শেয়ার বাজার

সরকারি চাকরিতে ঢুকলেই বাধ্যতামূলক সর্বজনীন পেনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০২৪

সরকারি চাকরিতে ঢুকলেই বাধ্যতামূলক সর্বজনীন পেনশন

যারা আগামী ১ জুলাই বা তার পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করবেন তাদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ঢোকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তারা সবাই ‘প্রত্যয়’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত হবেন।

বুধবার (২০ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসমূহের চাকরিতে যাদের ন্যূনতম ১০ বছর চাকরি অবশিষ্ট আছে তারা আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রত্যয় স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রত্যয় স্কিমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবসর জীবনে মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন বিধায় ১ জুলাই, ২০২৪ এবং এর পরবর্তী সময়ে নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থায় খুব কম সংখ্যক স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ’ অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানসমূহে পেনশন স্কিম চালু রয়েছে। এ ধরনের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা আনুতোষিক স্কিমের আওতাভুক্ত এবং তাদের জন্য সিপিএফ (কন্ট্রিবিউটরি প্রোভিডেন্ট ফান্ড) ব্যবস্থা প্রযোজ্য। এই ব্যবস্থায় কর্মচারীরা চাকরি শেষে অবসর সুবিধা হিসেবে এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হন। কিন্তু, মাসিক কোনো পেনশন প্রাপ্য হন না। ফলশ্রুতিতে অবসরোত্তর জীবনে প্রায় ক্ষেত্রেই আর্থিক অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হন। কর্মচারীদের অবসরোত্তর জীবনের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে বিদ্যমান ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সরকার ‘প্রত্যয় স্কিম’ প্রবর্তন করেছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্রত্যয় স্কিমে একজন ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নিজ বেতন থেকে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে একই পরিমাণ টাকা ৩০ বছর চাঁদা প্রদান করলে তিনি অবসর গমনের পর অর্থাৎ ৬০ বছর বয়স থেকে মাসিক ৬২ হাজার ৩৩০ টাকা হারে পেনশন প্রাপ্য হবেন। এ ক্ষেত্রে ৩০ বছর ধরে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিজ বেতন থেকে প্রদত্ত মোট চাঁদার পরিমাণ ৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত মোট চাঁদার পরিমাণ ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী মিলিয়ে সর্বমোট চাঁদার পরিমাণ হবে ১৮ লাখ টাকা। তিনি যদি ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তবে ১৫ বছরে পেনশন প্রাপ্য হবেন ১ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা। যা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নিজ জমার ১২.৪৭ গুণ। আজীবন পেনশন প্রাপ্য হবেন বিধায় এ পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগ হতে প্রাপ্য মুনাফার হার বৃদ্ধি পেলে মাসিক পেনশনের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় খরচ সরকারের নির্বাহ করা হবে বিধায় চাঁদাদাতার কর্পাস হিসাবে জমাকৃত অর্থ এবং বিনিয়োগলব্ধ আয় সম্পূর্ণ চাঁদাদাতার অ্যানুইটি হিসাবায়নের মাধ্যমে মাসিক পেনশন নির্ধারিত হবে। জমাকৃত চাঁদার ওপর বিনিয়োগ রেয়াত পাওয়া যাবে এবং প্রাপ্য পেনশন আয়করমুক্ত হবে। স্কিমটি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত হওয়ায় এটি শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ। এ স্কিমে নিবন্ধিত কর্মচারী পেনশনযোগ্য বয়সে উপনীত হওয়ার পরবর্তী মাস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক পেনশনের অর্থ পেতে থাকবেন, যা তাকে মোবাইল এসএমএস এর মাধ্যমে অবহিত করা হবে। এক্ষেত্রে তাকে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো দপ্তরে যাওয়ার বা কোনোপ্রকার প্রমাণক দাখিলের প্রয়োজন হবে না। প্রত্যয় স্কিমটি নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আকর্ষণীয় এবং আর্থিক নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর।

মনোনয়ন পেতে প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৫০ লাখ খোয়ালেন আওয়ামী লীগ নেতা; গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

মনোনয়ন পেতে প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৫০ লাখ খোয়ালেন আওয়ামী লীগ নেতা; গ্রেফতার ৩

বার্তাবেলা: জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ফোন করে এক প্রতারক বলেন, ‘আমি এনএসআইর ডিডি (ডেপুটি ডিরেক্টর) হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছি। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করছি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমি কয়েকজনকে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এরই মধ্যে কয়েকজনের মনোনয়নের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করছি।

মোবাইল ফোনে এমন পরিচয়ে কথা বলে পরে আস্থা অর্জনের পর ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতাকে ওই প্রতারক বলেন, ‘আপনার মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এজন্য ৫০ লাখ টাকা নগদ দিতে হবে। এরপর ভুক্তভোগীকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা পুতুল নামে একজন নারী কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয় চক্রের সদস্যরা।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র দেশব্যাপী সক্রিয় হয়। এর ধারাবাহিকতায় চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে।

এভাবে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার ফাঁদে পা দেন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনে আওয়ামলী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী দীপক কুমার রায় (৬৩)। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৫০ লাখ টাকা খোয়ান তিনি। পরে গত ২৬ নভেম্বর মনোনয়নপত্রের তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হলে সেখানে তার নাম না থাকায় ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

এরপর ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা দীপক কুমার রায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন নুরুল হাকিম (৩১), হাসানুল ইসলাম জিসান (২২) ও মো. হারুন অর রশিদ (২৯)।



আরও কমলো স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

আরও কমলো স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কার মধ্যে সোমবার (১ জুন) স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৫১.৬৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২.৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,৪৭৯.২০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়।

আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, বাজারে উচ্চ সুদের হার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রত্যাশা স্বর্ণের দামের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বন্ডের ফলন কমতে শুরু করলে বা সুদের হার স্থিতিশীল হলে স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন করে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার হয়েছে।

বাজারের ধারণা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বা দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত একবার সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৫৬ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং Federal Reserve কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৩.৯৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ১,৯০৮.৯১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪৩.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম:
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর দাম অনুযায়ী, দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।


সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউছার হোসেন রকি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কাউছার হোসেন রকি

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাভোগের কারণে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা কাউছার হোসেন রকি। বর্তমানে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কাউছার হোসেন রকি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

রকির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর মুক্তির দাবিতে গঠিত ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৩-১৪ সালের লাগাতার হরতাল-অবরোধ ও তৎকালীন একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনেও তিনি মাঠে ছিলেন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ৮ নভেম্বর থেকে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন কাউছার হোসেন রকি। একই বছর ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবরণের প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং ওই সময় আহত হন তিনি।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের দাবিতে বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্দেশনায় হরতাল, অবরোধ, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে জানান কাউছার হোসেন রকি। এ সময় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি মামলার আসামি হন এবং পরবর্তীতে প্রায় এক মাস কারাভোগ করেন বলে দাবি করেন।

একই বছরের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন রকি। এ সময় তিনি আহত হন বলেও জানান। কাউছার হোসেন রকির দাবি, মামলা ও কারাভোগের পরও তিনি দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।
যেসব সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন

কাউছার হোসেন রকির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

২০১৪ সালে গঠিত সিলেট মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২০ সালে জিয়া সাইবার ফোর্স সিলেট জেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান রকি। ২০২২ সালে সিলেট মহানগর বিএনপির আওতাধীন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর পুনরায় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজপথের সক্রিয়তা, মামলা-কারাভোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউছার হোসেন রকির নাম আলোচনায় এসেছে। তবে চূড়ান্ত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ওপর।