সরকারি চাকরির নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও কোন আইন-মানদণ্ডে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্ন তুলে দলটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দলের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিবৃতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদও জানান তিনি।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত।
মিয়া পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের হঠাৎ করে কোন আইনে, কোন মানদণ্ডে এবং কার সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হলো? অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন। নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা বৈষম্যের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা।








