শেয়ার বাজার

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিউমার্কেটে জমে উঠেছে কেনাকাটা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটির দিনে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় জমে উঠেছে কেনাকাটা। সকাল থেকেই নিউমার্কেট ও আশপাশের বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে নতুন পোশাক কেনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করছেন অনেকে। ছুটির দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারাও।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে কেনাকাটার এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূজার সময় নিউমার্কেট এলাকায় বাড়তি ভিড় ও যানজটের কারণে কেনাকাটায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ কারণে শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে অনেকেই আগেভাগে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পোশাক কিনতে এসেছেন অনেকে। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি থাকায় দোকান ও ফুটপাতের বিভিন্ন পণ্যের দোকানে কেনাকাটার ব্যস্ততা দেখা গেছে।

নিউমার্কেট এলাকায় তুলনামূলকভাবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, থ্রি-পিস, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে এসব দোকানে।

বিভিন্ন দামের পোশাক থাকায় ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন।

ফুটপাতের দোকানগুলোতে পোশাকের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কেউ নিজের জন্য পোশাক কিনছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের জন্য একসঙ্গে কয়েকটি পোশাক বেছে নিচ্ছেন। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় বিক্রেতাদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। দরদাম করে পছন্দের পোশাক কিনতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের।

ছুটির দিনে ক্রেতাদের এমন উপস্থিতিতে খুশি বিক্রেতারা। পূজাকে কেন্দ্র করে বিক্রি বাড়ার প্রত্যাশা করছেন তারা। সারা দিনের বিক্রির ওপর নির্ভর করছে তাদের আয়। তাই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পোশাক সাজিয়ে রেখে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নিউমার্কেট কেনাকাটা করতে আসা দীপ্তি বিশ্বাস বলেন, কিছুদিন পরে পূজা। শেষ মুহুর্তে ভিড় জমবে তাই আগেই কেনাকাটা করতে আসলাম। এখন স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছি।

আরেক ক্রেতা অলোক মন্ডল বলেন, বৌ-বাচ্চা নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছি। মার্কেট থেকে কিছু কেনাকাটা করলাম। ফুটপাত থেকেও কিনলাম। কাপড় প্রায় একই। ফুটপাতে একটু কম দামে কিনতে পারা যায়।

নিউমার্কেটের গ্লোব শপিং মার্কেটের বিক্রেতা আমানুর বলেন, বিক্রি হচ্ছে ভালোই। এমনিতেই ছুটির দিনে একটু ভিড় থাকে, তারপর সামনে পূজাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা সমাগম বেশী। আমরা ভালো বিক্রি নিয়ে আশাবাদী।

ফুটপাতের বিক্রেতা রবিন বলেন,আমরা অল্প লাভে মাল বিক্রি করি। আমাদের সেল বেশি, লাভ কম। বেশি বিক্রি হওয়ায় পুষিয়ে যায়। ভালো বেঁচাবিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকেই ভিড়। রাত পর্যন্ত ভিড় থাকবে।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিউমার্কেট এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজার আনন্দকে সামনে রেখে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতা ও বিক্রেতারা। তবে ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।

নিউমার্কেট এলাকায় ক্রেতা সমাগম বাড়ায় প্রধান সড়কে যানযট তৈরি হয়েছে। ছুটির দিকে সড়ক অনেকটা ফাঁকা থাকলেও আজ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের টহন গাড়িও দেখা গেছে।

এ মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

এ মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়াসহ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থ সংস্থানে অক্টোবরে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।অবশ্য এই ঋণের বড় অংশই পুরোনো ঋণ সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব ঋণের বড় একটি অংশ আগের ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। এছাড়া, দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে খরচ করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুত্-জ্বালানির খরচও অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুত্-জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। সাধারণভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি রবিবার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত তারল্যের মাধ্যমে এগুলো কিনে থাকে। বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড ও বিলের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলো হতে ধার করে থাকে। গেল সপ্তাহে রবিবার বিভিন্ন ধরনের বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। আর বন্ডের মাধ্যমে মঙ্গলবার নেওয়া হয় ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ। আর আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে আগের দিন সোমবার নিলাম করে ৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে আরো ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে সরকার বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর আগে নিলামের বিপরীতে গত জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরের নিলামে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয় সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়। এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে হয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।


বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

বাজেটে ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সামনের বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রাখবো। চলমান বাজেটে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বাজেট সেজন্য এখানে কোনো টাকা বরাদ্দ ছিল না।
শনিবার (১৬ মে) চাঁদপুরে খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই না, পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই; যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার হবে। এমনকি দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। এর ফলে খালের দুই পাশে যারা থাকে, তারাও পানির সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরা স্বাবলম্বী হলে এই দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে মজবুত হবে। আর দেশের অর্থনীতি মজবুত হলে এই দেশের মানুষের অর্থনীতি মজবুত হবে।


নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

বার্তাবেলা: বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স সোনার দাম দুই হাজার ১০০ ডলার স্পর্শ করে সপ্তাহে। সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পর অবশ্য সেই দাম ধরে রাখতে পারেনি এ ধাতুটি। রেকর্ড সৃষ্টির পর বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ধাতুটির দাম প্রায় ৭০ ডলার কমেছে।

বিশ্ববাজারের মতো দেশের বাজারেও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ফলে দেশের বাজারেও সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কয়েক দফা দাম বাড়ার পর গত সপ্তাহে দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তবে, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম কমেছে দেশের বাজারে দাম কমার হার সেই তুলনায় কম।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭১ দশমিক ৯৭ ডলার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৪ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ২ হাজার ১২৪ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আর আগে বিশ্ববাসী দেখেনি।

অবশ্য এ রেকর্ড দাম হওয়ার পরপরই পতনের মধ্যে পড়ে সোনা। ওই দিনই প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ২ হাজার ২১ ডলারে চলে আসে। অর্থাৎ একদিনেই সোনার দাম ১০০ ডলারের ওপর কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একদিনের মধ্যে সোনার দামে এমন উত্থান-পতনও আগে কখনো দেখা যায়নি।

সোনার দামের এমন উত্থান-পতন বিস্মিত করেছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, দাম বাড়বে এবং কমবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একদিনের মধ্যে এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়ে যাওয়া এবং কমে যাওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সাধারণত দাম বাড়া বা কমার পেছনে কোনো না কোনো ঘটনা থাকে। কিন্তু এবার কি কারণে এমন দাম বাড়লো এবং কি কারণেই দরপতন হলো তার কোনো কারণ খুঁছে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই এক আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ১২৪ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আগে কখনো হয়নি। কিন্তু এ রেকর্ড দামের পরই আমরা আবার বড় দরপতন দেখতে পাই। একদিনের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০০ ডলার কমে যায়। সোনার দামে এমন অস্থিরতা আগে দেখা যায়নি। এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি যখন সোনার দাম বেড়েছে বা কমেছে তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে। কিন্তু এবার কেন সোনার এত দাম বাড়লো, আবার কেনই বা কমলো তার কোনো কারণ জানতে পারেনি। এটা শুধু আমাদের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নয়, অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদেরও বিস্মিত করেছে।

এদিকে একদিনে বড় উত্থান পতনের পর গত সপ্তাহের বাকি চার কর্যদিবসেও সোনার দাম কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ১ হাজার ৯৯৫ ডলারে চলে আসে। তবে শেষদিকে কিছুটা দাম বেড়ে ২ হাজার ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে থিতু হয়েছে সোনা।

এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই কমেছে ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারে গত সপ্তাহের সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাজুস। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠক করে ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে।

ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮ হাজার ১২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২২৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ৮৮ হাজার ৪৭১ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা কমিয়ে ৭৩ হাজার ৭১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেইসঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০ টাকা গুনতে হতো।

এ দাম কমানোর আগে ৩০, ২৭, ১৯ ও ৬ নভেম্বর এবং ২৭ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ৩০ নভেম্বর সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৯২৯ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেশের বাজারে এর থেকে বেশি দামে আর সোনা বিক্রি হয়নি।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় পতন হওয়ায় এখন দেশের বাজারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে এমএ হান্নান আজাদ বলেন, সর্বশেষ আমরা যখন দাম সমন্বয় করেছি সে সময় স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার যে দাম ছিল এখনো প্রায় তাই রয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আমরা সোমবার বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দেখবো। যদি দাম সমন্বয়ের মতো হয়, তাহলে দাম সমন্বয় করা হবে।