শেয়ার বাজার

ট্রাম্পকে কেন সতর্ক করলেন সি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ট্রাম্পকে কেন  সতর্ক করলেন সি?

মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিশৃঙ্খল যুদ্ধ। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। বিশ্বের দুই পরাশক্তির নেতারা যখন চলতি সপ্তাহে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেন, তখন সবাই ধারণা করেছিলেন, এই সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়েই তাঁদের মধ্যে কথা হবে।

কিন্তু সেটা না করে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁদের এ আলোচনায় প্রাচীন আরেকটি যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে চীনের প্রেসিডেন্ট প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩১ অব্দে এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়ে কয়েক দশক ধরে চলেছিল।

আধিপত্য বিস্তারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ইঙ্গিত করে সি জানতে চান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা থুসিডাইডিসের ফাঁদ এড়িয়ে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে কি না?

থুসিডাইডিস ট্র্যাপ কী

ট্রাম্পের সাবেক প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননসহ পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের আলোচনায় প্রায়ই ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ শব্দবন্ধটি ঘুরেফিরে আসে। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি কোনো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে হটিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, তখন প্রায়ই তার পরিণতি হয় যুদ্ধ।

প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস তাঁর ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেশিয়ান ওয়ার’ বইয়ে লিখেছিলেন, ‘এথেন্সের উত্থান এবং এর ফলে স্পার্টার মনে জেঁকে বসা ভয়ই যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।’

এথেন্স যেভাবে একসময় স্পার্টার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল, এখানেও ইঙ্গিতটি একই রকম—চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের মনে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং দেশটির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে 'অপহরণের' ভিডিও পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে 'অপহরণের' ভিডিও পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে জো বাইডেনকে তার হাত ও পা বেঁধে এবং দৃশ্যত অপহরণ করার একটি ভিডিও পোস্ট করার পরে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। গ্রাফিকটি মিঃ ট্রাম্পের সমর্থকের পিক-আপ ভ্যানের পিছনে আঁকা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখানো হয়েছে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ‘অপহরণের’ একটি ভিডিও পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর স্ট্যান্ডার্ড।

প্রায় সাত সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা গেছে, পিকআপের পেছনে বর্তমান প্রেসিডেন্টের একটি ছবি প্রিন্ট করে লাগানো হয়েছে। অর্থাৎ তাকে অপহরণ করা হয়েছে- এমনটাই বোঝানো হয়েছে ছবিতে। যদিও ছবিটি পুরোপুরি এডিটেড। পতাকা ও ডেকাল সম্বলিত দুটি ট্রাক ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে যেখানে দ্বিতীয় ট্রাকের পেছনে ছিল বাইডেনের ছবি।

এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা ট্রাম্পকে দানব বলে আখ্যা দিয়েছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে ৭৭ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাপশন লিখেছেন, ‘৩/২৮/২৪, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক।’

"ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চিত্রটি একটি বাজে ধরনের পোস্ট, যখন আপনি রক্তপাতের জন্য ডাকছেন, বা যখন আপনি গর্বিত ছেলেদের 'ফিরে দাঁড়াতে এবং পাশে দাঁড়াতে' বলছেন," বাইডেন প্রচারণার সংযোগ পরিচালক মাইকেল টাইলার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রতিনিয়তই রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছেন। এখন সময় এসেছে তাকে বয়কট করার।’

এদিকে, ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ছবিটি একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে ছিল, পিকআপটি হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শুধু ঘৃণ্য সহিংসতার ডাকই দেয়নি, তারা আসলে তার বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’

তবে, ভিডিওতে বাইডেনের ছবির উপস্থিতি নিছকই কাকতালীয় ঘটনা তা মনে হচ্ছে না। কারণ ভিডিওর শেষের দিকে বাইডেনের সম্পাদিত ছবিটি জুম করে দেখানো হয়েছে।


হামাসের যুদ্ধ বন্ধের
হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

বার্তাবেলা ডেস্ক: হামাসের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি ও গাজার শাসনভার হামাসের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ করাসহ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার হামাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

রোববার (২১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে হামাস যুদ্ধ বন্ধ করা, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা ও সব খুনি-ধর্ষকদের মুক্তি দাবি করছে। তাদের এই শর্ত মেনে নেওয়া মানে, হামাসকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ও ইসরাইলের সেনাবাহিনীকে অকার্যকর প্রমাণ করা।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

তিনি আরও বলেন, হামাসের ‘আত্মসমর্পণের’ এই পরিভাষা আমি পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এই শর্ত মানলে আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবো না। ঘরছাড়া মানুষদের তাদের ঘরে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারবো না এবং আরেকটি ৭ অক্টোবর কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

আবার গত বৃহস্পতিবারের (১৮ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতেই থাকতে হবে। আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, এমন রাষ্ট্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হবে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। তার আওতায় হামাসের হাতে ইসরায়েল থেকে ধরে এনে গাজায় জিম্মি করা ২৪০ জনের মধ্য থেকে ১০০ জনেরও বেশি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলের জেলে বন্দি থাকা ২৪০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাকি ১৩৬ জিম্মির মুক্তির জন্য নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। তাদের স্বজনরা নেতানিয়াহুর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ করে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা চান, তাদের স্বজনরা দ্রুতই বাড়িতে ফিরে আসুক। এমনকি, জিম্মিদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য একটি চুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সমস্যার সমাধান করার প্রশ্নেও নমনীয় না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর। অন্যদিকে, তার ডানপন্থী জোটের ক্ষমতাসীন নেতারা গাজায় যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাপক চাপের মধ্যে আছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী


ইরান যুদ্ধে অবরুদ্ধ সমুদ্র, মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে স্থলপথের বাণিজ্য

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে অবরুদ্ধ সমুদ্র, মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে স্থলপথের বাণিজ্য

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথগুলো। এ পরিস্থিতিতে আবারও গুরুত্ব বাড়ছে স্থলপথের। সড়ক, রেল, পাইপলাইন এমনকি ফাইবার-অপটিক কেবলও নতুন করে আঞ্চলিক যোগাযোগের বিকল্প পথ হয়ে উঠছে।

দক্ষিণ ইরাকের তেলক্ষেত্র থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াসে যেতে ও ফিরতে প্রায় ১০ দিন সময় লাগে। তাপমাত্রা কখনো ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। তবু প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩০০ ট্রাকের বিশাল বহর এই পথে চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ইয়ারোব বদর।
হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে ইরাক

হরমুজ প্রণালি ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময় বন্ধ থাকায় ইরাকের তেল রপ্তানির বিকল্প পথের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে স্থলপথে যাওয়া এসব ট্রাক ইরাকের যুদ্ধ-পূর্ব তেল রপ্তানির আনুমানিক পাঁচ শতাংশ বহন করছে।
পরিমাণটি খুব বেশি নয়। তবে এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচলে হামলা এবং বিভিন্ন সময় বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় দেশগুলোকে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে।
সমুদ্রপথের আধিপত্যের পর আবার স্থলপথ

১৫০৭ সালে পর্তুগিজ এক জেনারেল হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের পর সমুদ্রপথ ধীরে ধীরে স্থলপথের জায়গা দখল করে নেয়। উটের কাফেলার জায়গা নেয় জাহাজ। পরে আসে আরও বড় বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী সুপারট্যাংকার।

কিন্তু যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তাঝুঁকি পুরোনো স্থলবাণিজ্যপথকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার সময় থেকেই দেশটির প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক স্থলবাণিজ্যের বড় নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কিছু অংশও বিভিন্ন সময়ে চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সিরিয়া হয়ে নতুন বাণিজ্যপথ

২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন পথ তৈরির সুযোগ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে।

পাইপলাইন ও ফাইবার-অপটিক কেবল দিয়ে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এই করিডরের স্থলপথ দুবাই থেকে হাইফা পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বিস্তৃত হওয়ার কথা।