শেয়ার বাজার

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

হুথি হামলা সত্ত্বেও সৌদি তেলের আংশিক রপ্তানি পুনর্বহালের খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স সংবাদ সংস্থার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে কম রেকর্ড করা হয়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়ায়।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ব্যারেলে ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে আসে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রশমনে চলতি সপ্তাহে একটি কূটনৈতিক পথ উন্মোচনের আশায় তেলের বাজার থেকে ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্যের একটি অংশ হ্রাস পাচ্ছে। তবে এই আশা বাস্তবায়িত হবে কি না তা সময়ের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: আল জাজিরা

বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক আরোপ করলো ভারত

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন ও বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং বা বাজার সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশি পাটপণ্য রপ্তানির পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর করেছে।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে- বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করায় ভারতের স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারতের জারি করা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক ধরা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সবচেয়ে কম, অর্থাৎ টনপ্রতি ৫৯ ডলার শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।

নতুন এই শুল্ক ব্যবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস কেবল পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা উপভোগ করবে।

ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু করে ভারতের ডিজিটিআর। বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর চালানো এই তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তাতে সাড়া দেয়। ডিজিটিআরের দাবি, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে এসেছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক। তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে ভর্তুকির হার বিবেচনা করেছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক কম।’

ভারতের বাজারে রপ্তানি সাময়িক কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিক রপ্তানি কমার আশঙ্কা নেই বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে পাটের সুতা, টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তা আমদানিতে প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত, যা পরবর্তীতে পাটের বস্তার কাপড়ের ওপরও সম্প্রসারিত হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে ১১৬ কোটি ডলার আয় করেছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে অর্থনীতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। একইভাবে ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে, রপ্তানির গতি কমেছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচও বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৮ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

অন্যদিকে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার এ অঞ্চলের র্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।



ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য তুলে ধরেছে দেশটি।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ সভায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাণিজ্য প্রতিকারমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, তা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণেও জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার বিষয়টিও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয় সভায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও রয়েছে আলোচ্যসূচিতে।

আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থলবন্দর, কাস্টমস ও সীমান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সীমাবদ্ধতা নিরসন জরুরি। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়।