শেয়ার বাজার

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার ভাবনা, শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩১০০

মালয়েশিয়ায় স্বল্প বেতনভোগী শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার আগে বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এর চেয়ে আরও বেশি মজুরি দাবি করেছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। সরকার এটি বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে নতুন হার কত হবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী আকমান নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির বলেছেন, ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের বাজেট ঘোষণার সময় জানাবেন। তবে মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এমএসএমই খাতের টিকে থাকার মধ্যে ভারসাম্য রেখে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারার সাবেক শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন রিঙ্গিত মুনাফা করবে, অথচ শ্রমিকরা ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত বেতন পাবেন—এটি টেকসই নয়।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা ও কোম্পানির আয় বাড়লে শ্রমিকদেরও উচ্চ মজুরির মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাজেটে কিছু উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

২০১৩ সালে ৯০০, এখন ১ হাজার ৭০০

মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৩ সালে। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ছিল ৯০০ রিঙ্গিত। এরপর ২০১৬ সালে ১ হাজার, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০, ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত করা হয়।

অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের হার ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে কর্মীর সংখ্যা নির্বিশেষে দেশজুড়ে তা কার্যকর করা হয়। তবে গৃহকর্মীরা এর আওতাভুক্ত নন।

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকরাও পাবেন সুবিধা

মালয়েশিয়ার ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশের যোগ্য বিদেশি শ্রমিকরাও স্থানীয় আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মৌলিক মজুরি পাওয়ার অধিকারী।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকরাও অন্তত ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম বেসিক বেতন পাওয়ার অধিকার রাখেন। নতুন হার ২ হাজার রিঙ্গিত হলে যোগ্য বিদেশি শ্রমিকদের বেসিক বেতনও সেই হারে বাড়বে।

মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ নেপালি শ্রমিক কাজ করেন। ন্যূনতম মজুরি বাড়লে তারাও সরাসরি উপকৃত হবেন।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ও নেপালের কয়েকজন শ্রমিক জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবারের দাম বাড়ায় খরচ মেটানোর পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তা দেশে পাঠাতে হয়। ওভারটাইম না থাকলে সঞ্চয় করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলেও জানান তারা।

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত

ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার রিঙ্গিত করার আলোচনা চললেও মালয়েশিয়ান ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (এমটিইউসি) ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিত করার দাবি জানিয়েছে। বর্তমান ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিতের তুলনায় এই দাবি ৮২ শতাংশেরও বেশি।

ইতোমধ্যে কিছু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ও সরকারি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মাসে ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে। তবে এটিকে এখনো নতুন আইনগত ন্যূনতম মজুরি হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেনি।

১ হাজার ৭০০ থেকে সরাসরি ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতে মজুরি বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শ্রম ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে সীমিত মুনাফায় পরিচালিত ছোট ব্যবসাগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে বলে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এর প্রভাব পণ্যের দাম ও নতুন নিয়োগের ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আকমান নাসির বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই মজুরি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তার মতে, মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদনশীলতারও সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

দুই বছর পরপর পর্যালোচনা

মালয়েশিয়ার আইনে অন্তত দুই বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। এ সময় জাতীয় মজুরি পরামর্শ কাউন্সিলকে ন্যূনতম মজুরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হয়।

২০২৭ সালের বাজেটের প্রাক-বাজেট বিবৃতিতেও সরকারের ‘ডিসেন্ট ওয়েজ এজেন্ডা’ বা মর্যাদাপূর্ণ মজুরি কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশে ন্যূনতম মজুরি বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। একই সঙ্গে সরকারি মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানি ও সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ১০০ রিঙ্গিতকে জীবনযাপনের উপযোগী মজুরির মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মালয়েশিয়ার ১৩তম পরিকল্পনাতেও ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে উচ্চ আয় ও উচ্চ উৎপাদনশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বেতনের ওপর মালয়েশিয়ার কর্মচারী ভবিষ্যৎ তহবিল (ইপিএফ)-এ নিয়োগকর্তা ও বিদেশি শ্রমিক উভয়কেই ২ শতাংশ করে অবদান রাখতে হচ্ছে।

শতবর্ষে থামল সিতি হাসমাহর জীবন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শতবর্ষে থামল সিতি হাসমাহর জীবন

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ-এর স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী আর নেই। শতবর্ষ বয়সে তিনি মারা গেছেন। সোমবার কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।


নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিতি হাসমাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির।


এদিকে সংসদে একটি টাউনহল অধিবেশন চলাকালে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হলে উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। পরে তার সম্মানে সংক্ষিপ্ত ইসলামী দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।


তুন ড. সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী হিসেবে দেশটির জনজীবনে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

Kayes@Aaa

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন

কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, নেই কোনো ডামাডোল। এর মধ্যেই নীরবে খুলে গেল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটি-র চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। হাইকমিশন ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই সত্যায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কার্যত আবার শুরু হলো। তবে বহুল প্রত্যাশিত বাজারটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই চালু হওয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার।
এরপর দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর ফের বাজার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বন্ধ ও সংকুচিত শ্রমবাজারগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর প্রথম বিদেশ সফরও ছিল মালয়েশিয়ায়। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবার উন্মুক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
শ্রমবাজার খুললেও এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন স্বচ্ছ ও নিরাপদ ব্যবস্থায় বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, নাকি তথ্যের ঘাটতি ও প্রক্রিয়ার জটিলতার সুযোগে আবারও সক্রিয় হবে দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী ও কথিত সিন্ডিকেট?
মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই তথ্য যথাযথভাবে প্রচার না হওয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।
এই তথ্যঘাটতির সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে।
ফলে সরকারি তথ্যের পরিবর্তে দালালচক্রের প্রচারই অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট জমা না দিতে, টাকা পরিশোধ না করতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করাতে পরামর্শ দিয়েছে।
কিন্তু ২৮ কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়নের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ব্যয় এবং পরবর্তী ধাপ নিয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এদিকে অতীতের অভিজ্ঞতায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে কর্মীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবারও বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
শ্রমবাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সরকার নির্ধারিত ব্যয় এবং কর্মীদের প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
এরই মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটির বাস্তবায়ন দেখতে চান চাকরিপ্রত্যাশীরা।
তাদের বক্তব্য, সরকারি ব্যবস্থায় কম খরচে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা গেলে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে নানা অভিযোগে একাধিকবার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। পরে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতায় আবার তা খুলেছে। এবারও বাজার খোলার পর পুরোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে ফের সংকট তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।


বাংলাদেশ সরকার স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় কর্মী নির্বাচন ও প্রেরণের জন্য ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় সরকারি ডাটাবেজ ব্যবহার করে কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ১৯ ধারার বিধান অনুযায়ী, প্রথমে বিএমইটির ডাটাবেজ থেকে উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন করার কথা। সেখানে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া না গেলে সরকারের অনুমতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী বাছাই করার বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতীতে এই বিধান পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি চাহিদাপত্র পাওয়ার আগেই কর্মী সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর শুরুতেই আইনি কাঠামো ও সরকারি ডাটাবেজভিত্তিক কর্মী নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদ থাকে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।


গাজা যেন এক বিচ্ছিন্ন মৃত্যুপুরী!
বেঁচে যাওয়া মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যসামগ্রী পাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বেঁচে যাওয়া মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যসামগ্রী পাচ্ছে না

বার্তাবেলা ডেস্ক: ইসরায়েলি হামলায় গাজা ধ্বংসপ্রায়। ৩০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত।  ইসরায়েলের নির্দেশমতো উত্তর গাজা থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ দক্ষিণে সরে গেছে। রাফা সীমান্তে তাদের পরিণতি কী ঘটে বলা যাচ্ছে না। পানি, বিদ্যুত্ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সরবরাহ থেকে বিচ্ছিন্ন মৃত্যুপুরী এখন গাজা।

অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সংকট দিনে দিনে গভীরতর হচ্ছে। বেঁচে যাওয়া মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যসামগ্রী পাচ্ছে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ইসরায়েল গাজার সাধারণ মানুষকে অনাহারে থাকতে বাধ্য করছে যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ নাকবা। আরবি শব্দ যার অর্থ বিপর্যয়। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি ভিটেমাটি থেকে উত্খাত হয় যা নাকবা পরিচিতি পায়। ইসরায়েলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন মনে হয় আরেকটি নাকবার মাধ্যমে সংকট শেষ হবে। দেশটির কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী আভি ডিচতার ডিসেম্বরে বলেছিলেন, গাজার বাস্তুচ্যুতি ২০২৩ সালের নাকবা হয়ে থাকবে। ইসরায়েলের ক্ষমতাসীনদের মুখে নাকবা শব্দ তেমন একটা শোনা যায় না। দেশটির উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিবিদরা সম্প্রতি নাকবা শব্দ ব্যবহার করছেন। শব্দটা ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাভাবিক বলেই তারা মনে করেন। ’৪৮ সালের সেই ঘটনা তাদের জন্য বিপর্যয় ছিল না। ইসরায়েলের জন্য সীমানা সম্প্রসারণের সুযোগ। ডানপন্থি জায়নিস্ট পার্টি থেকে আসা অর্থমন্ত্রী বেজালেল সমোিরচ কয়েক বছর আগে পশ্চিম তীর অন্তর্ভুক্তিকরণের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব দেন। বলা হয়েছিল সেখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা পূর্ণ নাগরিক না হয়ে হয় ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে অথবা অন্য কোথাও চলে যাবে। পূর্ণ নাগরিক না অর্থ স্থায়ী বসবাসের অধিকার বা ভোটাধিকার থাকবে না। পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে সেই অবস্থায় আছে।

অনেকে বলছেন, গাজায় এখন যা হচ্ছে তা আসলেই নাকবাই। ১৯৪৮ সাল বা ১৯৬৭ সালে যা হয়েছিল বর্তমান পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে ঐ দুই ঘটনাকে ছাপিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই এ ব্যাপারে কিছু একটা করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েলের গাজা পুরোটা বা অংশবিশেষ দখলও তারা সমর্থন করেন না। যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষের অবশ্যই তাদের নিজ ভিটামাটিতে ফেরার সুযোগ দিতে হবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ডিসেম্বরের প্রথম দিকে বলেছিলেন, গাজা অথবা পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের উত্খাত অথবা গাজার সীমা পুনর্নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই অনুমোদন করবে না। বাইডেন প্রশাসন যদি এই নীতিতে অনড় থাকে তবে তাদের ইসরায়েলকে এখনই বোঝানো উচিত।

১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েল বিশাল ফিলিস্তিনি এলাকা দখল করে। বর্তমান যুদ্ধের তীব্রতা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। পুরো গাজায় এখন বসবাসের মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। সবশেষ দক্ষিণ গাজার রাফায় আরেকটি ট্র্যাজিডি তৈরি হচ্ছে বলে মনে হয়। ইসরায়েল চাইছে মিশর তাদের আশ্রয় দিক, বিশেষ করে সিনাই উপত্যকায় তাদের নিয়ে থাকতে দেওয়া হোক। কিন্তু মিশর এ ব্যাপারে সাফ না বলে দিয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা যেন গাজায় তাদের ফেলে যাওয়া বাড়িঘরে ফিরতে পারে সেটা ইসরায়েলি সরকারকে নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এখনই বলা দরকার। বিশেষ করে উত্তর গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষ ফিরতে পারবে কি না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা রয়েছে। নাকবা শুধু ফিলিস্তিনিদের বসতভিটা থেকে উত্খাত করা নয় বরং তারা যেন হাতছাড়া হওয়া ভিটার ওপর দাবি তুলতে না পারে সেজন্য আইনি অস্ত্রও বটে। ১৯৫০ সালে ইসরায়েল অনুপস্থিত সম্পত্তি আইন প্রণয়ন করে বাস্তুচ্যুত লোকজনের ফেরার পথ আটকে দেয়। সেই থেকে ফিলিস্তিনিদের জন্য যে কোনো যুুদ্ধই স্থায়ী বাস্তুচ্যুতির খড়গ হয়ে ঝুলছে। যদিও ইসরায়েল কাগজে কলমে সম্প্রতি ট্রাস্টি করেছে কিন্তু সেটা কেবল অভিবাসী ইহুদিদের পুনর্বাসনের জন্যই। পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলোতে এক সময় শুরু হয় বসতি নির্মাণ। কিছুদিন আগে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ থেকে ফিলিস্তিনিদের উত্খাত বৈধতা দিতে ইসরায়েল ঐ প্রয়োগ করেছিল।

বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী যদিও-বা ফিরতে পারে তারপরও প্রশ্ন থেকে যাবে পুনর্গঠন কীভাবে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ। ইসরায়েলের ১৬ বছরের অবরোধ এড়িয়ে সেখানে নির্মাণসামগ্রী পৌঁছান প্রায় অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে বিপর্যয় ঠেকাতে কিছুই করেনি সেখানে আরেকটি নাকবা আটকাতে কী তারা ভূমিকা পালন করবে সেটাও একটি প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়।