শেয়ার বাজার

জন্মদিনে গাড়ি উপহার দেন মা, সেই গাড়ি দিয়ে সড়কে ৩ জনের প্রান নিলেন ছেলে

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জন্মদিনে গাড়ি উপহার দেন মা, সেই গাড়ি দিয়ে সড়কে ৩ জনের প্রান নিলেন ছেলে

ভারতের কেরালায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় তিন তরুণের মৃত্যুর ঘটনার পর ১৯ বছর বয়সি চালক সুহাইল সাজিভের পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে তাকে ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এদিকে ছেলের জন্মদিনে তাকে বিলাসবহুল গাড়িটি উপহার দেওয়ার কথা জানিয়ে তার মায়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে কেরালার এরনাকুলাম জেলার নেদুম্বাসেরির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুহাইলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দেবিকা (২১), গোপিকা (২২) ও ইজাজ (২১) নামের তিন তরুণ একটি স্কুটারে করে বিমানবন্দর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে পেছন থেকে দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়িটি স্কুটারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। ধাক্কার পর গাড়িটি স্কুটারটিকে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলেই দেবিকা ও গোপিকার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত ইজাজকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুহাইলের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জন্মদিনে ছেলেকে মিনি কুপার উপহার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সুহাইলের মাকে ছেলেকে মিনি কুপার গাড়ি কিনে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। মালয়ালম ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, গাড়িটি ছিল সুহাইলের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ছেলের সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে পরিবারের সবাই খুশি হয়েছিলেন বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করেন তিনি।

তার মা আরও জানান, নিজের জন্মদিন ডিসেম্বরে থাকায় ওই সময়ের কাছাকাছি গাড়িটি কেনার কথা ভেবেছিলেন। পরে ছেলের জন্য উপহার হিসেবে গাড়িটির ব্যবস্থা করেন।

এদিকে পুলিশ সুহাইলের এমন কিছু ভিডিও পেয়েছে, যেগুলোতে তাকে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গাড়ি চালাতে দেখা যায় বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর কথিত মন্তব্যে ক্ষোভ

দুর্ঘটনার পর পুলিশকে সুহাইলের বলা কিছু কথিত মন্তব্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশকে বলেন, ‘রাস্তা কিসের জন্য? গাড়ি চালানোর জন্য, তাই না?’ এ ছাড়া তার বাবা বিষয়টি সামলে নেবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এসব কথিত মন্তব্যের কারণে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

কেরালার আবগারি ও করবিষয়ক মন্ত্রী এম লিজু দুর্ঘটনার আগে সুহাইলকে মদ পরিবেশন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠা বারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের ধারণা, সংঘর্ষের আগে সুহাইল একাধিক পানশালায় মদ পান করেছিলেন।

কেরালায় আইন অনুযায়ী মদ্যপানের ন্যূনতম বয়স ২৩ বছর। ফলে ১৯ বছর বয়সি সুহাইলকে মদ পরিবেশন করা হয়ে থাকলে তা বেআইনি হবে।

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়নি ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে সম্মত হয়নি ইরান

ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে হস্তান্তরে সম্মত হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রোববার (২৪ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। 

ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক ইস্যু চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই এটি বর্তমান সমঝোতার অংশ নয়। এছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। 

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২৩ মে) দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চুক্তি 'প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে' পৌঁছেছে এবং শিগগিরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।  

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চালু রয়েছে, তবে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত। 


টিকটক ভিডিও দেখে ১৯ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন যমজ বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪

টিকটক ভিডিও দেখে ১৯ বছর পর একে অপরকে খুঁজে পেলেন যমজ বোন

দুজন দেখতে হুবহু একই রকম। চোখ, কান, নাক, মুখের আদলে দুজনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করা দুষ্কর। কারণ সম্পর্কে তারা যমজ বোন। অথচ ১৯ বছর ধরে একই শহরে থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ কাউকে চিনতেন-ই না! হঠাৎ ভাইরাল হওয়া এক টিকটক ভিডিওর সূত্র ধরে পরিচয় হয় তাদের। সেখান থেকেই বেরিয়ে এলো পুরো সিনেমার মতো কিন্তু বাস্তব গল্প।

গল্পটার শুরু ২০০২ সালে, পূর্ব এশিয়ার দেশ জর্জিয়ায়। সে বছরের ২০ জুন আজা শোনি নামের এক নারী জর্জিয়ার কিরতিশখি গ্রামে দুটি জমজ কন্যা শিশুর জন্ম দেন। জন্মদানের পর বেশকিছু জটিলতায় কোমায় চলে যান শোনি। আর পরিবারে আরও তিনটি সন্তান থাকায় বাবা গোচ গাখারিয় জমজ বাচ্চা দুটি আলাদা দুটি পরিবারে বিক্রি করে দেন।

পরে ওই দুই শিশু অ্যামি খাভিশা ও আনো সারতানিয়া নামে বেড়ে ওঠে। বয়স যখন ১২ বছর তখন অ্যামি তার প্রিয় টিভি শো ‘জর্জিয়াস গট ট্যালেন্ট’ দেখছিলেন। সেখানে তিনি একটি মেয়েকে দেখেতে পান, যার সঙ্গে তার চেহারার হুবহু মিল রয়েছে। কিন্তু তিনি তখনও জানতেন না যে, নাচতে থাকা মেয়েটিই তার বোন। শেষমেষ ২০২১ সালে একটি টিকটক ভিডিওর সূত্র ধরে একে অপরকে খুঁজে পান দুই বোন।

২০২১ সালে অ্যামি তার চুলের রং নীল করেন ও টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিও আবার এক বন্ধু অ্যানোকে পাঠান ও জানতে চান যে অ্যানো চুলে নতুন রঙ করেছেন কি না। ভিডিওটি দেখে অ্যানো তার বন্ধুকে জানা, ভিডিওর মেয়েটি তিনি নন।

পরে চেহারায় হুবহু মিল থাকা মেয়েটির পরিচয় জানার জন্য অ্যানো ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেন। এরপর অ্যামি কৌতুহলী হয়ে অপর তরুণীর প্রোফাইলে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটির নাম আনো সারতানিয়া। তিনি থাকেন ৩২০ কিলোমিটার দূরের শহর তিবিলিসিতে।

কিন্তু কোনোভাবেই কিছুতেই আনোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না অ্যামি। পরে একটি বিশ্বিবদ্যালয়ের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ভিডিওটি পোস্ট করে অ্যামি জানতে চান যে এই মেয়েটিকে কেউ চেনেন কি না। সেখানে একজন সাড়া দেন।

পরে তার মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আনোর সঙ্গে। এভাবেই যমজ বোন পরস্পরকে খুঁজে পান। অ্যামি বলেন, তিবিলিসির রুস্তাভেলি মেট্রো স্টেশনে যখন আমাদের দেখা হলো, তখন মনে হচ্ছিল আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। যেন নিজেকেই দেখছি। একই মুখ, একই চোখ, একই নাক। এমনকি, কণ্ঠস্বর পর্যন্ত এক। আমি জড়িয়ে ধরা পছন্দ করি না। কিন্তু সেই মুহূর্তে নিজেকে আর সামলাতে পারিনি। আনোকে জড়িয়ে ধরি।

অ্যামি–আনো জানান, পরবর্তী সময়ে তারা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে তারা সত্যিই যমজ বোন। তবে তারা তাদের বাবাকে আর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেননি। তাদের দাবি, যে বাবা তার সন্তানদের বিক্রি করে দিয়েছেন, সেই বাবার সঙ্গে দেখা করা উচিত না।

তবে তারা তাদের জন্মদাত্রী মা আজার সঙ্গে লাইপজিগের একটি হোটেলে দেখা করেন। তখন আজা তাদের বলেন, অ্যামি–আনোর জন্মের পর তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে সন্তানদের খুঁজলে হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছিলেন, তার সন্তানরা জন্মের পরপরই মারা গেছে।

অ্যামি-আনোর এই ঘটনায় জর্জিয়ার একটি কলঙ্কিত দিকও বের হয়ে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, জর্জিয়ায় ১৯৫০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বহু শিশু চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার পেছনে হাসপাতাল কর্মীরা ব্যাপকমাত্রায় জড়িত ছিলেন। এসব ক্ষেত্রে হতভাগা মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বলা হতো, তাদের সন্তান জন্মের পরেই মারা গেছে।

অ্যামি ও আনোর পালক মায়েরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। দত্তক নেওয়া পরিবার দুটিও জানতো না যে, অ্যামি-অ্যানো জমজ বোন ছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি


‘মক্কা-মদিনা ছাড়া পুরো সৌদি আরব হামলার জন্য উন্মুক্ত’

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

‘মক্কা-মদিনা ছাড়া পুরো সৌদি আরব হামলার জন্য উন্মুক্ত’

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সোমবার (৫ অক্টোবর) আবারও হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এই আক্রমণ পরিচালনা করেছে বলে হুথিদের এক সামরিক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন।

হুথি সামরিক মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটিতে সূক্ষ্ম হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে সেখানকার বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।

এর আগে একই দিনে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি জারি করে হুথি বিদ্রোহীরা। ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘মক্কা ও মদিনার পবিত্র আকাশসীমা ব্যতীত সমগ্র সৌদি আকাশসীমা আমাদের হামলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার অব্যাহত রাখলে যেকোনো ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় নিতে তারা অস্বীকার করেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই