মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিশৃঙ্খল যুদ্ধ। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। বিশ্বের দুই পরাশক্তির নেতারা যখন চলতি সপ্তাহে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেন, তখন সবাই ধারণা করেছিলেন, এই সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়েই তাঁদের মধ্যে কথা হবে।
কিন্তু সেটা না করে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁদের এ আলোচনায় প্রাচীন আরেকটি যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩১ অব্দে এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়ে কয়েক দশক ধরে চলেছিল।
আধিপত্য বিস্তারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইঙ্গিত করে সি জানতে চান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা থুসিডাইডিসের ফাঁদ এড়িয়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে কি না?
থুসিডাইডিস ট্র্যাপ কী
ট্রাম্পের সাবেক প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননসহ পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের আলোচনায় প্রায়ই ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ শব্দবন্ধটি ঘুরেফিরে আসে। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি কোনো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে হটিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, তখন প্রায়ই তার পরিণতি হয় যুদ্ধ।
প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস তাঁর ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেশিয়ান ওয়ার’ বইয়ে লিখেছিলেন, ‘এথেন্সের উত্থান এবং এর ফলে স্পার্টার মনে জেঁকে বসা ভয়ই যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।’
এথেন্স যেভাবে একসময় স্পার্টার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল, এখানেও ইঙ্গিতটি একই রকম—চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের মনে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং দেশটির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।








