় এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের চাপ অনুযায়ী তেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।

৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ আগে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সামরিক পাল্টা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিসিআইএমের নতুন প্রধানও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন কিউবার সহায়তায় গড়ে ওঠা এই সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ভয়ংকর নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে পরিচিত।

মেজর জেনারেল গুস্তাভো গনসালেসকে ডিজিসিআইএমের প্রধান করা হয়েছে। সরকারের ভেতরের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, রদ্রিগেজের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় হুমকি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর প্রভাব মোকাবিলায় এটি ছিল তার প্রথম কৌশলগত পদক্ষেপ। কাবেলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও কুখ্যাত মোটরসাইকেল গ্যাং ‘কোলেকতিভো’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিরোধী সমর্থকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারঘনিষ্ঠ এক সূত্রের ভাষ্য, ‘তিনি (রদ্রিগেজ) স্পষ্টভাবে জানেন, মার্কিনিদের সম্মতি ছাড়া তার টিকে থাকা সম্ভব নয়। সে কারণেই তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কার শুরু করেছেন, পুরোনো লোক সরিয়ে নতুনদের বসাচ্ছেন।’

ভেনেজুয়েলার সাতজন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে রয়টার্সের নেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিশোধের আশঙ্কায় সবাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বড় ভাষণে পার্লামেন্টে জাতীয় বার্ষিক ভাষণ দেন রদ্রিগেজ। সেখানে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানান, নিজেকে মাদুরোর বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেন এবং তেলখাতে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজনীতিতে ‘নতুন অধ্যায়ের’ প্রতিশ্রুতি দেন।

ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তাকে ওয়াশিংটনে দেখবেন বলে আশা করছেন।

অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে ‘দ্য সারিনা’ নামে পরিচিত রদ্রিগেজ দেশের বেসামরিক ক্ষমতার বড় অংশ, বিশেষ করে তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও পাচ্ছেন। এই সমর্থনের বার্তা আরও স্পষ্ট হয় যখন তিনি কারাকাসে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অন্যদিকে, কাবেলো নেতৃত্বাধীন আরেকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দল পিএসইউভির প্রধান কাবেলো সাবেক সেনা কর্মকর্তা। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতিতে তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে সশস্ত্র প্রহরীদের ঘিরে ধরে টেলিভিশনে হাজির হন এবং স্লোগান দেন—‘সন্দেহ মানেই বিশ্বাসঘাতকতা।’

রয়টার্স জানিয়েছে, মাদুরো বন্দি হওয়ার আগে এবং পরে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী বা কোলেক্তিভো ব্যবহার না করতে তাকে সতর্ক করেন।

যদিও প্রকাশ্যে কাবেলো ও রদ্রিগেজ নিজেদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ বলে দাবি করছেন, সরকারের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, রদ্রিগেজের শাসনক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখনো কাবেলোই।

মাদুরো বন্দি হওয়ার পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। কোথাও কোথাও দলীয় কর্মীদের প্রতিবেশীদের ওপর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যারা মাদুরোর পতনে আনন্দ প্রকাশ করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই অস্থির পরিস্থিতিতে রদ্রিগেজকে একদিকে দলীয় সমর্থকদের বোঝাতে হচ্ছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ নন, অন্যদিকে ভেঙে পড়া অর্থনীতি সামাল দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েক দশকের শাসনে গড়ে ওঠা সামরিক ও ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতা নেটওয়ার্কের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলায় প্রকৃত রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত দিয়োসদাদো কাবেলোর ভাগ্য নির্ধারণ অনিবার্য হয়ে উঠবে।