শেয়ার বাজার

এ মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

এ মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়াসহ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থ সংস্থানে অক্টোবরে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।অবশ্য এই ঋণের বড় অংশই পুরোনো ঋণ সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব ঋণের বড় একটি অংশ আগের ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। এছাড়া, দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে খরচ করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুত্-জ্বালানির খরচও অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুত্-জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। সাধারণভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি রবিবার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত তারল্যের মাধ্যমে এগুলো কিনে থাকে। বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড ও বিলের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলো হতে ধার করে থাকে। গেল সপ্তাহে রবিবার বিভিন্ন ধরনের বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়। আর বন্ডের মাধ্যমে মঙ্গলবার নেওয়া হয় ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ। আর আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে আগের দিন সোমবার নিলাম করে ৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে আরো ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে সরকার বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর আগে নিলামের বিপরীতে গত জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরের নিলামে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয় সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়। এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে হয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

২ লাখ ২০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

২ লাখ ২০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। এসব সার কিনতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে সার কেনার এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩য় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে।
এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৩১২ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার।

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৬ষ্ঠ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৪০ টাকা।
প্রতি টনের দাম পড়বে ৪৬৩ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব-ইউএই থেকে সিএফআর ভিত্তিতে ১ম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৫৪৫ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া মরক্কোর এসএ ওসিপি নিউট্রিক্রপসের সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জিটুজি চুক্তির আওতায় তিন লটে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ৭ম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৮৭৭ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, ৮ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ টাকা। প্রতি টনের দাম পড়বে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

আর ৯ম লটে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৮২০ টাকা। এ লটেও প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের দাম পড়বে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

ছয়টি ক্রয় প্রস্তাবে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টন সার কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ১ লাখ ১০ হাজার টন, ডিএপি ৪০ হাজার টন এবং টিএসপি ৭০ হাজার টন। কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এসব সার আমদানি ও ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


উদ্বোধন হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

উদ্বোধন হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) পর্দা উঠলো। রোববার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মাসব্যাপী এ মেলার ২৮তম আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে পণ্য উন্নয়ন ও পণ্যের বহুমুখী বাজার সৃষ্টিকরণ। আর পণ্যের বাজার সৃষ্টিকরণের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন ও মেলায় অংশগ্রহণ। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে।

মেলার ২৫টি পর্ব আয়োজিত হয়েছে শের-ই-বাংলা নগরের উন্মুক্ত মাঠে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাণিজ্যমেলার জন্য নির্মিত স্থায়ী ভেন্যু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ডিআইটিএফ-২০২২ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। এই স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সে তৃতীয়বারের মতো হচ্ছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৪। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। মেলায় এসব দেশের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারি ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে। আগের মতো মেলাটি মাসব্যাপী সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এবার মেলায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ফার্মগেট থেকে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে উত্তরা বা মতিঝিল থেকে যারা মেলায় আসবেন তারা মেট্রোরেল এসে ফার্মগেট থেকে বাসে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সোজা মেলায় চলে আসতে পারেন সেই সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা পর্যন্ত বিআরটিসি ও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের ডেডিকেটেড সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন এ বাস সার্ভিস চালু থাকবে। এবারের বাণিজ্যমেলার লে-আউট প্ল্যান (সংশোধিত) অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১টি।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণার্থে মেলাপ্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র্যাব নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সার্ভিস গেট ও ভিআইপি গেটের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার বিবেচনায় মেলাপ্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলার প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে যে কোনো ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড।

মেলার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয়। দর্শনার্থীদের সব প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে একটি তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকছে ডাচ্-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ। এছাড়া মেলায় থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সার্ভিস বুথ। মেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। মা ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে মেলায় স্থাপন করা হয়েছে দুটি মা ও শিশুকেন্দ্র। অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, নিউট্রিশন অ্যান্ড অটিজম সেবা, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার বেঞ্চ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ-সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার অবদান ও ভাবনা, দেশের উন্নয়ন ইত্যাদিকে প্রক্ষেপণ করে এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন অধিকতর নান্দনিক, ভাবগাম্ভীর্য ও অর্থপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার প্রকৃত ইতিহাস সবার কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন ছাড়াও সম্পর্কিত বই এবং তার জীবন ও কর্মভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে বিক্রি

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে বিক্রি

আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও এর বিন্দুমাত্র প্রভাব নেই দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। উল্টো সেখানে এই দুই ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে বিশ্ববাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম কমেছে। অথচ একই সময়ে খাতুনগঞ্জে সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি অন্তত ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’-এর আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, জুন-আগস্ট– এই তিন মাসে পাম ও সয়াবিন তেলের গড় দাম এপ্রিল-জুনের গড়ের তুলনায় কমেছে। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১১৭ ডলার। জুনে ছিল ১ হাজার ১০৪ ডলার এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১০১ ডলার। ফলে জুন-আগস্ট তিন মাসে গড় দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এর আগে এপ্রিল-জুনে এই গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ দুই সময়ের গড় তুলনায় পাম তেলের দাম কমেছে প্রায় ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল, মে ও জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৬৪৩, ১ হাজার ৭৮১ ও ১ হাজার ৭৪০ ডলার। ওই তিন মাসের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। অন্যদিকে জুন, জুলাই ও আগস্টে দাম ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৭৪০, ১ হাজার ৬৫৮ ও ১ হাজার ৬৩৮ ডলার। ফলে জুন-আগস্টের গড় দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলার। অর্থাৎ আগের তিন মাসের তুলনায় সয়াবিন তেলের দাম কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী গড়ের বিপরীতে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে সয়াবিন তেল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুপার পাম তেলের দর চলছে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকা মণ। বাজারসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দেড় মাস আগেও খাতুনগঞ্জে সয়াবিন তেলের দর ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এ সময়ে মণপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা বা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে পাম তেলের দরও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, ‘বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।’


এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচসহ বিভিন্ন বিষয় স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আগের উচ্চ দামে আমদানি করা তেল বাজারে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পাইকারি দামে তার প্রভাব নাও পড়তে পারে। আবার আমদানির পরিমাণ কমে গেলে বা সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও দাম বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। গত ২৯ এপ্রিল এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৫৫ থেকে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬ থেকে ১৮০ টাকা করা হয়। এরপর ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে হলে শুধু টনপ্রতি মূল্য দেখলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো বিবেচনায় নিতে হবে। সরবরাহ ও আমদানি ব্যয়ের পরিবর্তনও বর্তমান বাজারদরে প্রভাব ফেলছে।