শেয়ার বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হেনস্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল (সোমবার) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এ চিত্র দেখা গেছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করছিল।

এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে সঙ্গে থাকা সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যায় ড. ইউনূস।

২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

দীর্ঘ ২৩ বছর অবস্থান করার পর অবশেষে ইরাক থেকে প্রত্যাবর্তন করছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। আজ বুধবার ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে সেনাদের প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে।

যদিও তেহরান এবং তার মিত্ররা ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের এ বিদায়কে ‘বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করছে, তবে সত্য হলো— ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে; সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে। তার উত্তরসূরী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেন।

গত ১২ আগস্ট একটি বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছিল ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে। সেখানে বলা হয়েছিল, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সেই ৩০ সেপ্টেম্বর।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কাল বুধবার প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “ইরাকে আইএস বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযানের সমাপ্তি হতে চলেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা প্রস্থান করবে। এই সময়সীমা নির্ধারিত এবং চূড়ান্ত। আগামী ১ অক্টোবর দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। কারণ এই দিন থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।

আরও বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে মার্কিন সেনাদের প্রস্থানের এই ডেটলাইন বা সময়সীমা।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে গিয়েছিলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরের সময়েই ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তার। বুধবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাক এখন থেকে পরস্পরের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকে সম্মান জানাবে এবং অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তেলার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করবে।

বস্তুত, আজ থেকে ২৩ বছর আগে, ২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে দেশটিতে অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন বাহিনী। সে বছর ১৯ মার্চ ইরাকে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী এবং অভিযানের ৯ মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ৩ বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে সাদ্দাম হোসেনের ফাঁসি হয়।

শর্ত অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরেই ইরাক ত্যাগের কথা ছিল মার্কিন বাহিনীর। তবে সাদ্দামের মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই ইরাকে উত্থান ঘটে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের। ফলে এই গোষ্ঠীটিকে নির্মূলের জন্য ইরাকে সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন।

২০২০ সালের পর থেকে অবশ্য ইরাকের ঘাঁটিগুলোতে সেনা উপস্থিতি কমানো হচ্ছিল। সর্বশেষ মোট ৪ হাজার ৫০০ জন সেনা ছিলেন বিভিন্ন ঘাঁটিতে। আজ তাদের শেষ দলটি ইরাক ত্যাগ করছে।

ইরাকে অবস্থানের ২৩ বছরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তুলতে অনেক সহযোগিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এ খাতে অর্থ সহায়তা দিয়েছে, আর ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়েছে মার্কিন সেনারা।

ইরাকের সাধারণ জনগণ মার্কিন সেনাদের এ বিদায়ে আনন্দিত, তবে অনেকেরই দুশ্চিন্তা যে মার্কিন সেনারা বিদায় নিলে ইরাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী হয়তো তাদরে সামাল দিতে পারবে না।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, “ নিরাপত্তাক্ষেত্রে সৃষ্ট যে কোনো শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। গত দু’দশকে আমরা এ শিক্ষা পেয়েছি।”

সূত্র : রয়টার্স


১২ হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১২ হাজারেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব

সৌদি আরবে আইন অমান্য করে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান শুরু হয়েছে। দেশটিতে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযানে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬শ জনের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনযায়ী, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বিশেষ নিরাপত্তা অভিযানে মোট ১৩ হাজার ৬২৮ জনকে আটক করা হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৩ জন আবাসিক আইন, ৩ হাজার ৫৩১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ৩ হাজার ৫০৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছিলেন। 

এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে ঢোকার সময় ১ হাজার ১৯৯ জনকে আটক করা হয়, যাদের বড় একটি অংশ ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। পাশাপাশি দেশ ছেড়ে অবৈধভাবে পালানোর সময় আরও ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন লঙ্ঘনকারীদের কেবল দেশ থেকেই বের করে দেওয়া হচ্ছে না, বরং তাদের ভ্রমণ প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ১৮ হাজার বেশি মানুষকে নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে ট্রাভেল পাস বা নথিপত্র সংগ্রহের জন্য। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের যাতায়াত বা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করার অপরাধে ২২ জন স্থানীয় সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩১ হাজারের বেশি প্রবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন।

অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা করবে, গাড়ি বা বাড়ি দিয়ে আশ্রয় দেবে, তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের জেল এবং ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এমনকি অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ঘটনা দেখলেই দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


ফের উত্তাল ভারত, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের ওপর উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফের উত্তাল ভারত, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের ওপর উঠে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রদর্শিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৩ যুদ্ধবিমানের ওপর উঠে এবং আরও কয়েকজন একটি সামরিক ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, ভোররাত প্রায় একটার দিকে ছাত্রী হোস্টেলের কাছে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রীকে এক বহিরাগত ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন। ওই ব্যক্তি প্লাম্বার বা নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

তবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

বিক্ষোভের সময় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক জমায়েত ও স্লোগানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর, একটি ভবনের অংশে আগুন এবং কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের দৃশ্যও দেখা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। পুলিশ বিকল্প সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে।

কাপুরথালা জেলার পুলিশ সুপার গৌরব তুরা জানান, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসংক্রান্ত নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। পুলিশ তাদের অভিযোগ শুনেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।

জলন্ধর রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক নবীন সিংলা বলেন, ওই ছাত্রীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি জানান, তদন্তে ফরেনসিক পরীক্ষা, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার্থী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার মেজর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী হোস্টেলগুলোর পুরো কর্মী কাঠামো নারী সদস্যদের দিয়ে পরিচালনার দাবিও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে এলপিইউর রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব গুজবের কোনো সত্যতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে এসব তথ্য বিশ্বাস বা ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুসরণ করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি